ঊনবিংশ শতকের ইউরোপঃ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী সংঘাত প্রশ্ন উত্তর | Europe in the 19th century Question Answer | Class 9 History WBBSE

নিয়মিত প্রশ্ন উত্তরের আপডেট পাও নিজের মোবাইলে 👇

wb porashona.com whatsapp channel
unobingso-sotoker-europe
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – ঊনবিংশ শতকের ইউরোপঃ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী সংঘাত (Europe in the 19th century)

নবম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগ থেকে তৃতীয় অধ্যায় – ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ থেকে প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। 1861 খ্রিস্টাব্দে ‘মুক্তির ঘোষণাপত্রে’  ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদ হয়েছিল- ক) রাশিয়াতে খ) ফ্রান্সে গ) প্রাশিয়াতে ঘ) অস্ট্রিয়াতে
উত্তর – 1861 খ্রিস্টাব্দে ‘মুক্তির ঘোষণাপত্রে’ দ্বারা ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদ হয়েছিল- ক) রাশিয়াতে।

২। ভিয়েনা সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি ছিলেন- (ক) নেপোলিয়ন (খ) অষ্টাদশ লুই (গ) তালিরঁ (ঘ) দশম চার্লস
উত্তর- ভিয়েনা সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি ছিলেন – (গ) তালিরঁ।

৩। ন্যায্য অধিকার নীতির দ্বারা ফ্রান্সের সিংহাসনে বসানো হয় – (ক) পঞ্চদশ লুই (খ) ষোড়শ লুইকে (গ) সপ্তদশ লুইকে (ঘ) অষ্টাদশ লুইকে
উত্তর- ন্যায্য অধিকার নীতির দ্বারা ফ্রান্সের সিংহাসনে বসানো হয়-(ঘ) অষ্টাদশ লুইকে।

৪। শক্তিসাম্য নীতির দ্বারা কোন দেশের চতুর্দিকে বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়?
(ক) প্রাশিয়ার (খ) অস্ট্রিয়ার (গ) ফ্রান্সের (ঘ) রাশিয়ার

উত্তর- শক্তিসাম্য নীতির দ্বারা কোন দেশের চতুর্দিকে বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়- (গ) ফ্রান্সের।

৫। ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ বলা হয় – (ক) তুরস্ককে (খ) বলকান (গ) গ্রিসকে (ঘ) মিশরকে
উত্তর- ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ বলা হয়- (ক) তুরস্ককে।

৬। তুরস্কের মলডেভিয়া ও ওয়ালাকিয়া দখল করে নেয় – (ক) জার্মানি (খ) রাশিয়া (গ) ফ্রান্স (ঘ) ইটালি
উত্তর- তুরস্কের মলডেভিয়া ও ওয়ালাকিয়া দখল করে নেয়- (খ) রাশিয়া।

৭। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে তুরস্কের প্রতিপক্ষ ছিল – (ক) রাশিয়া (খ) ফ্রান্স (গ) পিডমন্ট (ঘ) ইংল্যান্ড
উত্তর- ক্রিমিয়ার যুদ্ধে তুরস্কের প্রতিপক্ষ ছিল- (ক) রাশিয়া।

৮। গ্রিসের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত গুপ্ত সমিতিটি ছিল – (ক) জোলভেরাইন (খ) ইয়ং ইটালি (গ) হেটাইরিয়া ফিলিকে (ঘ) কার্বোনারি
উত্তর- গ্রিসের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত গুপ্ত সমিতিটি ছিল-(গ) হেটাইরিয়া ফিলিকে।

৯। কোন চুক্তি ভঙ্গের অজুহাতে বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন? –
(ক) ভিল্লাফ্রাঙ্কার (খ) প্রাগের (গ) প্লোমবিয়ের্সের (ঘ) গ্যাস্টিনের

উত্তর- (ঘ) গ্যাস্টিনের চুক্তি ভঙ্গের অজুহাতে বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ।

১০। ম্যাৎসিনি প্রথম জীবনে কোন সংগঠনে যোগ দেন? – (ক) ফেডারিটি (খ) গুয়েলফি (গ) ইয়ং ইটালি (ঘ) কার্বোনারি
উত্তর- ম্যাৎসিনি প্রথম জীবনে (ঘ) কার্বোনারি সংগঠনে যোগ দেন।


সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন দেখে নাও এই ভিডিও থেকে


সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। ঢীকা লেখো – ইয়ং ইটালি
উত্তর – ইতালির স্বাধীনতার জন্য দেশবাসির মনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা সঞ্চারের উদ্দেশ্যে ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে জোসেফ ম্যাৎসিনি ইয়ং ইতালি নামক একটি গুপ্ত সংগঠন গড়ে তোলেন। অন্যন্য গুপ্ত সংগঠনের মতো ইয়ং ইতালি কোন নাশকতাবাদী সংগঠন ছিল না। ইয়ং ইতালির সভ্যরা ইতালিতে শিক্ষা, প্রচার, আত্মত্যাগ ইত্যাদি মাহাত্য প্রচারের মাধ্যমে সমগ্র দেশে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সঞ্চার করতেন।

২। ঢীকা লেখো- জোলভেরাইন
উত্তর – ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জোলভেরাইন নামক একটি শুল্কসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। জোলভেরাইন প্রতিষ্ঠিত হবার আগে, বিভিন্ন জার্মান রাজ্যগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন আমদানি এবং রপ্তানি শুল্ক প্রচলিত ছিল, এর ফলে জার্মানিতে বাণিজ্যিক প্রতিকুলতা দেখা দিত। জোলভেরাইন শুল্কসংঘে যোগ দেবার ফলে রাজ্যগুলি বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হয়। এর পাশাপাশি জোলভেরাইনের রাজনৈতিক গুরুত্বও ছিল অপরিসীম, এই সংঘে যোগদানের ফলে জার্মানির রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় ফলে তাদের মধ্যে ঐক্য বৃদ্ধি পায়।

৩। রিসর্জিমেন্টো কী?
উত্তর – রিসর্জিমেন্টো কথার অর্থ পুনঃজাগরণ। ফরাসী বিপ্লবের পর ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ছড়িয়ে পড়ে, অন্যান্য দেশের মতো প্রতিক্রিয়াশীল রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইতালিতেও প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এই সময় একদল কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক এবং বুদ্ধিজীবীর আবির্ভাব হয়, এরা দেশবাসীর সামনে ইতালির গৌরবের কথা তুলে ধরে, সাধারণ মানুষের মনে জাতীয়তাবাদী ভাবনার সঞ্চার করে।

৪। ‘মেটারনিখের যুগ’ বলতে কী বোঝ?
উত্তর – ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ অবধি অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মেটারনিক। এই সময়ে ইউরোপের রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রক ছিলেন মেটারনিক, তৈঁ এই সময়কালকে মেটারনিকের যুগ বলা হয়।

৫। ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর – ভিয়েনা সন্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল –
– ইউরোপের রাজনৈতিক পুনঃগঠন
– ইউরোপেরর সকল দেশগুলিতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা
– নেপোলিয়নের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা করা
– ফ্রান্সের শক্তি হ্রাস করা।


৬। ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান ক-টি নীতি ছিল ও কী কী?
উত্তর – ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান নীতি ছিল তিনটি। সেগুলি হল –
– ন্যায্য অধিকার নীতি
– ক্ষতিপূরণ নীতি
– শক্তিসাম্য নীতি

৭। জুলাই বিপ্লবের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর – জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দুটি কারণ হল –
– স্বৈরাচারী রাজা দশম চার্লস ফ্রান্সে আবার পুরাতনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়েছিলেন, তিনি পুনরায় অভিজাততন্ত্র এবং গির্জার প্রাধান্য স্থাপনের চেষ্টা করেন। তার এই পদক্ষেপ জনগণকে ক্ষিপ্ত করে।
– তাঁর সময়কালে চারটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়, এগুলি জনগণের নাগরিক অধিকারের হস্তক্ষেপ করে।

৮। লুই ফিলিপের রাজতন্ত্রকে কেন ‘জুলাই রাজতন্ত্র’ বলা হয়?
উত্তর – ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজবংশের রাজা দশম চার্লসের পতন ঘটে এবং অর্লিয়ান্স বংশের লুই ফিলিপ রাজা নির্বাচিত হন। যেহেতু জুলাই বিপ্লবের ফলে লুই ফিলিপ রাজা হয়েছিলেন, তাই তাঁর রাজত্বকালকে ‘জুলাই রাজতন্ত্র’ বলা হয়।

৯। রাশিয়ার ভূমিদাসের মুক্তির ঘোষণাপত্রে কী বলা হয়?
উত্তর – রাশিয়ার ভূমিদাসের মুক্তির ঘোষণাপত্রে বলা হয় –
– সকল ভূমিদাসদের স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া হবে।
– মুক্ত ভুমিদাসরা তাদের পূর্বতন প্রভুর জমির অর্ধ অংশ পাবে।

১০। কাউন্ট ক্যাভুর কে ছিলেন?
উত্তর – কাউন্ট ক্যাভুর ইতালির অন্যতম রাজ্য পিডমন্ড এবং সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইতালির ঐক্য আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পায়।


আরো পড়ো → ইতিহাস দ্বিতীয় পর্ব প্রশ্ন উত্তর

দীর্ঘ উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৪]

১। ‘এমস্‌ টেলিগ্রাম’ কী?
উত্তর – প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিশমার্ক জার্মানির ঐক্যসাধনের জন্য তিনটি মুখ্য যুদ্ধ করেছিলেন; তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্রান্স এবং প্রাশিয়ার যুদ্ধ।

1870 খ্রিষ্টাব্দের 13 জুলাই এমস নামক একটি জায়গায়, প্রাশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়ামের কাছে ফরাসী দূত কাউন্ট বেনিদিতি সাক্ষাৎ করেন এবং প্রতিশ্রুতি চান যে ভবিষ্যতে হোহেনজোলার্ন রাজবংশের কেউ স্পেনের সিংহাসনে দাবী করবেন না। প্রথম উইলিয়াম রাজদূতকে কোনরূপ কথা না দিয়ে, সমগ্র বিষয়টি টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশমার্ক-কে জানান। এর ফলে প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, কুটনীতিবিদ বিসমার্কের সামনে অযাচিত ভাবে একটি সুযোগ আসে। বিশমার্ক ঐ টেলিগ্রামের কিছু অংশ বাদ দিয়ে তা সংবাদপত্রে প্রকাশ করেন। সংবাদটি এমনভাবে প্রকাশিত হয় যে ফরাসীরা মনে করেন যে ফরাসী রাজদূতকে প্রাশিয়ার রাজা অপমান করেছেন। এই বিষয়টি ফ্রান্সে প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং অবশেষে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়, ইতিহাসে এই ঘটনা ‘এমস টেলিগ্রাম’ নামে খ্যাত।

২। ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫ খ্রি) সমস্যাগুলি কী ছিল?
উত্তর – নেপোলিয়ন তাঁর সময়কালে ইউরোপকে পুনঃগঠন করেছিলেন এবং অধিকাংশ স্থানে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র স্থাপন করেন। নেপোলিয়নের পতনের পরে, ইউরোপের মূল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি তৎকালীন সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য ভিয়েনায় সম্মেলিত হয়। তাঁদের সামনে যে সমস্যাগুলি ছিল, সেগুলি হল –
– ইউরোপের পুনঃগঠন -নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে ইউরোপের রাজনৈতিক সীমার ব্যাপক পরিবর্তন গঠন। নেপোলিয়নের পতনের পরে, অন্যান্য রাষ্ট্রনায়করা আবার পুরানো রাজনৈতিক কাঠামো ফিরে পেতে চেয়েছিলেন।
– রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা – নেপোলিয়ন যেসকল রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করেছিলেন, তারা আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলেন।
– ক্ষতিপূরণ – নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে বিপক্ষ জোট ব্যপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ভিয়েনা সম্মেলনে বিপক্ষ জোট তাদের ক্ষতি পুনঃরুদ্ধার করতে চেয়েছিল।
– শক্তিসাম্য – ভবিষ্যতে যাতে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলির মধ্যে আর কোন বিবাদ না হয়ে তার জন্য শক্তিসাম্য বজায় রাখা।

৩। ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত শক্তিসাম্য নীতির বিভিন্ন পদক্ষেপগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর – ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত নীতিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল শক্তিসাম্য নীতি। এর মূল্য উদ্দেশ্য ইউরোপের দেশগুলি যাতে অন্য দেশগুলির তুলনায় শক্তিশালী না হয়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত করা হলেও, এর মূল লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সের আর্থিক এবং সামরিক শক্তিক্ষয়। এই নীতির গৃহীত পদক্ষেপগুলি ছিল –
– ফ্রান্সকে বিপ্লব পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সিমানায় ফিরিয়ে দেওয়া। ফ্রান্সের উত্তর পূর্ব সীমান্তে লাক্সেমবার্গ এবং বেলজিয়ামকে হল্যান্ডের সাথে যুক্ত করা হয়। পূর্বে রাইন-এর জেলাগুলিকে প্রাশিয়ার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। দক্ষিণে স্যাভয় এবং জেনোয়াকে পিডমণ্ডের সাথে যুক্ত করা হয়
– ফ্রাসের সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়া।
– ফ্রান্সে পাঁচ বছরের জন্য মিত্রশক্তির বাহিনী মোতায়েন করা হয়, এবং এই বাহিনীর ব্যয়ভার ফ্রান্সের উপর চাপানো হয়।
– ফ্রান্সের উপর প্রায় ৭০ কোটি ফ্রাংকের ক্ষতিপুরনের বোঝা চাপানো হয়।

৪। ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের (১৮৪৮ খ্রি) কারণগুলি কী ছিল?
উত্তর – ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে লুই ফিলিপের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয় এবং ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লবের মূল কারণগুলি ছিল।
– বুর্জোয়াদের আধিপত্য – লুই ফিলিপের শাসনকালে ফ্রান্সে বুর্জোয়াদের অর্থাৎ ব্যবসায়ী শ্রেণির আধিপত্য বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষক এবং শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়।
– জনসমর্থের অভাব – লুই ফিলিপকে জুলাই বিপ্লবের পরে, জোর করে সিংহাসনে বসানো হয়। এর ফলে তাঁর সেভাবে জনভিত্তি ছিল না। অপরদিকে নেপোলিয়নের অনুগামী দল, চার্চ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাঁর সমর্থক ছিল না।
– আর্থিক দুরাবস্থা – খরা, বাণিজ্যে মন্দা, বেকার সমস্যা প্রভৃতি সমস্যার সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়।
– শ্রমিক বিক্ষোভ – অধিক সময় খাটানো, সঠিক বেতন না দেওয়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ইত্যাদি সমস্যার ফলে দেশের শ্রমিকশ্রেণি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

৫। জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিশমার্ক কি কি নীতি গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর – ঐক্যবদ্ধ জার্মানির অন্যতম কারিগর ছিলেন প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অটো ফন বিশমার্ক। তিনি প্রাসিয়া রাজ প্রথম উইলিয়ামের সময় থেকে প্রায় 28 বছর প্রধানমন্ত্রী পদে ক্ষমতাসীন ছিলেন।

তিনি প্রাশিয়ার আইন পরিষদে ঘোষণা করেছিলেন যে – বক্তৃতা বা ভোটের দ্বারা নয়, রক্ত ও লৌহ নীতির দ্বারাই জটিল সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব। তিনি জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করতে যে সকল নীতিগুলি নিয়েছিলেন, সেগুলি হল –

রাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা – ইউরোপের রাজতন্ত্র বিরোধী আবহাওয়াতেও বিশমার্ক রাজতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন। তিনি মনে করতেন, প্রাশিয়ার রাজতন্ত্রের অধীনে সমগ্র জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব।

রক্ত ও লৌহ নীতি – রক্ত ও লৌহ নীতি বলতে কুটিল কূটনীতিকে বোঝানো হয়। বিশমার্ক গণতান্ত্রিক নীতির উপর নয় বরং কুটনীতির উপর নির্ভরশীল ছিলেন।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি – বিশমার্ক সামরিক শক্তির বিস্তার এবং বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি মনে  করতেন, একমাত্র সামরিক শক্তির জোরেই জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি তিনটি প্রধান যুদ্ধের মাধ্যমে জার্মানির ঐক্যে ভূমিকা রেখেছিলেন।

  • ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধ (1864)
  • অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ (1866)
  • ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধ (1871)

৬।  টিকা লেখ –  মেটারনিখ ব্যবস্থা।
উত্তর – অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স ক্লেমেন্স মেটারনিখ তাঁর সমসাময়িক রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র। 1815 থেকে 1848 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মেটারনিখ ইউরোপের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর এই সময়কালকে ঐতিহাসিক ফিসার ‘মেটারনিখের যুগ’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

মেটারনিখের প্রধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

  • ইউরোপে ফরাসী বিপ্লব পূর্ববর্তী অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
  • উদারতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ভাবধারা রোধকরে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।
  • ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য বৃদ্ধি করা।

মেটারনিখ তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ইউরোপে যে দমনমূলক নীতি চালু করেছিলেন তা ‘মেটারনিখ ব্যবস্থা’ বা ‘মেটারনিখ সিস্টেম’ নামে পরিচিতি পায়।

মেটারনিখ ব্যবস্থার প্রয়োগ

  • মেটারনিখ বাক্‌স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করেন, সভাসমিতি নিষিদ্ধ করেন।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিপ্লবী ভাবধারার প্রচার রোধের উদ্দেশ্যে ছাত্র – শিক্ষকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করেন; জার্মানিতে কার্লসবার্ড ডিক্রির মত কঠোর নির্দেশ জারি করেন।
  • দেশের কোন অংশে বিপ্লবী বা রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে; মেটারনিখ তা কঠোর হাতে দমন করেন।

মেটারনিখ ব্যবস্থার পতন

  • মেটারনিখ তাঁর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা স্বত্বেও জাতীয়তাবাদের উত্থানকে রোধ করতে পারেননি।
  • 1824 খ্রিস্টাব্দের গ্রিসের স্বাধীনতা আন্দোলন, 1830 খ্রিস্টাব্দের ফ্রান্সের জুলাই বিপ্লব, 1932 খ্রিস্টাব্দের বেলজিয়ামের স্বাধীনতা আন্দোলনের ফলে দেশে তাঁর বিরুদ্ধ জনমত গড়ে ওঠে।
  • 1848 খ্রিষ্টাব্দে প্রবল জাতীয়তাবাদী অভ্যুথানের সম্মুখীন হয়ে মেটারনিখ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ইউরপে মেটারনিখ যুগ সমাপ্ত হয়।

আরো পড়ো → চিঠি প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

পড়া মনে রাখার সেরা উপায় 👇

wb-porashona-to-the-point-ebook