দাঁড়াও কবিতা প্রশ্ন উত্তর | শক্তি চট্টোপাধ্যায়| Darao Question Answer

নিয়মিত প্রশ্ন উত্তরের আপডেট পাও নিজের মোবাইলে 👇

wb porashona.com whatsapp channel
darao-question-answer
শ্রেণি – অষ্টম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – দাঁড়াও (Darao )

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত দাঁড়াও কবিতা থেকে প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

১। কবি মানুষকে মানুষ হয়ে (ক) মৌমাছির (খ) পাখির (গ) প্রজাপতির (ঘ) হাতির মতো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন
উত্তর – কবি মানুষকে মানুষ হয়ে (খ) পাখির তো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন।

২। কবির মতে, মানুষ আজ বড়ো – (ক) নিঃসঙ্গ (খ) একাকী (গ) একলা (ঘ) নীরব
উত্তর – কবির মতে, মানুষ আজ বড়ো (গ) একলা।

৩। তোমাকে সেই সকাল থেকে (ক) বন্ধুর (খ) মানুষের (গ) নিজের (ঘ) তোমার মতো মনে পড়ছে
উত্তর – তোমাকে সেই সকাল থেকে (ঘ) তোমার মতো মনে পড়ছে।

৪। দাঁড়াও কবিতায় দাঁড়াও শব্দটি মোট – (ক) ৮ (খ) ৯ (গ) ১০ (ঘ) ১১ বার পাওয়া যায়
উত্তর – দাঁড়াও কবিতায় দাঁড়াও শব্দটি মোট (খ) ৯ বার পাওয়া যায় ।


আরো পড়ো → চন্দ্রগুপ্ত প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২/৩]

১। ‘মতো’ শব্দ ব্যবহার করা হয় কখন? যুক্তির পক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর – ‘মতো’ একটি তুলনামূলক অব্যয়। দুটি বস্তু, বিষয় বা জীবের মধ্যে তুলনা করার সময় ‘মতো’ অব্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এর দুটি উদাহরণ হল –
ক) গরু ঘোড়ার মতো জোরে দৌড়াতে পারে না।
খ) আষাঢ় মাসে শরৎ কালের মতো নীল আকাশ দেখা যায় না।

২। কবি পাথির মতো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন কেন?
উত্তর – পাখি মুক্তির প্রতীক। উন্মুক্ত আকাশে পাখি এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত ঘুরে বেড়ায়। কোন বাঁধা সে মানে না। এই সময়ে মানব সভ্যতা নানান দুঃখ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কবি মানুষকে মানুষের দুঃখে, মানুষের পাশে মুক্ত মনে দাঁড়াতে বলেছেন। এই বক্তব্য বোঝানোর জন্য কবি পাখির উপমা ব্যবহার করেছেন।


আরো পড়ো → চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ প্রশ্ন উত্তর

৩। ‘মানুষই ফাঁদ পাতছে’ – কবি এ কথা কেন বলেছেন? ‘মানুষ’ শব্দের সঙ্গে ‘ই’ ধ্বনি যোগ করেছেন কেন?
উত্তর – আমরা জানি যে মূলত প্রাণী শিকার ধরার জন্য ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। আজকের মানব সভ্যতায় কোন প্রাণী নয় মানুষের হিংসার শিকার হয় মানুষ নিজেই, তাই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ লেগেই আছে। প্রতিটি যুদ্ধে অত্যন্ত নৃশংসতার সাথে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে শিকার করছে। মানুষের এই নৃশংসতার জন্য যে মানুষই কেবলমাত্র দায়ী তা জোর দিয়ে বঝাবের জন্য কবি ‘ই’ ধ্বনি যোগ করেছেন।

৪। ‘তোমার মতো মনে পড়ছে’ – এই পঙক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ কি?
উত্তর – কবি এখানে ‘তোমার মতো’ বলতে প্রকৃত মানব স্বত্বাকে বোঝাতে চেয়ছেন। সেই আদিম সময় থেকে মানুষ একসাথে বাস করছে। নিজ সুখ, নিজ দুঃখ, নিজ আনন্দ একসাথে ভাগ করে নিচ্ছে। নিজ শ্রমের ফসল অন্যকে তুলে দিচ্ছে। একসাথে দল বেঁধে সব বিপদকে জয় করছে। সাহচর্য, সহমর্মিতা – এগুলিই মনুষ্য ধর্মের পরিচয়। কিন্তু আজ সেই মানুষ বড় অচেনা। কারণ বিশ্বজুড়ে মানুষই, মানুষের জন্য ফাঁদ পাতছে, এক মানুষই অন্য মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই কবির আজ সেই মনুষ্য ধর্মের কথা দিন – রাত মনে পড়ছে। যে মানুষ একলা – দীন – দুঃখী মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।


আরো পড়ো → কি করে বুঝবো প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

৫। ‘এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও’ – এই পঙক্তির বিশেষত্ব কি?
উত্তর – মানব দুঃখ দূর করার উপায় হিসাবে কবি বার বার মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছেন। মানুষ কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে তার হদিসও কবি কবিতার মাধ্যমে আমাদের দিয়েছেন। নদীতে যখন জলস্ফীতিহয়, তখন জলের তোড়ে সব ভেসে যায়। ঠিক তেমন ভাবেই আমাদের সব ক্ষুদ্র তকমার আগল ভেঙে দিয়ে, সব স্বার্থ সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সব মানুষকে ভালোবেসে – সব হিসাব কে সরিয়ে দিয়ে, শুধুমাত্র আমাদের মানুষ পরিচয়কে সামনে নিয়ে বৃহত্তর সমাজের অংশ হতে হবে। কারণ মনুষ্য জাতি আজ বড় অসহায় – একলা। আর আমাদের তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

৬। ‘মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাঁহার পাশে এসে দাঁড়াও।’ – এই উক্তির কারণ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। কিন্তু মানুষ আজ অসহায়, দুঃখী, একলা। অবাক করা ব্যাপার হল মানুষের এই যন্ত্রণার কারণ কিন্তু মানুষ নিজেই। স্বার্থপর, লোভ – সর্বস্ব মানুষ তার নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপর মানুষকে বিপদের সামনে নিয়ে আসছে। কবি বলেছেন, আমাদের প্রকৃত মনুষ্য ধর্ম পালন করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।


আরো পড়ো → ছন্নছাড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

৭। মানুষ বড়ো কাঁদছে – কি কারণে কবি এই কথা বলেছেন?
উত্তর – ‘দাঁড়াও’ কবিতার মাধ্যমে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় মানুষের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। মানব জাতি আজ বড় বিপদের সম্মুখীন। আমরা জানি, কান্না হল দুঃখের বহিঃপ্রকাশ। ‘মানুষ বড়ো কাঁদছে’ এই কথাটির মধ্য দিয়ে কবি সমগ্র জাতির দুঃখের কথা তুলে ধরেছেন।

৮। কবিতাটির নাম ‘দাঁড়াও’ কতটা সার্থক?
উত্তর – বর্তমান সভ্যতায় মানব যন্ত্রণার কথা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর দাঁড়াও কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছন। আমরা যখন শুয়ে থাকা বা বসে থাকা অবস্থা থেকে উঠে দাঁরাই তখন আমাদের জড়তা কেটে যায়। চলমান হওয়ার আগের অবস্থাই দাঁড়ানো, সেই অর্থে স্তবিরতা কাটিয়ে ওঠার আগের পর্যায় হল দাঁড়ানো। কবি দুঃখী, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। এই কাজে প্রয়োজন মানবতা, কারণ মানবতা বাদ দিলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। কবি চেয়েছেন স্থবিরতা ত্যাগ করে মানুষ তার প্রকৃত স্বত্বাকে পুনরায় চিনে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে। সমগ্র কবিতাতেই আবর্তিত হয়েছে এই দাঁড়াও শব্দটি, যার মাধ্যমে কবি আমাদের বার – বার মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাই বলা যায় যে এই কবিতার জন্য দাঁড়াও নামকরণ যথার্থ।

আরো পড়ো → অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

পড়া মনে রাখার সেরা উপায় 👇

WBP-to-the-point-banner-v1