ভারতের জনসংখ্যা – প্রশ্ন উত্তর | Bharater Jonosongkhya – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
bharater-jonosongkhya
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ | ভারতের জনসংখ্যা | bharater Jonosongkhya (Chapter 6)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের ষষ্ট অধ্যায় – ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ – থেকে ভারতের শিল্প সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে জনঘনত্ব সর্বাধিক-
ক) পুদুচেরি খ) লাক্ষাদ্বীপ গ) দিল্লী ঘ) চণ্ডীগড়

উত্তর- কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে জনঘনত্ব সর্বাধিক গ) দিল্লী।
2। ভারতে সার্বিক স্বাক্ষরতার হার (2011) –
ক) 74.04% খ) 77.2% গ) 70.8% ঘ) 84.2%

উত্তর- ভারতে সার্বিক স্বাক্ষরতার হার (2011) ক) 74.04%.
3। জনসংখ্যাকে মোট ক্ষেত্রমান দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায়-
ক) জনঘনত্ব খ) স্বাক্ষরতা হার গ) শিশু মৃত্যু হার ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- জনসংখ্যাকে মোট ক্ষেত্রমান দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ক) জনঘনত্ব।
4। অতিস্বল্প ঘনত্বযুক্ত রাজ্যটি হল –
ক) উত্তর প্রদেশ খ) কেরালা গ) গোয়া ঘ) সিকিম

উত্তর- অতিস্বল্প ঘনত্বযুক্ত রাজ্যটি হল ঘ) সিকিম।
5। ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য-
ক) কর্ণাটক খ) উত্তরপ্রদেশ গ) পশ্চিমবঙ্গ ঘ) উত্তরাখন্ড

উত্তর- ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য খ) উত্তরপ্রদেশ।

আরো পড় → বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্ন ও উত্তর

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের পাঁচটি কারণ আলোচনা করো।
উত্তর- বিশ্বের জনবহুল দেশগুলির মধ্যে ভারত দ্বিতীয়। সেই ভারতে জনসংখ্যা বন্টনে তারতম্যে দেখা যায়। এর কারণগুলি হল,
a) ভূ-প্রকৃতি- ভারতে ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্যতা বেশ বেশী যার ফলস্বরূপ জনসংখ্যা বন্টনের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল উত্তর পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভারতের পার্বত্য অঞ্চলের ভূ প্রকৃতি বন্ধুর ও দুর্গম ফলে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং কৃষি ও শিল্পের বিকাশের অভাবের জন্য এই সমস্ত অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে উঠেছে। আর লক্ষ্য করা যায় যে সমভূমি অঞ্চলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষি ও শিল্পের উন্নতির জন্য জনঘনত্ব বেশী। যেমন- গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল।
b) জলবায়ু- ভারতের উত্তরে হিমালয়ের শৈত্যের জন্য লোকসংখ্যা কম আবার তামিলনাড়ু অন্ধ্রপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে অনুকূল জলবায়ুর জন্য এখানে জনসংখ্যা বেশী। থর মরুভূমিতে অতিরিক্ত উষ্নতার জন্যেও জনসংখ্যা কম হতে দেখা যায়।ভারতে মূলত উষ্নতার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ও তারতম্যের জন্য জনসংখ্যার অসম বন্টন লক্ষ্য করা যায়।
c) মৃত্তিকা- উর্বর মৃত্তিকা অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হওয়ায় জনবসতি ঘন হয়। যেমন- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, শতদ্রু, প্রভৃতি নদী অববাহিকা, উর্বর পলিমাটি, দাক্ষিণাত্য মালভূমির উর্বর কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল জনঘনবসতিপূর্ন, আবার দক্ষিণ ভারতের ল্যাটেরাইট মাটি রাজস্থানের সিরোজেম মাটিতে জনসংখ্যা পরিমাণ কম।
d) খনিজ সম্পদ- খনিজ সম্পদ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের অনেকাংশে গড়ে ওঠে জনবসতি। এই কারণে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে জনসংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা যায়।
e) চাষবাস- ভারত কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় জনঘনত্ব খুবই বেশি। যে সমস্ত অঞ্চলে মৃত্তিকা উর্বর সেখানে জলসেচের সুবিধা আছে, এই সমস্ত অঞ্চল কৃষিকাজে উন্নত হওয়ার দরুণ এখানে জনসংখ্যা অত্যধিক বেশী আবার যে সমস্ত অঞ্চল কৃষিকাজের অনুপযোগী সেখানে জনসংখ্যাও খুবই কম।
f) শিল্প- ভারতের যে সমস্ত জায়গায় শিল্পের আধিক্য বেশী সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সুবিধা থাকায় জনসংখ্যা বহু অংশে বেড়ে চলেছে। যেমন দিল্লী মুম্বই কলকাতা ব্যাঙ্গালোর প্রভৃতি শহরে শিল্প সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে জনসংখ্যা প্রায় প্রচুর।

2। শহর গড়ে ওঠার কারণগুলি উল্লেখ করে ভারতের বিভিন্ন শহরের উদাহরণসহ বিষয়টি বিস্তৃত আলোচনা করো।
উত্তর- জীবনের সমস্ত রকমের চাহিদা যেখানে মেটানোর উপায় থাকে সেই স্থান বা অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই নগর গড়ে ওঠে। নগর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি নিম্মলিখিত

• প্রাকৃতিক কারণ-
a) বন্দরের নৈকট্য- সমুদ্র উপকূলবর্তী অবস্থানের কারণে কোনো কোনো স্থানে প্রাকৃতিক বন্দর গড়ে ওঠে। আর এই বন্দরকে কেন্দ্র করেই শহর বা নগর তৈরি হয়। যেমন- কলকাতা, বিশাখাপত্তনম প্রভৃতি।
b) অবস্থানগত কারণ- কোনো স্থানের অবস্থানগত অনুকূল পরিবেশ সেই স্থানে শহর গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যেমন- মুম্বাই শহরের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে সেখানকার মনোরম আবহাওয়ার জন্য নগর বা শহর গড়ে ওঠে।
c) দৃশ্যগত কারণ- নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে, আর এই পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে শহর বা নগর। যেমন- শ্রীনগর, কুলু, মানালি, উটি প্রভৃতি।

• অর্থনৈতিক কারন-
a) শিল্প- বেশিরভাগ জায়গায় লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শহর। যেমন- দুর্গাপুর, জামশেদপুর, বোকারো প্রভৃতি
b) বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ- বাজার বা বাণিজ্যের উপর ভিত্তি করেও শহর বা নগর গড়ে উঠে। যেমন- কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই প্রভৃতি।

• সাংস্কৃতিক কারণ-
a) শিক্ষা- শিক্ষাকেন্দ্র বা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেও নগর গড়ে ওঠে। যেমন- নালন্দা, শান্তিনিকেতন, কলকাতা প্রভৃতি।
b) ধর্ম:- শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মকে কেন্দ্র করেও নগর গড়ে ওঠে সেখানে সারাবছর ধরে তীর্থক্ষেত্রের টানে মানুষ ভিড় জমায় যেমন:- হরিদ্বার, পুরী, বৃন্দাবন, গয়া প্রভৃতি।

• অন্যান্য কারণ-
a) সামরিক ক্রিয়াকলাপ- সামরিক ক্রিয়াকলাপ, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় শিল্প, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেও শহর গড়ে উঠে। যেমন- পাঁচমারি, ব্যারাকপুর প্রভৃতি।
b) প্রশাসনিক ক্রিয়াকলাপ- প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য রাজধানী, মহকুমা, সদর শহর প্রভৃতি গড়ে ওঠে। যেমন- দিল্লি, ভুবনেশ্বর প্রভৃতি।
c)পরিব্রাজন কারণ- পার্শ্ববর্তী অঞ্চল বা দেশ থেকে বহু মানুষ বা শরণার্থীদের আগমনে জনসংখ্যা চাপ বেড়ে গেলে কোনো স্থান, শহর বা নগরে পরিণত হয়। যেমন- সল্টলেক।

আরো পড় → ভারতের শিল্প অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner