জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ | Jibboicitryo ebong songrokkhon

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
jib-boicitrtyo-songrokkhon
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – জীবনবিজ্ঞান | অধ্যায় – জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ | Jibboicitryo ebong songrokkhon (Chapter 17)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান বিভাগের সপ্তদশ অধ্যায় – জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ থেকে কয়েকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো। (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। প্রজাতির বিভিন্নতা সৃষ্টি হয় –
ক) জিনগত জীববৈচিত্র্যের জন্য খ) বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য
গ) প্রাণী বৈচিত্র্যের জন্য ঘ) উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের জন্য

উত্তর- প্রজাতির বিভিন্নতা সৃষ্টি হয় – ক) জিনগত জীববৈচিত্র্যের জন্য

2। পৃথিবীতে অতি বৈচিত্র্যশালী দেশের সংখ্যা হল –
ক) ১০টি খ) ১৩টি গ) ১৫টি ঘ) ১৭টি

উত্তর- পৃথিবীতে অতি বৈচিত্র্যশালী দেশের সংখ্যা হল – ঘ) ১৭টি

3। ভারতের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হল –
ক) ভারতীয় বাঘ, কস্তুরী মৃগ খ) ভারতীয় গাধা, শূকর
গ) গৃহপালিত বিড়াল, বেজি ঘ) গৃহপালিত গোরু, ঘোড়া

উত্তর- ভারতের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী হল – ক) ভারতীয় বাঘ, কস্তুরী মৃগ

4। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা গত শতকে বেড়েছে প্রায় –
ক) 0.4°C খ) 0.5°C গ) 0.6°C ঘ) 0.7°C

উত্তর- বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা গত শতকে বেড়েছে প্রায় – গ) 0.6°C

5। এদেশে বাস্তুতান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে যে বিদেশি উদ্ভিদ তা হল –
ক) পার্থেনিয়াম ও কচুরিপানা খ) পাথরকুচি ও বেগোনিয়া গ) জাম ও কলা ঘ) লজ্জাবতী ও আকন্দ

উত্তর- এদেশে বাস্তুতান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে যে বিদেশি উদ্ভিদ তা হল – ক) পার্থেনিয়াম ও কচুরিপানা

6। সর্পগন্ধা গাছের বিপন্নতার কারণ হল –
ক) বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তন খ) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ গ) অতিব্যবহার ঘ) দূষণ

উত্তর- সর্পগন্ধা গাছের বিপন্নতার কারণ হল –গ) অতিব্যবহার

7। গোরুমারা জাতীয় উদ্যান যে রাজ্যে অবস্থিত, তার নাম –
ক) মধ্যপ্রদেশ খ) উত্তরপ্রদেশ গ) কেরল ঘ) পশ্চিমবঙ্গ

উত্তর- গোরুমারা জাতীয় উদ্যান যে রাজ্যে অবস্থিত, তার নাম – ঘ) পশ্চিমবঙ্গ

8। বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে যে অংশগুলি দেখা যায় –
ক) কোর অঞ্চল খ) বাফার অঞ্চল গ) ট্রানসিট অঞ্চল ঘ) সবগুলি সঠিক

উত্তর- বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে যে অংশগুলি দেখা যায় – ঘ) সবগুলি সঠিক

9। শুক্রাণু, ডিম্বাণু, বীজ বা উদ্ভিদ অংশ – 196°C উষ্ণতার তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিটিকে বলা হয় –
ক) বায়োকনজারভেশন খ) ক্রায়োপ্রিজারভেশন গ) এক্স – সিটু কনজারভেশন ঘ) ইন – সিটু কনজারভেশন

উত্তর- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, বীজ বা উদ্ভিদ অংশ – 196°C উষ্ণতার তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিটিকে বলা হয় – খ) ক্রায়োপ্রিজারভেশন

10। JFM-এর পুরো কথাটি হল –
ক) জ্যেন্ট ফিচার ম্যানেজম্যান্ট খ) জুলজিক্যাল ফরেস্ট ম্যানেজম্যান্ট
গ) জঙ্গল ফায়ার ম্যানেজম্যান্ট ঘ) জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজম্যান্ট

উত্তর- JFM-এর পুরো কথাটি হল – ঘ) জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজম্যান্ট

আরো পড়ো → ভারতের কৃষি অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

একটি বাক্যে উত্তর দাও। (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। রিও বিশ্ব পরিবেশ বৈঠক কবে কোথায় হয়?
উত্তর- রিও বিশ্ব পরিবেশ বৈঠক1992 (3 – 14 জুন) রিও ডে জেনেরিও ব্রার্জিল (Rio de Janeiro Brazil)।

2। জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর- জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- ১) ইন সিটু সংরক্ষণ ও ২) এক্স সিটু সংরক্ষণ

3। JFM-এর সূত্রপাত কোথায় ঘটে?
উত্তর-JFM-এর সূত্রপাত 1971 সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের আরাবারি অরণ্যে ঘটে।

4। PBR-এর সম্পূর্ণ নাম কী?
উত্তর- PBR-এর সম্পূর্ণ নাম- পিপলস বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার (People’s Biodiversity Register)।

5। পূর্ব হিমালয় হটস্পটে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর- পূর্ব হিমালয় হটস্পটে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন প্রাণীর নাম রেড পান্ডা।

আরো পড়ো → লম্ব বৃত্তাকার শঙ্কু অধ্যায়ের গাণিতিক সমাধান

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 2/3]

1। ভারতবর্ষের দুটি বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখ।
উত্তর- ভারতবর্ষের দুটি বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী হল
ভারতবর্ষের জাতীয় পশু বাঘ Panthera tigris
ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডার Rhinoceros unicornis

2। JFM সম্পর্কে ধারণা দাও। (3)
উত্তর: JFM: ভারত সরকার পরিচালিত সরকারের সাথে স্থানীয় মানুষের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে‌ বনজ সম্পদ তথা জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা হল সংযুক্ত বন পরিচালন বা JFM.
সর্বপ্রথম এই সংযুক্ত বনপরিচালন প্রকল্পটি শুরু হয় আমাদের পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন আরাবারি অরন্যের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিস (DFO) শ্রী অজিত কুমার ব্যানার্জি তত্ত্বাবধানে। তিনি সর্বপ্রথম স্থানীয় 11 টি গ্রামের মানুষদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বন সুরক্ষা কমিটি (Forest Protection Committee/FPC) গড়ে তোলেন।
এই কমিটি অনুসারে নির্ধারিত হয়-
ক) সদ্য রোপিত শালগাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কমিটিকে দিতে হবে।
খ) বিনিময় স্থানীয় মানুষ গ্রামীণ নিযুক্তি প্রকল্পে চাকরির পাবে।
গ) গ্রামীণ সাধারন মানুষ এর পরিবর্তে অন্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে পারবে।
ঘ) এই বনপ্রকল্প থেকে প্রাপ্ত লাভের 25% স্থানীয় গ্রামবাসীকে দেওয়া হবে।
সর্বপ্রথম স্থানীয় 612 টি পরিবার এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়। পরে আরাবারি এই যৌথ বন প্রকল্প বা JFM এর উদ্যোগ সফল হয়।
আরাবারি প্রকল্পের সাফল্যের পর ভারত সরকারের নির্দেশে রাজ্য সরকার,স্থানীয় জনসাধারণ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছা সংগঠনকে একত্রে নিয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নীতি তৈরি করা হয়। বর্তমানে ভারতের 10 -25 মিলিয়ন হেক্টর বন পরিচালন JFM এর অন্তর্গত। বর্তমানে JFM অধীনস্থ আরো বেশকিছু কমিটি তৈরি করা হয়েছে। যেমন- ইকো ডেভলপমেন্ট কমিটি(Ecodevelopment committee/EDC), ভিলেজ ফরেস্ট কমিটি (Village Forest Committee/VFC) ইত্যাদি।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM-র ভূমিকা
ক) স্থানীয় মানুষকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাহায্য করে ফলে চোরাশিকার অনেক পরিমাণে কমে গেছে।
খ) সরকার এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে একটি সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
গ) JFM থেকে লভ্যাংশের একভাগ স্থানীয় মানুষ পাওয়ায় তাদের জীবন ধারণের সুবিধা হয়েছে।
ঘ) বেআইনিভাবে গাছ কাটা, পশুচারণ, মাটি খোঁড়া ইত্যাদি বন্ধের জন্য JFM কমিটি কাজ করে।
ঙ) জঙ্গলের জীব বৈচিত্র্য উন্নত হয়েছে।

3। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের জন্য সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষা জরুরী কেন?
উত্তর: সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। সুন্দরবন থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হয় –
ক. প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান: সুন্দরবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন সাইক্লোন, সুনামি, উপকূল ক্ষয় ইত্যাদি থেকে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উভয় কেই রক্ষা করে। এখানকার ম্যানগ্রোভ অরণ্য জলের স্রোতকে কমিয়ে দেয় এবং পলি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে।
খ. কৃষি কাজ: বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ, এখানকার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষির সাথে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের মানুষ কৃষি কাজের জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।
গ. জীবিকা নির্বাহ: বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত কাঠ, পাতা ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এখানকার কাঠ থেকে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি হয়। সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত মধুর চাহিদা বিশ্ব বিখ্যাত।
ঘ. আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি: সুন্দরবন অঞ্চলে প্রাপ্ত বহু গাছ থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন ওষুধের কাঁচামাল, সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত হয়।
ঙ. মৎস্য শিল্প: বাংলাদেশ পৃথিবীতে মৎস্য রপ্তানি পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। সুন্দরবন অঞ্চলে বহু নদনদী বর্তমান যা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উভয়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত। তাই বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য শিল্প অনেকাংশেই সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।
চ. পর্যটন শিল্প: সুন্দরবন বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। ফলে সুন্দরবন, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সাহায্য করে।
অর্থাৎ সুন্দরবনের ওপর পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উভয়েই অর্থনৈতিক এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষার জন্য নির্ভরশীল। তাই সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা করা এই দুই অঞ্চলের জন্যই জরুরী।

4। অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের মধ্যে চারটি পার্থক্য লেখ।
উত্তর –

5। ভারতবর্ষে অবস্থিত একটি হটস্পটের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। (3)
উত্তর: ভারতে চারটি হটস্পট অঞ্চল বর্তমান।
যথা – ক) পূর্ব হিমালয় (The Eastern Himalayas), খ) পশ্চিমঘাট ( The Western Ghat), গ) ইন্দো- বার্মা ( Indo-Burma), ঘ) সান্ডাল্যান্ড বা সুন্দাল্যান্ড (Sundaland)।
এখানে পূর্ব হিমালয় হটস্পটের পরিচয় দেওয়া হল।

ক) পূর্ব হিমালয় হটস্পট
উত্তর-পূর্ব ভারত অর্থাৎ সিকিম, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ সহ নেপাল ও ভুটান এই পূর্ব হিমালয় হটস্পটের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। এই হটস্পটের উচ্চতা 1780 থেকে 3500 মিটার পর্যন্ত।

পূর্ব হিমালয় হটস্পটের বৈশিষ্ট্য
i) এই অঞ্চলে প্রায় 163 টি বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। তারমধ্যে 45 টি স্তন্যপায়ী, 50 টি পাখি ,17 টি সরীসৃপ এবং 36 টি উদ্ভিদ প্রজাতি অন্তর্গত।
ii) শুধুমাত্র ভারতীয় অংশে প্রায় 5800 টি উদ্ভিদ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মধ্যে 2000 টি এনডেমিক প্রজাতির।
iii) এই অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাচীন সপুষ্পক উদ্ভিদ, গুপ্তবীজী উদ্ভিদ অধিক সংখ্যায় দেখা যায়। তাই পূর্ব হিমালয় হটস্পট অঞ্চলটিকে প্রজাতি ভবনের উৎপত্তিস্থল বলে। অর্থাৎ এটিকে বিবর্তনের কেন্দ্রস্থল মনে করা হয়।
এখানকার এনডেমিক প্রাণীগুলি হল – সোনালী লাঙ্গুর, কস্তুরী মৃগ, একশৃঙ্গ গন্ডার, নামদাফা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি ইত্যাদি। এছাড়া এখানে কলসপত্রী উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়।

আরো পড়ুন → ধাতুবিদ্যা অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা

দীর্ঘভিত্তিক প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো এর কারণ কী কী হতে পারে তা অনুমান করে লেখো:
ক. সুন্দরবনের বাস্তু তন্ত্রের খাদ্য-খাদক ভারসাম্যের ব্যাঘাত
খ. জীব বৈচিত্র্যের বাসস্থানের সংকট
গ. দেশজ বহু মাছের অবলুপ্তির আশঙ্কা
ঘ. মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস ও ভূপৃষ্ঠ জলের অম্লীকরণ
ঙ. অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষয়

উত্তর:
ক. সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য-খাদক ভারসাম্যের ব্যাঘাতের কারণ: বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি জীব খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। খাদ্য শৃঙ্খলের কোনো একটি প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে সম্পূর্ণ খাদ্য শৃঙ্খল ব্যাহত হবে। বর্তমানে সুন্দরবনের বনাঞ্চল ধ্বংস এবং চোরাশিকারের ফলে তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে সর্বোচ্চ খাদক যেমন বাঘ। কিন্তু তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘের খাদ্যাভাব দেখা যায় ফলে বাঘের সংখ্যা সুন্দরবনের ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য ও খাদকের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া সুন্দরবন অঞ্চলের অরণ্য ধ্বংস এই ভারসাম্য নষ্টের অনেকাংশে দায়ী।

খ. জীববৈচিত্র্যের বাসস্থানের সংকটের কারণ: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সাথে নগরায়ন ঘটছে ফলে জীবের বাসস্থানের সংকোচন ঘটছে। অনেক প্রাণী যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে তার একমাত্র কারণ জীবের বসবাসযোগ্য জমির যথেচ্ছ ব্যবহার। বনাঞ্চল ধ্বংস করে কোথাও মানুষ বাসভূমি করছে, কোথাও কলকারাখান করছে কোথাও বা কৃষিকাজ করছে তার ফলে অরণ্যের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। আবার কোথাও বন্য প্রাণীদের বাসস্থানের মধ্যে দিয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য মানুষ প্রচুর রাস্তা নির্মাণ করেছে । ফলে জীববৈচিত্র্যের বাসস্থানের সংকট দেখা দিচ্ছে।

গ. দেশজ বহু মাছের অবলুপ্তির আশঙ্কা: বাণিজ্যিকভাবে জাহাজের মাধ্যমে বহু বিদেশি মাছ আমাদের দেশের জলাশয়ে এসে পড়েছে। দেশজ বহু মাছ এইসব বিদেশি শিকারি মাছের সাথে বেঁচে থাকার জন্য এক অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।
এই সমস্ত নতুন মাছ যা নতুন ভৌগলিক পরিবেশ প্রবেশ করে আমাদের দেশের জলবায়ুতে বংশবৃদ্ধি করে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, তাকে বহিরাগত মাছের প্রজাতি বলে। যেমন – কমন কার্প বা ইউরোপিয়ান কার্প।
দেশীয় বহু মাছ বিদেশি মাছের কাছে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জলাশয় থেকে সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত হয়। ফলে জলাশয় ধীরে ধীরে বিদেশি মাছের আয়ত্তে চলে আসে এবং ক্রমে দেশীয় মাছ প্রজাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ঘ. মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস ও ভূপৃষ্ঠ জলের অম্লীকরণ:
জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষিজমির সেই অনুপাতে বৃদ্ধি হয়নি। প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের যোগান দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান না রেখে একই জমিতে বারবার চাষ করা হয়েছে। ফলে মাটির উর্বরতা কমেছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কলকারখানার বৃদ্ধি হয়েছে। এই কলকারাখানা থেকে নির্গত অ্যাসিড মিশ্রিত জল জলাশয়ে পরে এবং ভূপৃষ্ঠ জলের অম্লতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া কলকারখানা ও যানবাহন নির্গত গ্যাস যেমন – কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি বৃষ্টির জলের সাথে মিশে কার্বনিক অ্যাসিড, সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে বৃষ্টি আকারে ঝরে পরে মাটিতে এবং জলাশয়ে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠ জলের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এবং ফসলকে পেস্টের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়। যেগুলি বৃষ্টির জলে ধুয়ে কাছাকাছি জলাশয়ে মিশে সেখানকার জল দূষিত ও আম্লিক করে।

ঙ. অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষয়:
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষয়ের প্রধান কারণ। বাসস্থান, শিল্প কারখানা, কৃষিক্ষেত্র প্রভৃতির প্রয়োজনে যথেচ্ছভাবে অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। অরণ্য ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীরা তাদের বাসস্থান ও খাদ্য সংস্থান হারাচ্ছে। পর্যাপ্ত খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে অনেক বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে এবং তার ফলে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অরণ্য ধ্বংসের অন্যতম কারণ হল বিশ্ব উষ্ণায়ন, যার ফলে মেরু প্রদেশের বরফ গলছে, ফলস্বরূপ মেরু প্রদেশের বাস্তুতন্ত্র ক্ষয় হচ্ছে।

আরো পড়ুন → পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


WBP-YT-Banner