নাইট্রোজেন চক্র – প্রশ্ন উত্তর | Nitrogen Chokro – Question Answer

মাধ্যমিকে প্রতিটি অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার সেরা উপায় ↓

WBP-CT-Banner_offer
naitrogen-cokro
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – জীবনবিজ্ঞান | অধ্যায় – নাইট্রোজেন চক্র | Nitrogen Chokro (Chapter 14)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্দশ অধ্যায় – নাইট্রোজেন চক্র থেকে কয়েকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো। (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। বাতাসে নাইট্রোজেন গ্যাসের শতকরা পরিমাণ হল –
ক) 0.08 খ) 20.60 গ) 1.40 ঘ) 78.09

উত্তর- বাতাসে নাইট্রোজেন গ্যাসের শতকরা পরিমাণ হল – ঘ) 78.09.

2। মাটিতে উদ্ভিদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নাইট্রোজেন থাকে –
ক) \(NO_2\) রূপে খ) \(NO_3\) রূপে গ) NO রূপে ঘ) \(NO_2\) এবং \(NO_3\) রূপে

উত্তর- মাটিতে উদ্ভিদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নাইট্রোজেন থাকে – খ) \(NO_3\) রূপে।

3। একটি নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া হল –
ক) নাইট্রোসোমোনাস খ) অ্যাজোটোব্যাকটর গ) নাইট্রোব্যাকটর ঘ) মাইকোব্যাকটেরিয়াম

উত্তর- একটি নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া হল –খ) অ্যাজোটোব্যাকটর।

4। মটর গাছের মূলে বসবাসকারী জীবাণুটি হল –
ক) নস্টক খ) অ্যানাবিনা গ) ক্ল্যামাইডোমোনাস ঘ) রাইবোজিয়াম

উত্তর- মটর গাছের মূলে বসবাসকারী জীবাণুটি হল –ঘ) রাইবোজিয়াম।

5। বায়ু থেকে গ্যাসীয় নাইট্রোজেন গ্রহণকারী একটি নীলাভ – সবুজ শৈবাল হল –
ক) অ্যাজোটোব্যাকটর খ) ক্লসট্রিডিয়াম গ) অ্যানাবিনা ঘ) রাইজোবিয়াম

উত্তর- বায়ু থেকে গ্যাসীয় নাইট্রোজেন গ্রহণকারী একটি নীলাভ – সবুজ শৈবাল হল গ) অ্যানাবিনা।

6। ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস (Bacillus mycoides) হল একপ্রকার –
ক) মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া খ) অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া গ) ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ঘ) ইউরিফাইং ব্যাকটেরিয়া

উত্তর- ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস (Bacillus mycoides) হল একপ্রকার –খ) অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া।

7। সিউডোমোনাস জীবাণুটি নাইট্রোজেন চক্রের নীচের কোন্‌ ধাপের সাথে যুক্ত?
ক) নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ খ) নাইট্রিফিকেশন গ) ডিনাইট্রিফিকেশন ঘ) অ্যামোনিফিকেশন

উত্তর- সিউডোমোনাস জীবাণুটি নাইট্রোজেন চক্রের গ) ডিনাইট্রিফিকেশন ধাপের সাথে যুক্ত।

8। মাটির নাইট্রেট বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ার প্রথমে অ্যামোনিয়া এবং পরে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মেশে। এই প্রক্রিয়াকে বলে –
ক) নাইট্রিফিকেশন খ) অ্যামোনিফিকেশন গ) ডিনাইট্রিফিকেশন ঘ) সিমবায়োসিস

উত্তর- মাটির নাইট্রেট বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ার প্রথমে অ্যামোনিয়া এবং পরে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মেশে। এই প্রক্রিয়াকে বলে গ) ডিনাইট্রিফিকেশন।

9। ওজোন গহ্বর সৃষ্টিতে দায়ী নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ হল –
ক) \(N_2\) খ) NO ও \(NO_2\) গ) \(HNO_3\) ও \(HNO_2\) ঘ) \(NH_3\)

উত্তর- ওজোন গহ্বর সৃষ্টিতে দায়ী নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ হল – খ) NO ও \(NO_2\)

10। নাইট্রোজেন চক্রের নাইট্রিফিকেশন নামক ধাপটির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যই হল –
ক) মৃত জীবদেহের প্রোটিন বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়া গঠন
খ) অ্যামোনিয়া থেকে প্রথমে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রেট গঠন
গ) নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন গঠন
ঘ) নাইট্রোজেন থেকে অ্যামোনিয়া গঠন

উত্তর- নাইট্রোজেন চক্রের নাইট্রিফিকেশন নামক ধাপটির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যই হল – খ) অ্যামোনিয়া থেকে প্রথমে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রেট গঠন।

আরো পড়ো → হারিয়ে যাওয়া কালি কলম গল্পের প্রশ্ন উত্তর

একটি বাক্যে উত্তর দাও। (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। একটি গ্যাসের নাম লেখো যা উদ্ভিদের প্রয়োজন, কিন্তু উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্যাসটিকে সরাসরি গ্রহনে অক্ষম।
উত্তর- উদ্ভিদের প্রয়োজন, কিন্তু উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্যাসটিকে সরাসরি গ্রহনে অক্ষম এমন একটি গ্যাসের নাম নাইট্রোজেন (\(N_2\))।

2। দুটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর- দুটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদের নাম হল সূর্যশিশির ও ড্রসেরা।

3। দুটি নাইট্রোজেন স্থিতিকারী (nitrogen fixiong) ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর- দুটি নাইট্রোজেন স্থিতিকারী (nitrogen fixiong) ব্যাকটেরিয়ার নাম হল ক্লসট্রিয়াম ও অ্যাজটোব্যাকটর।

4। শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের অর্বুদে উপস্থিত গোলাপি বর্ণের রঞ্জক পদার্থের নাম কী?
উত্তর- শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের অর্বুদে উপস্থিত গোলাপি বর্ণের রঞ্জক পদার্থের নাম হল লেগ হিমোগ্লোবিন।

5। পরিবেশে ছত্রাক কীসের ভূমিকা পালন করে?
উত্তর- পরিবেশে ছত্রাক বিয়োজকের ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ো → তড়িৎ প্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 2/3]

1। জৈব ভূ রাসায়নিক চক্র কাকে বলে?
উত্তর- উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পরিবেশ থেকে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ থেকে পুষ্টি লাভ করে। আবার বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন রেচন পদার্থ হিসেবে অথবা জীবের মৃত্যুর পর পরিবেশে ফিরে আসে। মৌলগুলির চক্রাকার আবর্তনের ঘটনাকে জৈব ভূ রাসায়নিক চক্র বলে।
প্রধানত তিন প্রকারের জৈব ভূ রাসায়নিক চক্র দেখা যায়, যেমন জলচক্র, গ্যাসীয় চক্র এবং পাললিক চক্র।

2। পরিবেশে নাইট্রোজেনের দুটি উৎস লেখ।
উত্তর- পরিবেশে নাইট্রোজেনের মূল উৎস হল বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন।
এছাড়াও মাটিতে নাইট্রেট, নাইট্রাইট ও অন্যান্য যৌগ রূপে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মাটির নাইট্রেট মাটিতে বসবাসকারী ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিশ্লেষিত হয়ে নাইট্রোজেনে রূপান্তরিত হয় এবং এই মুক্ত নাইট্রোজেন বাতাসে নাইট্রোজেনের ভান্ডার গড়ে তোলে।

3। শিম্ব গোত্রীয় উদ্ভিদের চাষ কিভাবে নাইট্রোজেন চক্রকে সাহায্য করে?
উত্তর- শিম্ব গোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে রাইজোবিয়াম নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে, যারা বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণে সক্ষম। এই শোষিত নাইট্রোজেন থেকে তারা নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ তৈরি করতে পারে। নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগের কিছু অংশ তারা শিম্ব গোত্রীয় উদ্ভিদের সরবরাহ করে। এই শিম্ব গোত্রীয় উদ্ভিদের মৃত্যুর পর এই নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায় এবং মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়। তার ফলে নাইট্রোজেন চক্র সঠিকভাবে বজায় থাকে।

4। নাইট্রিফিকেশন তৃতীয় ধাপে কি ঘটনা ঘটে?
উত্তর – নাইট্রোজেন চক্রের তৃতীয় ধাপে দেহ থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে পুনঃপ্রবেশ করে। প্রাণীদের রেচন পদার্থ ও মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহাবশেষ থেকে নাইট্রোজেন যৌগ গুলি বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিভাজিত হয় প্রথমে অ্যামোনিয়া পরে নাইট্রাইট এবং নাইট্রেট যৌগ গঠন করে।
নাইট্রিফিকেশনের ধাপ: i) প্রথমে মাটিতে উপস্থিত অ্যামোনিয়া অনুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয়ে নাইট্রাইট (\(NO_2\)) তৈরি করে।
অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে পরিণত করতে সক্ষম নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া হল- নাইট্রোসোমোনাস (Nitrosomonas sp.), নাইট্রোকক্কাস (Nitrococcus sp.), নাইট্রোস্পাইরা (Nitrospira sp.) ইত্যাদি।
\(2NH_4^+ + 3O_2 = 4NO^{2-} + 2H^+ + 2H_2O\)
ii) পরে এই নাইট্রাইট যৌগ অনুজীবের সংস্পর্শে এসে নাইট্রেট (NO3) যৌগে পরিণত হয়।
নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে পরিণত করতে সক্ষম নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া হল- নাইট্রোব্যাক্টর (Nitrobactor sp.), নাইট্রোসিসটিস (Nitrocystis sp.) ইত্যাদি।
\(2NO^{2-} + O_2 = 2NO_3\)

5। \(N_2\) চক্রে অণুজীবের ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রের প্রথম পর্যায় অর্থাৎ নাইট্রোজেন স্থিতিকরণে বিভিন্ন অনুজীব সাহায্য করে। অনুজীবের সাহায্যে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণকে জীবজ নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে। সাধারণত দুই প্রকার অনুজীব দ্বারা এই জীবজ নাইট্রোজেন সংবন্ধন সম্ভব। যেমন-
a) স্বাধীনজীবী অনুজীব দ্বারা – মাটিতে বসবাসকারী বেশকিছু নাইট্রোজেন স্থিতিকারী অনুজীব বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করে নিজেদের দেহে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ গঠন করে। যেমন – ক্লস্ট্রিডিয়াম (Clostridium sp.), অ্যাজোটোব্যাক্টর (Azotobacter sp.) ইত্যাদি স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যানাবিনা (Anabaena sp.), নস্টক (Nostoc sp.) ইত্যাদি সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল।
b) মিথোজীবী অনুজীব দ্বারা- বিভিন্ন প্রকার শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদ যেমন ছোলা, মটর, শিম, মুসুর প্রভৃতি উদ্ভিদের মূলে গুটির মত স্ফীত অংশ দেখা যায়। এই স্ফীত অংশে রাইজোবিয়াম নামক একপ্রকার মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া বাস করে যা উদ্ভিদ দেহে উৎপন্ন শর্করাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ তৈরি করে এবং যার কিছু অংশ আশ্রয়দাতা উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বাকিটা নিজের দেহে সঞ্চয় করে রাখে। পরবর্তীকালে এই সমস্ত ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যুর পর এই নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়। শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের দেহে লেগ হিমোগ্লোবিন নামক হিমোগ্লোবিন সদৃশ এক প্রকার জৈব যৌগ উপস্থিত থাকে। ফলে কেবলমাত্র এই গোত্রের উদ্ভিদের মূলেই রাইজোবিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়াও অ্যানাবিনা (Anabaena sp.) নামক নীলাভ সবুজ শৈবাল, অ্যাজোলা (Azolla sp.) নামক ফার্নের পাতার গহ্বরে এবং সাইকাস (Cycas sp.) নামক ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের মূলেও রাইজোবিয়ামের উপস্থিত থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে। এই শৈবালগুলি মুক্ত অবস্থাতেও নাইট্রোজেন সংবন্ধন করতে পারে।

6। নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হলে ভূনিম্নস্থ জল মাটি ও জলাশয় এর অম্লীকরণ ঘটে- উক্তির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর- নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হলে মাটিতে আবদ্ধ নাইট্রোজেনের মুক্তি ঘটে না, ফলে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যায়।
তাছাড়াও নাইট্রোজেন অক্সাইড, বাতাসে উপস্থিত অন্যান্য নাইট্রোজেন যুক্ত অক্সাইড যেমন নাইট্রাইট, নাইট্রেট এবং সালফার ডাই অক্সাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়। এর ফলে ভূনিম্নস্থ জল মাটি ও জলাশয় এর আম্লিককরণ হয়। ফলে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়।

7। মানুষের ক্রিয়া-কলাপ এর ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে- দুটি ঘটনা উল্লেখ করে যথার্থতা প্রমাণ করো।
উত্তর- নাইট্রোজেন চক্রের মাধ্যমে প্রকৃতিতে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়া-কলাপ এর ফলে এই নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে। যেমন-
ক) নাইট্রোজেনযুক্ত সার প্রয়োগ- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা অনুসারে বেশি ফলনের আশায় বর্তমানে অধিক পরিমাণে নাইট্রোজেনযুক্ত সার প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে জল, বায়ু ও মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে।
খ) জীবাশ্ম জ্বালানি দহন- বিভিন্ন রকমের জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল ইত্যাদি দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। যা বাতাসে মিশে বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এছাড়াও অটোমোবাইল কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রভৃতি জায়গায় প্রচুর পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন ঘটে থাকে।

আরো পড়ুন → বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা

দীর্ঘভিত্তিক প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। প্রাকৃতিক, জৈব, শিল্পজাত পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করণের একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর:
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ – বজ্রপাতের সময় বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন পরস্পর যুক্ত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। নাইট্রিক অক্সাইড পুনরায় অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড তৈরি করে। বৃষ্টির জলের সাথে এই নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড বিক্রিয়া করে নাইট্রাস এবং নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয় এবং মাটিতে মেশে। মাটিতে থাকা বিভিন্ন রকম খনিজ লবণ যেমন ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম ইত্যাদির সঙ্গে নাইট্রাস এবং নাইট্রিক অক্সাইড মিশে বিভিন্ন নাইট্রেট যৌগ যেমন ক্যালসিয়াম নাইট্রেট,পটাশিয়াম নাইট্রেট ইত্যাদি উৎপন্ন করে।
\(N_2 + O_2\)→ \(2NO\) (নাইট্রিক অক্সাইড)
\(2NO + O_2\) → \(2NO_2\) (নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড)
\(2NO_2\) + \(H_2O\) → \(HNO_2\) (নাইট্রাস অ্যাসিড) + \(HNO_3\) (নাইট্রিক অ্যাসিড)
জৈব পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ – সাধারণত দুই প্রকার অনুজীব দ্বারা এই জীবজ নাইট্রোজেন সংবন্ধন সম্ভব। যেমন – স্বাধীনজীবী অনুজীব দ্বারা ও মিথোজীবী অনুজীব দ্বারা মাটিতে সংবন্ধন হয়।
ক্লস্ট্রিডিয়াম , অ্যাজোটোব্যাক্টর ইত্যাদি কিছু স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়া যেমন – অ্যানাবিনা, নস্টক ইত্যাদি সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেনকে শোষণ করে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ তৈরি করে। বিভিন্ন প্রকার শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে গুটির মত অংশ বাস করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ তৈরি করে এবং যার কিছু অংশ আশ্রয়দাতা উদ্ভিদকে সরবরাহ করে। এই উদ্ভিদের মৃত্যুর পর এই নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়।
শিল্পজাত পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ – ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম ফসফেট ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত সার জমিতে প্রয়োগ করলে তা মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানা থেকে নিঃসৃত বর্জ্যের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে, সেই বর্জ্যপদার্থ নদীতে গিয়ে পড়ে জলে মিশে জলের নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। পরবর্তীকালে বন্যার সময় সেই জল আশেপাশের চাষের জমিতে গিয়ে মেশে তার ফলেও জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুন → অভিযোজন অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner