হিমালয় দর্শন প্রশ্ন উত্তর | Himalaya Darshan Question Answer | WBBSE Class 9

মাধ্যমিকে প্রতিটি অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার সেরা উপায় ↓

WBP-CT-Banner_offer
himalaya-darshan-class-9-question-answer
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – হিমালয় দর্শন (Himalaya Darshan)

নবম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে হিমালয় দর্শন গদ্য থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। হিমালয় রেল রোড যেখান থেকে শুরু হয়েছে- (ক) দার্জিলিং (খ) শিলিগুড়ি (গ) কার্সিয়াং (ঘ) কালিম্পং
উত্তর- হিমালয় রেল রোড যেখান থেকে শুরু হয়েছে- (খ) শিলিগুড়ি।

২। “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।” – লেখিকার কাছে যার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত, সেটি হল- (ক) হিমালয় রেল রোড (খ) চায়ের ক্ষেত্র (গ) পাহাড়চূড়া (ঘ) জলপ্রপাত
উত্তর- “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।” – লেখিকার কাছে যার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত, সেটি হল- (ঘ) জলপ্রপাত।

৩. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং স্টেশনের উচ্চতা- (ক) ৪৫০০ ফিট (খ) ৪৮৬৪ ফিট (গ) ৫৮৬৪ ফিট (ঘ) ২৮৬৪ ফিট
উত্তর- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং স্টেশনের উচ্চতা-(খ) ৪৮৬৪ ফিট।

৪। “স্টেশন হইতে আমাদের বাসা অধিক দূর নহে”- যে স্টেশনের কথা বলা হয়েছে- (ক) শিলিগুড়ি (খ) দার্জিলিং (গ) ঘুম (ঘ) কার্সিয়াং
উত্তর- “স্টেশন হইতে আমাদের বাসা অধিক দূর নহে”- যে স্টেশনের কথা বলা হয়েছে-(ঘ) কার্সিয়াং।

৫। ঢেঁকিশাকের কথা যে পত্রিকায় লেখিকা পড়েছিলেন তার নাম হল- (ক) মহিলা (খ) হিতবাদী (গ) সাধনা (ঘ) ভারতবর্ষ
উত্তর- ঢেঁকিশাকের কথা যে পত্রিকায় লেখিকা পড়েছিলেন তার নাম হল- (ক) মহিলা।

৬। বড়ো বড়ো ঢেঁকিতরুর কথা কোন গ্রন্থে পড়েছিলেন লেখিকা? (ক) ভূতত্ত্ব (খ) মহিলা কাব্য (গ) পার্বত্য বিলাস (ঘ) হিমালয় ভ্রমণ
উত্তর- বড়ো বড়ো ঢেঁকিতরুর কথা (ক) ভূতত্ত্ব গ্রন্থে পড়েছিলেন লেখিকা।

৭। ঢেঁকি তরুর উচ্চতা- (ক) ১৫-২০ ফুট (খ) ২০-২৫ ফুট (গ) ১০-১৫ ফুট (ঘ) ২৫-৩০ ফুট
উত্তর- ঢেঁকি তরুর উচ্চতা- (খ) ২০-২৫ ফুট।

৮। এদেশের স্ত্রীলোকেরা কী দেখলে ভয় পায় না? (ক) জোঁক (খ) সাপ (গ) বাঘ (ঘ) ভালুক
উত্তর- এদেশের স্ত্রীলোকেরা (ক) জোঁক দেখলে ভয় পায় না।

৯। লেখিকার ভূটিয়া চাকরানি নাম ছিল – (ক) মালু (খ) বালু (গ) ডালু (ঘ) ভালু
উত্তর- লেখিকার ভূটিয়া চাকরানি নাম ছিল –(ঘ) ভালু।

১০। ভূটিয়ানিরা কত গজ লম্বা কাপড় ঘাঘরার মতো করে পরত? (ক) চার গজ (খ) পাঁচ গজ (গ) ছয় গজ (ঘ) সাত গজ
উত্তর- ভূটিয়ানিরা (ঘ) সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাঘরার মতো করে পরত।


হিমালয় দর্শন গদ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা ↓


১১। “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল”- যে সাধের কথা বলা হয়েছে- (ক) পাহাড় দেখার সাধ (খ) সমুদ্র দেখার সাধ (গ) নির্ঝর দেখার সাধ (ঘ) অরণ্য দেখার সাধ
উত্তর- “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল”- যে সাধের কথা বলা হয়েছে- (ক) পাহাড় দেখার সাধ।

১২। কার্সিয়াং এ পানীয় জলের একমাত্র উৎস- (ক) নদী (খ) পৌরসভার জল (গ) নির্ঝরের জল (ঘ) কুপের জল
উত্তর- কার্সিয়াং এ পানীয় জলের একমাত্র উৎস- (গ) নির্ঝরের জল

১৩। “এখানে এখন শীতের বৃদ্ধি হয় নাই, গ্রীষ্মও নাই।” – লেখিকা পর্বতের এই সময়কালকে বলেছেন – (ক) গ্রীষ্মকাল (খ) বসন্তকাল (গ) শরৎকাল (ঘ) শীতকাল
উত্তর- “এখানে এখন শীতের বৃদ্ধি হয় নাই, গ্রীষ্মও নাই।” – (খ) বসন্তকাল

১৪। কোন খেলা দেখতে লেখিকার চমৎকার লেগেছিল? (ক) বায়ু ও মেঘের লুকোচুরি খেলা (খ) সুর্যের আলো ও মেঘের লুকোচুরি খেলা (গ) চা বাগানে রোদের লুকোচুরি খেলা (ঘ) বৃষ্টি ও রোদের আসা – যাওয়া খেলা
উত্তর- (ক) বায়ু ও মেঘের লুকোচুরি খেলা খেলা দেখতে লেখিকার চমৎকার লেগেছিল।

১৫। ‘হিমালয় দর্শন’ নামক রচনাংশে লেখিকার আসবাব সরঞ্জাম ভুল করে যে ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল – (ক) ঘুম (খ) দার্জিলিং (গ) কার্সিয়াং (ঘ) শিলিগুড়ি
উত্তর- ‘হিমালয় দর্শন’ নামক রচনাংশে লেখিকার আসবাব সরঞ্জাম ভুল করে যে ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল –(খ) দার্জিলিং।


আরো পড়ো → নবম শ্রেণির ইতিহাস পঞ্চম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

একটি বাক্যে উত্তর দাও (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। হিমালয় রেল রোড কোথা থেকে আরম্ভ হয়েছে?
উত্তর – শিলিগুড়ি থেকে হিমালয় রেল রোড আরম্ভ হয়েছে।

২। “পথের দুইধারে মনোরম দৃশ্য” – মনোরম দৃশ্যটি কী?
উত্তর – পথের দুইধারে মনোরম দৃশ্য বলতে রেলপথের দুইপাশে উচ্চ চুড়া বা নিবির অরণ্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে।

৩। “মেঘের ভিতর দিয়া চলিয়াছি।” কখন লেখিকা মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন?
উত্তর – শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং রেলপথে যাবার সময় লেখিকার মনে হয়েছিল যে তিনি মেঘের মধ্যে দিয়ে চলেছেন।

৪। “সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে।” – কী দেখে নদী বলে ভুল হয়?
উত্তর – নীচের উপত্যকায় শ্বেত কুজ্ঝটিকা বা কুয়াশা দেখে লেখিকার নদী বলে ভুল হয়েছিল।

৫। “ধরণীর সীমন্তের ন্যায় দেখায়!”- কাকে ধরণির সীমন্তের মতো দেখায়?
উত্তর – নীচের উপত্যকায় মানুষের অথ চলার আঁকা বাঁকা পথ ধরণীর সীমন্তের মতো মনে হয়।

৬। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং এর উচ্চতা কত?
উত্তর – সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং এর উচ্চতা চার হাজার ফিট।

৭। “গৃহসুখ অনুভব করিতে পারি নাই।” – লেখিকা বাসায় এসেও গৃহসুখ অনুভব ক্রতে পারছিলেন না কেন?
উত্তর – লেখিকা এবং তাঁর সঙ্গীদের মালপত্র ও আসবাবপত্র ভুল ঠিকানায় পৌঁছে যাবার জন্য, কারসিয়াং পৌঁছেও তারা গৃহসুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

৮। কার্সিয়াং এর জলবায়ু কেমন?
উত্তর – কার্সিয়াং এর জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ, লেখিকা একে পার্বত্য বসন্তকাল বলে অভিহিত করেছেন।

৯। লেখিকা কোথায় ঢেঁকিশাকের কথা পড়েছিলেন?
উত্তর – লেখিকা ‘মহিলা’ পত্রিকায় ঢেঁকিশাকের কথা পড়েছিলেন।

১০। ঢেঁকিতরুর উচ্চতা কত?
উত্তর – ঢেঁকিতরুর উচ্চতা ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু।

১১। লেখিকাদের ভূটিয়া চাকরানির নাম কী?
উত্তর – লেখিকাদের ভুটিয়া চাকরানীর নাম ছিল ভুলু।

১২। ভূটিয়ানিদের ঘাঘরার বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর – ভুটিয়ানিরা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে, তাদের কোমরে একখণ্ড কাপড় জড়ানো থাকে, গায়ে জ্যাকেট এবং বিলিতি শালে মাথা ঢাকা থাকে।

১৩। ‘মহিলা’ প্ত্রিকার সম্পাদক মেয়েদের সম্পর্কে একবার কী লিখেছিলেন?
উত্তর – ‘মহিলা’ পত্রিকার সম্পাদক একবার মহিলাদের সম্পর্কে লিখেছিলেন – ‘রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাহাদের নাম অবলা’।

১৪। “পুরুষেরা বেশি বোঝা বহন করে না।” – কোন পুরুষদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর – এখানে ভুটিয়া পুরুষদের কথা বলা হয়েছে।

১৫। “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল।” – কোন সাধ পূর্ণ হল?
উত্তর – লেখিকার পর্বত চাক্ষুস দেখার ইচ্ছা বা সাধ ছিল, হিমালয় ভ্রমণে এসে তাঁর সেই সাধ পূর্ণ হয়েছিল।


আরো পড়ো → রাধারানী গল্পের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১| হিমালয়ের নারী সমাজের প্রতি লেখিকার মনোভাব পাঠ্যাংশে যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিচয় দাও।
উত্তর – ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশের লেখিকা বেগম রোকেয়া বাংলার একজন অগ্রগণ্য নারী সংস্কারক। আলোচ্য গদ্যাংশে লেখিকা পাহাড়ি শহরে বেড়াতে এসেছেন। এখানে এসে তিনি পরিচিত হয়েছেন ‘ভুটিয়া চাকরানী’ ভালুর সাথে। এই কষ্টসহিষ্ণু ভুটিয়া মহিলার প্রসঙ্গে লেখিকা হিমালয়ের নারী সমাজের কথা উত্থাপন করেছেন।

তিনি সমতলের পুরুষদের প্রশ্ন করেছেন যে যারা সমতলের নারীদের অবলা বলে মনে করেন তার কি পাহাড়ি মহিলাদেরও অবলা বলবেন? কারণ, পাহাড়ি নারীরা উদরান্নের জন্য পুরুষদের মুখাপেক্ষি নয়, যারা পুরুষদের অধিক পাথর বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম, নারীরা পুরুদের সমান উপার্জনে সক্ষম। লেখিকার ভাষায় হিমালয়ের নারী সমাজ ‘শ্রমশীলা, সাহসি ও সত্যবাদী’।

২| “পরদিন হইতে আমরা সম্পূর্ণ গৃহসুখে আছি।” – কি প্রসঙ্গে এই উক্তিটি করা হয়েছে?
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত হিমালয় দর্শন গদ্যাংশের অন্তর্গত। এই গদ্যাংশে লেখিকা জানিয়েছেন যে তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সমতল থেকে পাহাড়ি শহর কারসিয়ং-এ পৌঁছেছেন।
কারসিয়ং রেলস্টেশনের অনতি দূরে তাদের বাসস্থানে পৌঁছে, লেখিকা আবিষ্কার করেন যে তাদের জরুরী জিনিষপত্র ভুলবশত দার্জিলিং চলে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সম্বলিত ট্র্যাঙ্কগুলি সন্ধ্যেবেলা লেখিকাদের বাসভবনে পৌঁছায়। তাই প্রথমদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের অভাবে গৃহসুখ থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত থাকেলও, পরদিন থেকে তারা গৃহের সম্পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করেছিলেন।

৩| “যে কারণেই ট্রেন থামুক- আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল।” কোথায় কোন্‌ ট্রেন, কী কারণে থেমেছিল? বক্তা ও তার সঙ্গীদের মনোরথ কীভাবে পূর্ণ হল?
উত্তর – উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত হিমালয় দর্শন গদ্যাংশের অন্তর্গত। আলোচ্য গদ্যাংশে লেখিকা এবং তাঁর সঙ্গীরা হিমালয়ান রেলগাড়িতে শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাচ্ছিলেন।

পথে ট্রেন একটি পাহাড়ি ঝর্নার সামনে সাময়িক বিরতি নেয়। লেখিকারা ভাবেন যে তারা যাতে ভালোভাবে ঝর্নার শোভা উপভোগ করতে পারেন তাই হয়তো ট্রেন থেমেছে। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারেন যে ট্রেন জল পরিবর্তন করার জন্য বিরতি নিয়েছিল। তবে যে কারনেই ট্রেন থামুক, লেখিকারা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করেছিলেন।

৪| ‘ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।’ – কোন সৌন্দর্যকে লেখিকা ‘বর্ণনাতীত’ বলেছেন?
উত্তর – আলচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশের অন্তর্গত। লেখিকা পাহাড়ি রেলপথে কারসিয়াং চলেছেন। পথে অনেকগুলি জলপ্রপাত দেখতে পান লেখিকা। ভীষণবেগে নেমে আসা জলধারা পৃথিবীর বুক ভিজিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছে; এই ভেবে লেখিকা আশ্চর্য হন। লেখিকা এই জলপ্রপাত সৌন্দর্যকে বর্ণনাতীত বলেছেন।

‘সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।’ – কোন্‌ জুলুম থেকে লেখিকা রক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর – লেখিকা বেগম রোকেয়া এখানে জুলুম বলতে গরমের কষ্টের কথা বলেছেন। লেখিকা তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশে তাঁর হিমালয় ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি সমতলের বাসিন্দা, তিনি সমতল থেকে যখন চার হাজার ফিট উচ্চতায় পৌঁছালেন তখন তিনি প্রবল শৈত্য অনুভব না করলেও, পাহাড়ি মনোরম আবহাওয়ায় সমতলের তীব্র গরমের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। লেখিকা একেই জুলুমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া বলেছেন।


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner