বায়ুমণ্ডল – প্রশ্ন উত্তর | Bayumondol – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
bayumondol
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – বায়ুমণ্ডল | Bayumondol – Question Answer (Chapter 2)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের দ্বিতীয় অধ্যায় – থেকে বায়ুমণ্ডল সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। বায়ুমণ্ডলের যে গ্যাসটির পরিমাণ সর্বাধিক, তা হল –
ক) অক্সিজেন খ) নাইট্রোজেন গ) কার্বন ডাই অক্সাইড ঘ) আর্গন

উত্তর- বায়ুমণ্ডলের যে গ্যাসটির পরিমাণ সর্বাধিক, তা হল খ) নাইট্রোজেন।

2। বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাস —-– স্তরে ঘনীভূত অবস্থায় থাকে –
ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার খ) মেসোস্ফিয়ার গ) ট্রপোস্ফিয়ার ঘ) আয়নোস্ফিয়ার

উত্তর- বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাস – স্তরে ঘনীভূত অবস্থায় থাকে ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।

3। ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে বায়ুমণ্ডল প্রায় কত কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত? –
ক) 1000 কিমি খ) 5000 কিমি গ) 10000 কিমি ঘ) 100000 কিমি

উত্তর- ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে বায়ুমণ্ডল প্রায় ঘ) 100000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।

4। সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে –
ক) ওজোন খ) আর্গন গ) জেনন ঘ) ক্রিপ্টন

উত্তর- সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ক) ওজোন।

5। একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ হল –
ক) অক্সিজেন খ) নাইট্রোজেন গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড ঘ) হাইড্রোজেন

উত্তর- একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ হল গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড।

6। বায়ুচাপের একক হল –
ক) মিলিবার খ) মিলিমিটার গ) মিলিগ্রাম ঘ) মিটার

উত্তর- বায়ুচাপের একক হল ক) মিলিবার।

7। গর্জনশীলচল্লিশা হল –
ক) 40° উত্তর অক্ষাংশ খ) 40° দক্ষিণ অক্ষাংশ গ) 40° পূর্ব দ্রাঘিমা ঘ) 40° পশ্চিম দ্রাঘিমা

উত্তর- গর্জনশীলচল্লিশা হল খ) 40° দক্ষিণ অক্ষাংশ।

8। চেরাপুঞ্জিতে কোন্‌ ধরনের বৃষ্টিপাত হয়? –
ক) পরিচলন বৃষ্টিপাত খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত গ) ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত ঘ) শিলাবৃষ্টি

উত্তর- চেরাপুঞ্জিতে খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।

9। যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় –
ক) হাইগ্রোমিটার খ) ব্যারোমিটার গ) থার্মোমিটার ঘ) অ্যানিমোমিটার

উত্তর- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় ক) হাইগ্রোমিটার।

10। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে যে সময় বৃষ্টিপাত হয়, সেটি হল –
ক) গ্রীষ্মকাল খ) বর্ষাকালে গ) শীতকালে ঘ) বসন্তকালে

উত্তর- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে যে সময় বৃষ্টিপাত হয়, সেটি হল গ) শীতকালে।

11। ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল –
ক) দেরাদুন খ) গোয়া গ) মৌসিনরাম ঘ) শিলং

উত্তর- ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল ঘ) শিলং।

12। বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্টি হয় –
ক) মেঘ খ) কুয়াশা গ) ধোঁয়াশা ঘ) শিশির

উত্তর- বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্টি হয় গ) ধোঁয়াশা।

13। দিল্লির তুলনায় দার্জিলিঙের তাপমাত্রা –
ক) যথেষ্ট বেশি খ) বেশ কম গ) একই থাকে ঘ) এগুলির কোনোটিই নয়

উত্তর- দিল্লির তুলনায় দার্জিলিঙের তাপমাত্রা খ) বেশ কম।

14। একটি সাময়িক বায়ু হল –
ক) মৌসুমি বায়ু খ) লু বায়ু গ) আয়ন বায়ু ঘ) পশ্চিমা বায়ু

উত্তর- একটি সাময়িক বায়ু হল খ) লু বায়ু।

15। প্রদত্ত কোন্‌টি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি নয়?
ক) পরিবহণ খ) অধঃক্ষেপণ গ) বিকিরণ ঘ) পরিচলন

উত্তর- প্রদত্ত খ) অধঃক্ষেপণ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি নয়।

আরো পড় → জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। হাইড্রোজেন স্তর বলতে কি বোঝ?
উত্তর- রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতে বিষমমণ্ডলের একদম উপরের স্তরে রয়েছে আনবিক হাইড্রোজেন স্তর। এটির বিস্তার ভূপৃষ্ঠ থেকে 3500 কিমি উপরে এবং 10000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।

2। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর- বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব অসীম।
• জলীয় বাষ্পের কারণেই মেঘ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, তুহিন সৃষ্টি হয়।
• জলীয় বাষ্প সূর্যের তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের তীব্রতা কমায়।
• জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের ফলে বর্জিত লীনতাপ ঘূর্ণিঝড়কে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
• জলীয় বাষ্প পরিমণ্ডলের উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

3। বৈপরীত্য উষ্ণতা কাকে বলে?
উত্তর- বায়ুমণ্ডলে যখন উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা না কমে বাড়তে থাকে তখন তাকে বৈপরীত্য উষ্ণতা বলে। সাধারণত পার্বত্য উপত্যকায় রাত্রিবেলায় উপত্যকার নিচু অংশে তাপমাত্রা অপরের অংশের তুলনায় কম হয়, এখানে উষ্ণতার বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়।

4। মেঘাছন্নতা বলতে কি বোঝ?
উত্তর- আকাশে মেঘাবৃত অবস্থাই হল মেঘাচ্ছন্নতা। মেঘাছন্নতার পরিমাপ অক্টাসে অর্থাৎ আকাশের আট ভাগে করা হয়ে থাকে। 0% মেঘ থাকলে তা পরিষ্কার আকাশ, 25% হলে আংশিক মেঘলা আকাশ, 75% হলে প্রায় মেঘলা আকাশ এবং 100% মেঘাচ্ছন্নতা হলে সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ নির্দেশ করে।

5। এলনিনো কি?
উত্তর- দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমে পেরু ও চিলি উপকূল বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিক বরাবর বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক অবস্থায় শীতল হামবোল্ড স্রোত প্রবাহিত হয়। কিন্তু 4-7 বছর অন্তর এই অংশে শীতল স্রোতের বদলে গভীর উষ্ণ জলরাশি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়, ফলে বায়ুমণ্ডলে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব সমগ্র পৃথিবীতে পরে। সমুদ্রস্রোতের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ঘটনাকে এলনিনো নামে অভিহিত করা হয়।

6। ‘চিনুক’ কি?
উত্তর- চিনুক একটি স্থানীয় বায়ু। রকি পর্বতের উত্তর-পূর্ব ঢালে অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়ায় এই বায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে থাকে। রকি পর্বতের ঢালে জমে থাকা বরফ এই বায়ুর প্রভাবে গলে যায় বলে, এই বায়ুকে ‘তুষার ভক্ষক’ও বলা হয়।

7। ‘লু’ বলতে কি বোঝ?
উত্তর-পশ্চিম ভারতে থর মরুভূমি অঞ্চলে, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ বেশ কিছু ভূপৃষ্ঠীয় অংশে উত্তাপের ফলে সৃষ্ট অতি উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুকে লু বলা হয়।

8। হারিকেন বলতে কি বোঝ?
উত্তর- ক্রান্তীয় মণ্ডলে (5° থেকে 30° অক্ষরেখার মধ্যে) সমুদ্রের উপর সৃষ্ট নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতকে ক্রান্তীয় বা উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণবাত বলে। এইধরনের ঘূর্ণবাতে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ের সঙ্গে মুশলধারে বৃষ্টিপাত হয়। এই ঘূর্ণবাত ক্যারিবিয়ান সাগরে হারিকেন নামে পরিচিত।

9। ‘বোরাবাউই’ বলতে কি বোঝ?
উত্তর- শীতকালে আল্পস পর্বত থেকে দক্ষিণ ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের দিকে একরকমের শীতল ও শুষ্ক বায়ু পর্বতের ঢাল থেকে নেমে আসে। এটি একটি শীতল স্থানীয় বায়ু, যা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ‘বোরাবাউই’ নামে পরিচিত।

10। আপেক্ষিক আর্দ্রতার গুরুত্ব কি?
উত্তর- আপেক্ষিক আর্দ্রতা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপেক্ষিক আর্দ্রতার হ্রাস বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকালে বাইরে গেলে আমরা বেশি গরম অনুভব করি আবার শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়া অনুভব করি। আপেক্ষিক আর্দ্রতার সাহায্যে বাতাসে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ পরিমাপ করা যায়।

আরো পড় → The Snail Question Answer

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

1। ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা হ্রাস পায় কেন?
উত্তর- ট্রপোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা হ্রাস পায়, প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় 6.4° C করে, একে ‘উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক বিধি’ বলা হয়।
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে ওঠা যায় বায়ুর ঘনত্ব তত কমে যায়, ফলে বায়ুর তাপ ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়, ফলে ক্রমশ উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা হ্রাস পায়।
উপরের দিকে বায়ুস্তর ক্রমশ পাতলা হয়ে যায়। এরফলে বায়ু দ্রুত প্রসারিত হয় এবং তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়।
সূর্যতাপে প্রথমে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং পরে উষ্ণ ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হয়। এজন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে উষ্ণতা কমে যায়।
ওপরের স্তরের বায়ুতে ধূলিকণা ও জলীয়বাষ্প কম থাকে বলে ওই বায়ুর তাপ শোষণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা কম, ফলে উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা হ্রাস পায়।

2। বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর- বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সর্বাধিক 78.08%। এই গ্যাস সরাসরি অন্য গ্যাসের সাথে যুক্ত হতে পারেনা।
লেগুমিনাস জাতীয় উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
প্রাণীজগত সরাসরি এই গ্যাস ব্যবহার করে থাকে দেহে প্রোটিন গঠনের জন্য।
বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে সার উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

3। সব মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয় না কেন?
উত্তর- সব মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণগুলি হল –
• মেঘে অবস্থিত জলকণার ব্যাস 0.2 থেকে 0.5 মিলিমিটারের কম হলে, সেই মেঘ থেকে অধঃক্ষেপণ বা বৃষ্টিপাত হয়না।
• মেঘের মধ্যে ভাসমান জলকণাগুলি যতক্ষণ না পর্যন্ত একে অপরের সাথে সংযুক্ত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়না।
• বায়ুমণ্ডলের আপেক্ষিক আর্দ্রতা 100% না হলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হবে না, ফলে বৃষ্টিপাতও হবে না।

4। ব্যারোমিটারের সাহায্যে কীভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়?
উত্তর- বায়ুমণ্ডলে বায়ুর ওজন মাপার পরিমাপের জন্য ব্যারোমিটার ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হওয়া একটি যন্ত্র। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম বা বেশি হলে বাতাসের চাপ বেড়ে যায় বা কমে যায়, এবং এই ঘটনা ব্যারোমিটারে ধরা পরে। বাতাসের চাপ কমে গেলে তা ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। অপরদিকে বাতাসের চাপ বেড়ে গেলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে।

5। আয়ন বায়ুর গতিপথে মহাদেশ সমূহের পশ্চিমভাগে পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে কেন?
উত্তর- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুক্রম উষ্ণ প্রকৃতির হয়, এর কারণ হল উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বায়ুপ্রবাহ। তাছাড়াও স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহের ফলে এই বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুবই কম থাকে। সমুদের উপর দিয়ে প্রবাহকালে আয়ন বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে তার সবটাই প্রায় স্থল্ভাগে প্রবেশ করে মহাদেশের পুর্বভাগে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে পশ্চিম দিকে যত অগ্রসর হয়, ততই তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকে, এইভাবে ক্রমশ এই বায়ু মহাদেশের পশ্চিমভাগে এসে পৌঁছায়, তখন তাতে আর পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকেনা, ফলে মহাদেশের পশ্চিমাংশ শুষ্ক, বৃষ্টিপাতহীন ও উষ্ণ হয়ে পরে। এই কারণে আয়ন বায়ুর গতিপথে মহাদেশ সমূহের পশ্চিমভাগে পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

6। উষ্ণ মরু জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর- উষ্ণ মরু জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল,
• অক্ষাংশগত অবস্থান: 15° থেকে 35° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে মহাদেশগুলির পশ্চিমে এই জলবায়ু দেখা যায়।
• উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালে 28°- 35° সেঃ এবং শীতকালে উষ্ণতা 15°- 20° সেঃ থাকে। বার্ষিক গড় উষ্ণতার প্রসার 8°-25° সেঃ।
• বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র 25-30 সেমি।
• বৈশিষ্ট্য: শীত ও গ্রীষ্ম ঋতু খুবই স্পষ্ট। শীত ও গ্রীষ্মের উষ্ণতার ব্যবধান খুব বেশি। বৃষ্টিপাত খুবই কম ও অনিয়মিত।

আরো পড় → সিরাজদ্দৌল্লা নাটকের প্রশ্ন উত্তর

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। বায়ুমণ্ডলের ক্ষুব্ধমণ্ডল ও শান্তমণ্ডল স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর-
ক্ষুব্ধমণ্ডল
• এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তর, যেটি ভূপৃষ্ঠ থেকে গড় 12 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
• এই স্তরের উচ্চতা মেরু অঞ্চলের 8 কিমি এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে 18 কিমি।
• এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের মোট গ্যাসীয় ভরের প্রায় 80 ভাগ উপস্থিত আছে।
• এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে প্রতি 1 কিমিতে 6.4° সেঃ হারে উষ্ণতা কমতে থাকে। একে ‘স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের বিধি’ বলে।
• এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের যাবতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয় বলে একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে।
• এই স্তরে মূলত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন উপস্থিত থাকায় এর ঘনত্ব খুব বেশি।
শান্তমণ্ডল
• ক্ষুব্ধমণ্ডলের ওপরে ভূপৃষ্ঠ থেকে 50 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত স্তরকে শান্তমণ্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলে।
• এই স্তরে জলীয়বাষ্পের অভাবে কোনো ঝড় বা বৃষ্টিপাত হয় না বলে একে শান্তমণ্ডল বলে।
• এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা বাড়তে থাকে।
• ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলে বায়ুস্তর ক্রমশ হালকা থাকে।
• বায়ুর ঘনত্ব কম বলে খুব অল্প তাপ শোষণেই এই স্তর উত্তপ্ত হয়।

2। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে বায়ুর উষ্ণতার তারতম্য কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর- বায়ুর উষ্ণতার তাপের তারতম্যের কারণগুলি হল–
অক্ষাংশ- অক্ষাংশের পার্থক্য তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা যায়। নিরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পরে এবং নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে সূর্যরশ্মি কম জায়গায় পরে ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চল বেশি উষ্ণ হয়। তির্যকভাবে পতিত রশ্মির ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিমাণ অঞ্চল কম উষ্ণতা পায়।

দিনরাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি- দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের ওপর উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধি নির্ভর করে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত থাকে এবং সৌরবিকিরণের তীব্রতা সর্বাধিক হওয়ায় এই অঞ্চলের উষ্ণতা বেশি হয়। উচ্চঅক্ষাংশে ঋতুভেদে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি হওয়ায় উষ্ণতা কম হয়।

উচ্চতা- বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কমতে থাকে। একে ‘স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের বিধি’ বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু স্থানের উষ্ণতা কম হয়। যেমন – নিরক্ষরেখার অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিলিমাঞ্জারো পর্বতশৃঙ্গ সারাবছর বরফ জমে থাকে।

স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন- স্থল ও জলের ভৌত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের জন্য উষ্ণতার তারতম্য হয়। স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয় ও দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। জল্ভাগে এই প্রক্রিয়া খুব ধীরে হয়।

বায়ুপ্রবাহ- পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে উষ্ণ ও শীতল বায়ুপ্রবাহ উষ্ণতার পরিবর্তন ঘটায়। গরমকালে ‘লু’ বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারতে উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। আবার মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে তাপমাত্রা প্রায় 10° সেঃ কম থাকে।

ভূমির ঢাল- ভূমির যে ঢালের অপর সূর্যালোক বেশি পরে সেই ঢাল অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। এর বিপরীত ঢালে সূর্যালোক তির্যকভাবে পরে ও উষ্ণতা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

3। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবগুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তর- পৃথিবীতে বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাবগুলি হল –
হিমবাহের গলন: গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর, দক্ষিণমেরুর হিমবাহ ও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের বরফ গলে যাবে।
সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি: হিমবাহের গলনের ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ও সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন বন্দর ও শহর ও দ্বীপপুঞ্জ সমুদ্রের জলে ডুবে যাবে।
অধঃক্ষেপনের প্রকৃতি পরিবর্তন: বায়ুমণ্ডলের তাপমত্রা বৃদ্ধির ফলে বাষ্পীভবন বেশি হবে ও বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। অধঃক্ষেপনের অসম বণ্টনে বৃষ্টি হবে। অর্থাৎ কোথাও বন্যা বা কোথাও খরা দেখা যাবে।
শস্য উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি: বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ও বণ্টনের যথেষ্ট তারতম্য ও উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য শস্যের উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটবে।
কৃষিপদ্ধতির পরিবর্তন: অসময়ে বৃষ্টিপাত হলে শস্য চাষের সময়ের পরিবর্তন হবে।
এল নিনো, লা নিনা ও পৃথিবীব্যাপী তার প্রভাব: দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে 4-7 বছর অন্তর অন্তর শীতল হামবোল্ড স্রোতের পরিবর্তে গভীর উষ্ণ জলক্ষেত্র অবস্থান করে, এবং নিস্তেজ স্রোত উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়, ফলে বায়ুমণ্ডলে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার প্রভাবে গোটা পৃথিবীতে পরে। সমুদ্রস্রোতের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ঘটনা বা পর্যায়কে এল-নিনো বলে।

4। ভূপৃষ্ঠে কয়টি চাপ বলয় আছে? এগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর- ভূপৃষ্ঠে স্থায়ীভাবে কতকগুলি বায়ুচাপ অঞ্চল বলয় আকারে পৃথিবীকে ঘিরে আছে। এগুলিকে চাপ বলয় বলে। পৃথিবীতে তিনটি নিম্নচাপ ও চারটি উচ্চচাপ বলয় আছে। এগুলি হল–

ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় – নিরক্ষরেখার দুপাশে 5° উঃ ও 5° দ: অক্ষরেখার মধ্যে এই চাপে বলয়টি অবস্থান করে।
উৎপত্তি: নিরক্ষীয় অঞ্চল সূর্য সারাবছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এই অঞ্চলের বায়ু ও ঊর্ধ্বগামী হয়। পৃথিবীর আবর্তন গতির বেগ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এবং ঊর্ধ্বগামী বায়ুস্রোত বজায় রাখতে ওপরের স্তরের বায়ু উত্তর ও দক্ষিণে দুই ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে বিক্ষিপ্ত হয় এখানে নিরক্ষীয় শান্তবলয় সৃষ্টি হয়েছে।
খ) কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় – উভয় গোলার্ধের দুই ক্রান্তীয় অঞ্চলের 25° থেকে 35° অক্ষরেখার মধ্যে চাপ বলয় দুটি অনিয়মিতভাবে বিস্তৃত।
উৎপত্তি: নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে দুই মেরু অঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় শীতল ও ভারী হয়ে দুই ক্রান্তীয় অঞ্চলের মধ্যে নেমে আসে।
গ) মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় – দুই গোলার্ধের 60° থেকে 70° অক্ষরেখার মধ্যে সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত বরাবর অঞ্চলে এই চাপ বলয়টি অবস্থিত।
উৎপত্তি: মেরু থেকে আগত শীতল মেরু বায়ু ও উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত অপেক্ষাকৃত উষ্ণ পশ্চিমা বায়ু এখানে পরস্পরের মুখোমুখি হল আবর্তন গতির প্রভাবে বায়ু ওপরে উঠে যায় ও নিম্নচাপ সৃষ্টি করে। এই অংশ পৃথিবীর আবর্তন গতির বেগ মেরু অপেক্ষা বেশি এবং উষ্ণতাও বেশি হওয়ার কারণে নিম্নচাপ ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।
ঘ) মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় – উভয় গোলার্ধে মোটামুটি 60° থেকে 70° পর্যন্ত এই উচ্চচাপ বলয়টি বিস্তৃত। উৎপত্তি: দুই মেরুতে উষ্ণতা সারাবছর হিমাঙ্কের নীচে থাকে, তাই এই অঞ্চলের বায়ু অত্যন্ত শীতল, ভারী ও ঘন। এজন্য এখানে সবসময় উচ্চচাপ অবস্থান করে।

আরো পড় → ভারতের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা – প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner