অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর |Asukhi Ekjon Question Answer|MCQ + VSAQ + SAQ + LA

asukhi ekjon kobitar prosno uttor
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – অসুখী একজন (Asukhi Ekjon)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির বাংলা বিভাগের অসুখী এখজন কবিতা থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘তারপর যুদ্ধ এল’ –
(ক) পাহাড়ের আগুনের মতো (খ) রক্তের সমুদ্রের মতো (গ) আগ্নেয় পাহাড়ের মতো (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো
উত্তর – তারপর যুদ্ধ এল (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো।

২। ‘যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল’ – কি ছড়িয়ে রইল?
(ক) পায়ের দাগ (খ) কাঠকয়লা (গ) গোলাপি গাছ (ঘ) প্রাচীন জলতরঙ্গ [মাধ্যমিক ২০১৯]
উত্তর – ‘যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল (খ) কাঠকয়লা।

৩। ‘তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারল না’ – কারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না?
(ক) সেই মেয়েটি (খ) গির্জার নান (গ) কবিতার কথক (ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা [মাধ্যমিক’২০২০]
উত্তর – (ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারল না।

৪। ‘ডুবে ছিল ধ্যানে’ – কত দিনের ধ্যানে ডুবে ছিল?
(ক) একযুগ (খ) শতবর্ষ (গ) হাজার বছর (ঘ) যুগের পর যুগ ধরে
উত্তর – (গ) হাজার বছর ধরে ‘ডুবে ছিল ধ্যানে’।

৫। দেবতাদের চিহ্নিত করতে কি বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে?
(ক) শান্ত সবুজ (খ) শান্ত হলুদ (গ) শান্ত করুন (ঘ) শান্ত সাদা
উত্তর – দেবতাদের (খ) শান্ত হলুদ বলা হয়েছে।

৬। বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ / ঘাস জন্মালো –
(ক) মাঠে (খ) রাস্তায় (গ) উঠোনে (ঘ) গ্রামে
উত্তর – ঘাস জন্মালো (খ) রাস্তায়।

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর ↓

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’ – ‘শিশু আর বাড়িরা’ খুন হয়েছেন কেন? [মাধ্যমিক’১৭]
উত্তর – যুদ্ধের করালগ্রাসে শিশু আর বাড়িরা ধ্বংস বা খুন হয়েছে।

২। ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন? [মাধ্যমিক’২০]
উত্তর – ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির বাংলা তরজমা করেছেন শ্রী নবারুণ ভট্টাচার্য।

৩। ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ – এ চিত্রকল্পের দ্বারা কবি কি বোঝেতে চেয়েছেন?
উত্তর – ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ বলতে কবি অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।

৪। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’ – ‘বাড়িরা’ কিভাবে খুন হলো?
উত্তর – এখানে ‘খুন’ বলতে ধ্বংসের বলা হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় শহরের ঘর – বাড়ি ধ্বংস বা খুন হয়েছে।

৫। শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিল?
উত্তর – শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধ্যানে ডুবে ছিল।

৬। ‘তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না’ – কারা কাকে স্বপ্ন দেখাতে পারলো না?
উত্তর – মানুষের উপাস্য দেবতারা, তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না।

আরো পড়ো →সংস্কারঃ বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর 

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে’। কোন কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কি? ১+২
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি-তে কবির ফেলে আসা প্রিয় বাড়ি,বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি,প্রাচীন জলতরঙ্গ এইসব জিনিসের কথা বলা হয়েছে।
এই কবিতাটিতে কবির বিপ্লবী রূপের প্রকাশ ঘটেছে যেখানে কবি তার বাসস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যুদ্ধে। ক্রমে সেই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় কবির প্রিয় সকল বস্তু, যা তিনি ছেড়ে এসেছেন। তাই ধ্বংসাত্মক এই পরিণতির একমাত্র কারণ যুদ্ধ।

২। ‘সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না’- ‘সে’ কে? আমি আর কখনো ফিরে আসব না বলার কারণ কি? (১+২)
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি তে সে বলতে এখানে বলা হয়েছে কবির প্রিয়তমা বা প্রিয়জনকে।
এই কবিতায় কবি দেশের জন্য বিপ্লবী হয়েছেন এবং বাড়ি ছেড়েছেন। কিন্তু কবি তার প্রিয়তমাকে তার ফিরে না আসার কথা জানাননি কারণ কবি তার ভবিষ্যৎ পরিণতির ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। দেশকে স্বাধীনতা ও শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য কবি নিজের জীবন সমর্পন করেছেন। এইজন্যই কবি কবিতায় না ফিরে আসার কথা বলেছেন।

৩। ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে’- কবিতা অনুসরণে পরিস্থিতি বিবরণ দাও। (৩)
উত্তর -আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা কবিতার অংশ। সেখানে কবি যুদ্ধে চলে যান। তারপরেই যুদ্ধের সেই নির্ঘণ্ট আসে শহরে হত্যালীলা শুরু হয়, যা থেকে শিশুরাও নিস্তার পায়না। চারিদিকে আগুন লেগে যায় সেই আগুনেই পুড়ে যায় মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং খন্ড-বিখন্ড হয় দেবতার মূর্তি। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় কবির সেই ফেলে আসা সুন্দর বাড়ি, ঝুলন্ত বিছানা, প্রিয় গোলাপ গাছ ও প্রাচীন জলতরঙ্গ সহ সবকিছু।

৪। ‘শান্ত হলুদ দেবতারা’- দেবতাদের শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেন? তাঁদের কি পরিণতি হয়েছিল? ২+১
উত্তর -আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার অংশ। এই কবিতায় মন্দিরের দেবতারা দীর্ঘকাল ধরে একই ভাবে পূজিত হচ্ছেন, প্রাচীনত্ব বোঝাতে হলুদ এবং দেবতার স্থবিরতা বোঝাতে শান্ত শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে।

যুদ্ধের আবহে যখন চারিদিকে আগুন ধরে গেল সেই যুদ্ধানলের শিকার হয়ে হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকা মন্দিরের দেবতারা খণ্ড -বিখন্ড হয়ে ছিটকে পড়েছিল মন্দির থেকে।

৫। যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর -প্রশ্নে উল্লিখিত লাইনটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
আমরা জানি আগ্নেয় পাহাড় থেকে লাভা নির্গমন হয়, সেই লাভায় ভস্মীভূত হয় সবকিছু। কবি যুদ্ধকে রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের সাথে তুলনা করেছেন, কারণ যুদ্ধ আগ্নেয় পাহাড়ের মতই ধ্বংসাত্মক। লাভা যেমন সব কিছুকে ভস্মীভূত করে দেয়, ঠিক একই ভাবে যুদ্ধ গ্রাস করে সভ্যতাকে, বলি হয় অসংখ্য প্রাণ। লাভা স্রোতের মত চারিদিকে বয়ে যায় রক্তের বন্যা।

আরো পড়ো → জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর

রচনাধর্মী প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা।– অসুখি একজন কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হল লেখো।
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা ও নবারুণ ভট্টাচার্য-তর্জমিত অসুখী একজন থেকে নেওয়া হয়েছে। কবিতায় কবি তার প্রিয়জনকে অপেক্ষায় রেখে, তার প্রিয় শহর ছেড়ে অনেক দূরে যুদ্ধে চলে যান। বছরের পর বছর অতিবাহিত হয় কিন্তু কবির আর ঘরে ফেরা হয় না । এরপর যুদ্ধ আসে রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের রূপে। সেই যুদ্ধে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ যায় মানুষের, ধ্বংস হয় শহর – সভ্যতা। কবি তাঁর বর্ণনায় বলছেন –

“যেখানে ছিল শহর
সেখানে চিড়িয়ে রইল কাঠকয়লা…..”

শুধু তাই নয়, মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক মন্দির থেকে দেবতার মূর্তি খন্ড খন্ড হয়ে খসে পড়ে অর্থাৎ মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসও আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। কবির সেই ফেলে আসা সুন্দর মুহূর্তগুলি, স্মৃতির স্থানগুলি ও জিনিসপত্র ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। যা ছিল সাজানো শহর তা পরিণত হয় কাঠ কয়লার ধ্বংসস্তুপে। চারিদিকে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, শুধু ধ্বংসের প্রমাণ হিসাবে থেকে যায় রক্তের কালো দাগ। যেখানে আগে মানুষের সমাগম ছিল সেখানে এখন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে শুধু নিথর শবদেহ ।

২। অসুখী একজন কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে? (১+৪)
উত্তর – অসুখী একজন কবিতায় কবির প্রিয়তমা-কে বা ‘সেই মেয়েটিকে’ অসুখী বলা হয়েছে, যাকে কবি যুদ্ধের আগে অপেক্ষারত অবস্থায় রেখে এসেছিলেন।
বিখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার লেখা “Extravagaria ” গ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতাটি ‘অসুখী একজন’ নামে অনুবাদ করেন নবারুণ ভট্টাচার্য । কবি এখানে অপেক্ষারত মেয়েটিকে একটি প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেছেন। এই কবিতায় কবি একজন বিপ্লবী, তিনি দেশের জন্য প্রিয় শহর – প্রিয় মানুষ, প্রিয় স্মৃতি ছেড়ে যুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। কবি জানেন না যে তিনি আর তাঁর প্রিয় শহর, মানুষ এবং স্মৃতির কাছে ফিরে আসতে পারবেন কিনা। কারণ এরপর যুদ্ধ আসবে, যুদ্ধের বিভীষিকাময় গ্রাসে ধ্বংস হবে শহর – সভ্যতা। প্রাণ যাবে অসংখ্য শিশু – বৃদ্ধ মানুষের। ধ্বংসস্তূপের চারিপাশে পড়ে থাকবে কাঠ – কয়লার শহর, মৃত-দেহস্তূপ, ভেঙে-যাওয়া দেবতার মূর্তির ধ্বংসাবশেষ আর শুকিয়ে যাওয়া রক্তের-কালোদাগ। কিন্তু চারপাশের এই পরিস্থিতির মাঝেও আশার প্রতিরুপ ‘সেই মেয়েটি’ অসুখী হৃদয়ে দীর্ঘ সময়ের ধরে অপেক্ষা করেন কথকের ফিরে আসার জন্য।

৩। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’। এই আশ্চর্য সংহত ছবিটির মধ্যে যুদ্ধের পৈশাচিক বর্বরতা কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর – বিখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার লেখা “Extravagaria ” গ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতাটি ‘অসুখী একজন’ নামে অনুবাদ করেন নবারুণ ভট্টাচার্য। এই কবিতা থেকেই আলোচ্য বিষয়েটি নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় কথকের চোখে ধরা দিয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা-যুদ্ধ । কবির ভাষায় যুদ্ধ হল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যা শুধু ধ্বংস করে, কেড়ে নেয় অসংখ্য প্রাণ। এই যুদ্ধের কারণেই কত সাধারণ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয় ঠিক যেমন কবি লিখেছেন এই কবিতায়…

‘শিশু আর বাড়িরা খুন হল’

এই যুদ্ধে শুধু বিপ্লবীরাই মৃত্যু বরণ করেন না, তাদের সাথে সাধারণ মানুষকেও খুন হতে হয়, চারিদিকে শুধুমাত্র চলতে থাকে হত্যালীলা। এই যুদ্ধ এমনই নৃশংস-বর্বর যা কাউকেই ছাড়ে না। সেই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় কবির প্রিয় বাড়ি, বারান্দায় ঝুলন্ত বিছানা,প্রিয় গোলাপ গাছ ও প্রাচীন জলতরঙ্গ। এছাড়া যুদ্ধে ধবংস হয় শহর, মন্দির । মানুষের বিশ্বাস ভেঙ্গে দেবতারা টুকরো হয়ে ছিটকে পড়ে মন্দিরের বাইরে। দোমড়ানো লোহা ও কাঠকয়লার মাঝে শুধুই ফুটে ওঠে রক্তের কালো দাগ।

আরো পড়ো → উদ্ভিদ্ভের চলন অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner