আবহমান কবিতার প্রশ্ন উত্তর |Abohoman Poem Question Answer | WBBSE Class 9

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
abohoman-quesiton-answer
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – আবহমান (Abohoman )

নবম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রচিত আবহমান কবিতা থেকে থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। কবি ‘আবহমান’ কবিতায় পাঠককে দাঁড়াতে বলেছেন – ক) লাউমাচার পাশে খ) পুঁইমাচার পাশে গ) সন্ধ্যার বাতাসে ঘ) বাড়ির বারান্দায়
উত্তর- কবি ‘আবহমান’ কবিতায় পাঠককে দাঁড়াতে বলেছেন- ক) লাউমাচার পাশে ।

২। ‘কে এইখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড়’ – ক) গভীরতায় খ) অনুরাগে গ) ভালোবাসায় ঘ) ভরসায়
উত্তর- ‘কে এইখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড়’ – খ) অনুরাগে।

৩। নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না – ক) খাঁটি খ) পচা গ) অসাড় ঘ) বাসি
উত্তর- নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না – ঘ) বাসি ।

৪। এখনও সেই ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল – ক) নিবিড় অন্ধকারে খ) সন্ধ্যার বাতাসে গ) গভীর হাওয়ায় ঘ) স্বপ্নের তারায়
উত্তর- এখনও সেই ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল – খ) সন্ধ্যার বাতাসে।

৫।‘আবহমান’ কবিতাটির কবি – ক) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী খ) জীবনানন্দ দাশ গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর- ‘আবহমান’ কবিতাটির কবি – ক) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

৬। নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু – ক) ফুরয় না খ) জড়ায় না গ) মুড়য় না ঘ) বিকোয় না
উত্তর- নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু – গ) মুড়য় না

৭। “কে এইখানে এসেছিল ______ বছর আগে”, (ক) কয়েক (খ) দু-এক (গ) শতেক (ঘ) অনেক
উত্তর- “কে এইখানে এসেছিল (ঘ) অনেক বছর আগে”।

৮। ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ – (ক) উলঙ্গ রাজা (খ) কলকাতার যীশু (গ) অন্ধকার বারান্দা
উত্তর- ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ – (গ) অন্ধকার বারান্দা।

৯। “কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে…” – তারা ফিরে আসে – (ক) মানুষকে ভালোবেসে (খ) মাটিকে আর হাওয়াকে ভালোবেসে (গ) নদী আর আকাশকে ভালোবেসে (ঘ) তারা আর চাঁদকে ভালোবেসে
উত্তর- “কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে…” – তারা ফিরে আসে – (খ) মাটিকে আর হাওয়াকে ভালোবেসে।

১০। “নেভে না তার” – কী নেভে না? (ক) বেদনা (খ) দুঃখের আগুন (গ) যন্ত্রণা (ঘ) ঘরের প্রদীপ
উত্তর- “নেভে না তার” – কী নেভে না? (গ) যন্ত্রণা।


আরো পড়ো → জৈবনিক প্রক্রিয়া অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

১। ‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া’, – উঠানে গিয়ে দাঁড়ালে কী চোখে পড়বে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত আবহমান কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বাড়ির সামনে যে ফাঁকা জায়গা থাকে তাকেই উঠান বলে। গ্রামবাংলায় যে কুঠির নির্মাণ করা হয়, সেই বাড়ির সামনে অনেকটাই ফাঁকা জায়গা থাকে, তাকে উঠোন বলে। উঠোনে সামনেও বেশ খানিকটা জায়গা থাকলে, ছোটো ছোটো কিছু গাছ সেখানে লাগানো হয় অনেক সময় মাচা করেও সেখানে গাছ লাগাতে দেখা যায়। দাওয়ার পর এই উঠোন পরিষ্কার করে রাখা হয়। কবি বলছেন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে লাউ মাচা দেখতে পাওয়া যাবে। লাউ মাচায় ফুল হয়েছে। সন্ধ্যাবেলা নদীর উপর থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া ভেসে আসে। সেই হাওয়া নাড়া দিয়ে যায় এই লাউ ফুলগুলিকে এবং হাওয়ায় ফুলগুলি দুলতে থাকে। কবির বক্তব্য অনুযায়ী উঠোনে গিয়ে দাঁড়ালে লাউমাচা ও সান্ধ্যকালীন হাওয়াতে দোদল্যমান লাউফুলটিকে দেখতে পাওয়া যায়।

২। ‘কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে’, – ‘আবার ফিরে আসা’র প্রসঙ্গ উচ্চারিত হয়েছে কেন?

উত্তর- মানুষের ঘর বাঁধার স্বপ্ন চিরন্তন। বহু বছর আগে মানুষ যখন গোষ্ঠী বদ্ধভাবে বাঁচা শুরু করে তখন থেকেই সে ঘর বাঁধে অতন্ত্য ভালোবাসার সঙ্গে।

মানুষ প্রথম সমাজবদ্ধভাবে গ্রামবাংলার বুকে বসবাস শুরু করে। এই গ্রামবাংলার বুকে মানুষ কতবার ঘর বেঁধেছে ভালোবাসার সঙ্গে। সেখানে তার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে পরম মমতায়। অনেক সময় অনেক কারণে তাকে সেই ভালোবাসার ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে বহুদূরে। কিন্তু তার জায়গায় আবার অন্য কেউ এসে ঘর বেঁধেছে, জীবন শুরু করেছে। আবার কোনো কারণে কেউ যদি এই ভালোবাসার ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে সে এই ভিটের টানে আবারো ফিরে এসেছে। এই যাওয়া আসা বারংবার হতেই থাকে। তাই এখানে ‘আবার ফিরে আসার’ কথাটা ব্যবহার করা হয়েছে।

৩। ‘সারাটা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে’, – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত আবহমান কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

জন্মভিটে জন্মভূমি আকর্ষণর চিরন্তন। যদি কোনো ব্যাক্তি তার দেশকে ছেড়ে যায় তবুও সে বারবার সেই স্থানেি ফিরে আসতে চায়। কারণ সেই জায়গার সঙ্গে তার আত্মার যোগ। সেই স্থানের প্রতিটি ধুলিকণা, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ঘাস তার একান্ত প্রিয়। সব কিছুর মধ্যে মিশে আছে তার ভালোবাসা ভরা জন্মভূমির স্মৃতি। যা কখনো কোনোদিন ভোলা যায় না। মনে সবসময় তার প্রবল ইচ্ছা থাকে মাতৃভূমির বুকে ফিরে আসার জন্য। যখন সে এসে পৌঁছাতে পারে তার মাতৃভূমির কাছে তখন সে প্রকৃতির মধ্যে খুঁজে নিতে চায় তার পুরোনো সময়ের সৌগন্ধ। আপন মনে স্মৃতিচারনায় সে থাকে নিমগ্ন। ঘাস জন্মায় মাটির বুক থেকে। সেই মাটির সঙ্গে মানুষের নিবিড় যোগাযোগ। সেই মাটির মধ্যে সে নিজেকে খুঁজে পায়। তাই এখানে কবি বলেছেন সারাটাদিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে।

৪। ‘এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালোবাসে।’ – এই মাটি হাওয়াকে আবার ভালোবাসার কারণ কী?

উত্তর- জীবন সৃষ্টির শুরু থেকে মাটি ও হাওয়ার উপরেই নির্ভর করেই জীবন গড়ে উঠেছে। মাটি তার বাসস্থান, বাতাস তার শ্বাসবায়ু। বহু বহু বছর আগে মানুষ যখন প্রথম ঘর বাঁধতে শিখেছিল তখন সে কোনো এক ভূখণ্ডেরর উপরে তৈরি করেছিল তার থাকার আশ্রয়। কোনো কিছু দিয়ে বাসস্থান তৈরী করেছিল সে, খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাও করেছিল। তার পর কতযুগ চলে গেছে কিন্তু মানুষের ঘর বাধার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট আছে। যে জন্মভূমির মাটিতে সে বড় হয়ে উঠেছে, সেই মাটিতে ফিরে আসার তাঁর ইচ্ছা চিরন্তন। মানুষের এই চিরকালীন ঘর বাঁধার ইচ্ছা,ফেলে আসা ঘরের প্রতি তাঁর মমতা, জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণ তাঁর চিরন্তন। বারংবার এই মাটির টানে মানুষ ফিরে আসে, ভালোবেসে ঘর বাঁধে। বারংবার এই ঘর বাঁধার তাগিদ, জন্মভিটের টান, এইগুলো বোঝাতে কবি ‘আবার’ কথাটা ব্যবহার করেছেন।

৫। ‘ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা।’ – কোন্‌ পিপাসাকে, কেন দুরন্ত বলা হয়েছে?

উত্তর- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আবহমান’ কবিতা থেকে এই উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। পিপাসা কথার অর্থ হল তৃষ্ণা। তৃষ্ণার্ন্ত মানুষ তার পিপাসা নিবারণের জন্য জল পান করে। এই কবিতা অনুযায়ী পিপাসা বলতে বলা হয়েছে জন্মভূমির প্রতি টান যা মানুষের কাছে অমোঘ, যা মানুষ কখনো অস্বীকার করতে পারে না। জন্মভূমি প্রত্যেকেই তীব্র ভাবে আকর্ষিত করে।

গাছের শিকড় যেমন মাটির তলায় থাকে, কোনো ব্যাক্তি যেখানে বড় হয়ে ওঠে সেখানে তার শিকড় প্রোথিত হয়ে যায়। যদি কোনো কারণে জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে, তবুও সে বারবার তাঁর জন্মভিটেতে ফিরে আসতে চায়। কারণ সেই জন্মস্থানের মাটির সঙ্গে তার আত্মিক যোগাযোগ। তাই তাঁর এই পিপাসা দুরন্ত।


প্রশ্ন উত্তর আলোচনা দেখে নাও এই ভিডিও থেকে।↓


রচনাধর্মী উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। ‘আবহমান’ শব্দের অর্থ কী? কবিতায় ব্যক্ত ভাবের সঙ্গে এই নামকরণ কতদূর সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুমি মনে করো? (১+৪)

উত্তর- আবহমান কথাটার আক্ষরিক অর্থ হল যা অনন্ত কাল ধরে বহমান।এখানে চিরকালীন বা চিরন্তন অর্থ বোঝাতে আবহমান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

বহু বছর আগে মানুষের ঘর বাঁধা শুরু হয়েছে। মানুষ তাঁর কুটির নির্মিত করছে সযত্নে। বেঁচে থাকার জন্য সবজি ফলিয়েছে। বহমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু ‘নিবিড় অনুরাগে’ এই ঘর বাঁধার ইচ্ছা, জন্মভূমির মাটিকে, হাওয়াকে ভালোবাসার অদম্য ইচ্ছার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রিয় ভিটে, ভিটের সংলগ্ন ছোটো একটি লাউমাচা, যা কবি এখানে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাঁর টান সার্বজনীন। যদি কখনো কাউকে কোনো প্রয়োজনে নিজের জায়গা ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে হয়, তবুও চেনা ভিটের জন্য সবসময় তার মন অস্থির হয়ে থাকে। পরিচিত ‘ঘাসের গন্ধ’ মাখার জন্য মন ভরে থাকে ‘দূরন্ত পিপাসায়’। সময় এগিয়ে চলে প্রতিদিন সূর্য উঠে, প্রতিদিন অস্ত যায়, সন্ধ্যা নামে, সন্ধ্যার বাতাস নদীর উপর থেকে গ্রামের বুকে ছুটে আসে। অফুরণ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা চিরকালীন। বারবার, প্রতিদিন, অবিরাম একই ঘটনা ঘটে চলেছে। তবু এর কোনো শেষ নেই। ঠিক তেমনি মানুষের মনে ঘর বাঁধার আখাঙ্খাও চিরকালীন। এই ঘটনাগুলি আবহমান কাল ধরে লক্ষ্য করা যায়। তাই কবিতায় ব্যক্ত ভাবের সঙ্গে এই নামকরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করি।

২। তেমনই করেই সূর্য ওঠে, তেমনি করেই ছায়া/ নামলে আবার ছুটে সান্ধ্য নদীর হাওয়া।’ – বক্তব্যটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলোচ্য অংশে একাধিকবার ‘তেমনি’ ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করো। (২+৩)

উত্তর- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আবহমান’ কবিতা থেকে এই আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।

বহু বহু বছর আগে মানুষ তার জীবন শুরু করেছিল প্রকৃতির মাঝে। ভালোবাসা দিয়ে সে গড়ে তুলেছিল তার বসতি। সময় চলে গেছে দিন বদলেছে, কিন্তু মানুষের তার জন্মভিটের প্রতি আকর্ষণ আজও অমলিন। তাই বারবার সে জন্মভূমিতে ফিরে আসে। সময় বদলায়, হয়তো তার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষগুলোও বদলে যায়। কিন্তু মানুষের এই ঘর বাঁধার ইচ্ছে, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার ইচ্ছে, জন্মভিটের প্রতি টান- এগুলো বদলায় না। এগুলো অপরিবর্তনীয় থেকে যায়। কারণ এই টান চিরন্তন। একই ভাবে যুগ যুগ ধরে প্রকৃতিও কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। এই প্রসঙ্গে কবি এই কথা বলেছেন।

‘তেমনি’ ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা-

নিজের জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণের কথা বলার সময় কবি আরেক একটি কথাও বলেছেন- সময় বদলে গেলেও প্রকৃতি তার রূপ বদলায় নি। প্রত্যেকদিন আজও সকাল বেলা সূর্য ওঠে, আবার সন্ধ্যেবেলা অস্ত যায়। সূর্যের তাপ অস্তমিত হবার পরে তেমনি ভাবে নদীর হাওয়া বয়ে যায়। এই ঘটনা বারবার ঘটে, প্রতিদিন ঘটে, প্রতিনিয়ত ঘটে। সময় চলে যায়, বছর বাড়তে থাকে। নটে গাছটির বয়স বাড়ে, কিন্তু সেই ঘটনা হারিয়ে যায় না, বারেবারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। এটিই জীবনের বৈশিষ্ট্য, এটাই জীবনের মহিমা। এই চিরন্তন কথাটিকে বোঝানোর জন্যই কবি এই ‘তেমনি’ কথাটি ব্যবহার করেছেন। এইজন্য কবি বলেছেন তেমনই করেই সূর্য ওঠে অর্থাৎ যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল, প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল তখন যেমন ভাবে পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠত ঠিক তেমন ভাবে আজও সূর্য ওঠে। এই ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে ততদিন এই ঘটনা একইরকম ভাবে ঘটে চলবে। এই ঘটনা চিরন্তন। একই ভাবে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যের অস্ত যাওয়া অথবা সন্ধ্যাবেলা নদীর ওপার থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে আসার মতো ঘটনা গুলি বারংবার ঘটতে থাকবে। সেই কথা বোঝানোর জন্য কবি ‘তেমনি’ কথাটি ব্যবহার করেছেন।

৩। ‘নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না।’ – উদ্ধৃতাংশে নটেগাছের প্রসঙ্গ উত্থাপনে ‘আবহমান’ কবিতায় ‘রূপকথা’র আবেশ কীভাবে রচিত হয়েছে, বিশ্লেষণ করো। (৫)

উত্তর- রূপকথার গল্পে আমরা কোনো সুয়োরাণী ও দুয়োরাণী বা কোনো দৈত্যের দানবের কথা শুনতাম। সেই গল্পে দুষ্টু রাণী তার সৎ মেয়েকে কষ্ট দিত, দানব বা দৈত্য রাজ্যের প্রজাদের কষ্ট দিত। গল্পের শেষে দুষ্টু বুদ্ধির পরাজয় ঘটত, শুভ বুদ্ধির জয়লাভ ঘটত। যা কিছু ভালো তা চিরস্থায়ী হয়। যা কিছু অন্যায় তার বিনাশ ঘটে এবং গল্পের শেষে লেখা থাকত নটে গাছটি মুড়ালো আমার কথাটি ফুড়লো। গল্পের শেষে এর দ্বারা একটা সুখী পরিসমাপ্তি বোঝানো হত। নটে একবর্ষজীবি গাছ, এক বছর পরে নটে গাছটি শুকিয়ে যায়। কিন্তু এখানে কবিতায় কবি নটে গাছটিকে সময়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মানুষের ঘর গড়ে তোলার ইচ্ছা,এই ভিটের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ-এর কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সময় চলে যায়, যুগ পরিবর্তন হয়। কিন্তু দূরদুরান্তরে চলে গেলেও মানুষ চেষ্টা করে আবার তার ভিটেতে ফিরে আসতে। এই যে জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণ তা মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আবার অন্যদিকে বহুবছর বহুযুগ অতিক্রান্ত হলেও প্রকৃতির রূপ থাকে অমলিন। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের উদয়, আবার পশ্চিম দিগন্তে সূর্যের অস্ত যাওয়া, নদীর উপর থেকে শীতল হাওয়া বয়ে আসা, গ্রাম বাংলার বুকে কুটিরে অনতিদূরে লাউমাচা – সবই যেন অপরিবর্তনীয় থাকে। গ্রাম বাংলার এই শান্ত সমাহিত চিত্র বহু বছর পার করেও একই থেকে যায়।

তাই বহু সময় অতিবাহিত হলেও কবি ভাষায় নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, নটে গাছটা বুড়িয়ে উঠলেও কখনো ফুরয় না।

আরো পড়ো – নবম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায়ের প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner