বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন প্রশ্ন ও উত্তর | Bish Shotoker Bharote Krishok Shromik Bamponthi Andolon Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
bish-shotoker-varote-krishok-shromik-bamponthee-andolon
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – বিশ শতকের ভারতে কৃষক আন্দোলন | bish shotoker bharote krishok andolon (Chapter 6)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগের ষষ্ট অধ্যায় – বিশ শতকের ভারতে কৃষক আন্দোলন থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা। প্রশ্ন উত্তর আলোচনা শুরু করার আগে, আমরা তোমাদের একটি বিশেষ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

আমরা জানি যে ভালোভাবে প্রশ্ন – উত্তর তৈরি করলেও পরীক্ষায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে লিখতে পারে না। এই সমস্যার একটি সমাধান আমরা তোমাদের দিতে চাই; লক্ষ্য করবে প্রতিটি বড় প্রশ্নের শেষে আমরা কয়েকটি বিশেষ KeyPoints উল্লেখ করেছি। ঐ বড় প্রশ্নগুলির মূল বিষয়গুলিই KeyPoints হিসাবে তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ঐ KeyPoints গুলো যদি তোমরা মনে রাখতে পারো আমাদের বিশ্বাস সেক্ষেত্রে বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন-
(ক) রাজেন্দ্র প্রসাদ (খ) জওহরলাল নেহেরু (গ) গান্ধিজী (ঘ) যুগলচন্দ্র বসু

উত্তর- আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন- (গ) গান্ধিজী।

2। সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি ছিলেন-
(ক) লালা লাজপত রায় (খ) লোকমান্য তিলক (গ) এন জি রঙ্গ (ঘ) জওহরলাল নেহেরু

উত্তর- সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি ছিলেন- (ক) লালা লাজপত রায়।

3। ভারতে 1925 খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট পার্টি স্থাপিত হওয়ার পূর্বে ভারতের বাইরে প্রথম ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-
(ক) তাসখন্দে (খ) কাবুলে (গ) বার্লিনে (ঘ) মেক্সিকোয়

উত্তর- ভারতে 1925 খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট পার্টি স্থাপিত হওয়ার পূর্বে ভারতের বাইরে প্রথম ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল- (ক) তাসখন্দে।

4। গান্ধিজী ‘ভারতছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দেন-
(ক) 1930 খ্রি: (খ) 1932 খ্রি: (গ) 1938 খ্রি: (ঘ) 1942 খ্রি:

উত্তর- গান্ধিজী ‘ভারতছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দেন- (ঘ) 1942 খ্রি:।

5। ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ প্রতিষ্ঠা করেন-
(ক) সুভাষচন্দ্র বসু (খ) জওহরলাল নেহেরু (গ) জয় প্রকাশ নারায়ণ (ঘ) রামমনোহর লোহিয়া

উত্তর- ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ প্রতিষ্ঠা করেন- (ক) সুভাষচন্দ্র বসু।

6। 1929 খ্রি: ‘শিল্প বিরোধ’ বিল পাস করা হয়-
(ক) বিপ্লবীদের দমনের জন্য
(খ) শিল্পপতিদের উতসাহ দেওয়ার জন্য
(গ) শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে বিরোধ মেটানোর জন্য
(ঘ) শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য

উত্তর- 1929 খ্রি: ‘শিল্প বিরোধ’ বিল পাস করা হয়- (ঘ) শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য।

7। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় বাংলায় জাতীয় সরকার গড়ে ওঠে
(ক) মেদিনীপুরে (খ) ঢাকায় (গ) দিনাজপুর (ঘ) কুমিল্লায়

উত্তর- ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় বাংলায় জাতীয় সরকার গড়ে ওঠে (ক) মেদিনীপুরে।

8। ব্রুমফিল্ড- ম্যাক্সওয়েল তদন্ত কমিটি গঠিত হয়-
(ক) মোপলা কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে
(খ) বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রেক্ষিতে
(গ) একা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে
(ঘ) রাজস্থানের কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে

উত্তর- ব্রুমফিল্ড- ম্যাক্সওয়েল তদন্ত কমিটি গঠিত হয়- (খ) বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রেক্ষিতে।

9। জাতীয় কংগ্রেসে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ছিলেন-
(ক) গান্ধিজী (খ) বল্লভভাই প্যাটেল (গ) মৌলানা আজাদ (ঘ) জহরলাল নেহেরু

উত্তর- জাতীয় কংগ্রেসে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ছিলেন- (ঘ) জহরলাল নেহেরু।

10। অসহযোগ আন্দোলনের সময় চৌকিদারি কর ও ইউনিয়ন বোর্ড বয়কট করে-
(ক) বর্ধমান জেলা (খ) মেদিনীপুর জেলা (গ) বীরভূম জেলা (ঘ) ঢাকা জেলা

উত্তর- অসহযোগ আন্দোলনের সময় চৌকিদারি কর ও ইউনিয়ন বোর্ড বয়কট করে- (খ) মেদিনীপুর জেলা।

আরো পড়ুন → ভারতের কৃষি – প্রশ্ন উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। All India Trade Union Congress কবে স্থাপিত হয়?
উত্তর- All India Trade Union Congress স্থাপিত হয় 1920 সালে।
2। মোপলা বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল?
উত্তর- মোপলা বিদ্রোহ হয়েছিল কেরালায়।
3। আইন অমান্য আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উত্তর- আইন অমান্য আন্দোলন কবে শুরু হয় 1930 সালে।
4। সারা ভারত কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর- সারা ভারত কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন সহজানন্দ সরস্বতী।
5। অসহযোগ আন্দোলন কবে শুরু হয়?
উত্তর- অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় 1920 সালে।

আরো পড়ুন → ভেদ অধ্যায়ের গাণিতিক সমাধান

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে জনগণ কেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে?
উত্তর- ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বশেষ বৃহত্তর ও স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন হলো ভারত ছাড়ো আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী ঘোষনা করেন যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ত্যাগ করতে হবে নাহলে কংগ্রেস প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নামবে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের পুঞ্জীভুত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই আন্দোলনের মাধ্যমে। পুরুষ নারী নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এই ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ, পূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্খা থেকেই মানুষ স্বঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নেয়।

2। মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কী?
উত্তর- কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের কঠোর দমননীতির অন্যতম উদাহরণ হলো মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা। বিংশ শতাব্দীর বিশের দশক থেকেই বামপন্থীদের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী শ্রমিক আন্দোলন ব্যাপক রূপ ধারণ করে ও তাতে ব্রিটিশ সরকার ভীত হয়ে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে বহু কঠোর দমননীতি গ্রহণ করতে শুরু করে। এই উদ্দেশ্যে 1929 সালে এস এ ডাঙ্গে, মুজাফফর আহমেদ সহ 33 জন কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেফতার করা হয় ও তাদের বিরুদ্ধে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়। এই মামলার রায় অনুযায়ী কমিউনিস্ট নেতাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয় ও কমিউনিষ্টদের প্রচারকার্য নিষিদ্ধ করা হয়।

3। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠার পটভূমি কী?
উত্তর- 1939 সালে সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে কংগ্রেসের মধ্যেই একটি আন্ত সংগঠন হিসাবে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠিত হয়। সুভাষ বসু কংগ্রেসের আপোস নীতির বিরোধী ছিলেন ও তিনি মনে করতেন কংগ্রেসের উচিত ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য একটি চরমপত্র ব্রিটিশ সরকারকে প্রদান ও শক্তিশলী আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এই প্রেক্ষাপটেই 1939 সালে জুলাই মাসে সর্বভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ও ফরওয়ার্ড ব্লকের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

4। ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে 1920 খ্রিস্টাব্দ উল্লেখযোগ্য কেন?
উত্তর- 1920 সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অসহযোগ আন্দোলনে শ্রমিক সমাজ ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর পিছনে একটি বড় কারণ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের তীব্র আর্থিক সংকট,দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও শাসক শ্রেণীর অত্যাচার, যা তাদের এক হতে ও সংঘবদ্ধভাবে আন্দোলনে এগিয়ে আসতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। এই 1920 সালেই লালা লাজপত রাই-এর সভাপতিত্বে গড়ে ওঠে নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস। পিসি যোশী, বিপি ওয়াদিয়া, বাল গঙ্গাধর তিলক প্রমুখেরা ছিলেন এর অন্যতম সদস্য। এই সংগঠনই পরবর্তীতে ব্রিটিশ বিরোধী শ্রমিক আন্দোলনগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

5। বাবা রামচন্দ্র কোথায় কোন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন?
উত্তর- 1920-22 সালে অসহযোগ আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে ও তাতে কৃষকরাও যোগ দেয়। এই সময় উত্তরপ্রেশের ফৈজাবাদ, রায়বেরিলি, প্রতাপগর প্রমুখ এলাকায় বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে কিষান আন্দোলন ও খাজনা বন্ধ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। বাবা রামচন্দ্র কূর্মি কিষান সভা গড়ে তুলে আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করতে থাকেন, এই কুর্মি সম্প্রদায়ের কৃষকদের বেগার খাটানো ,অত্যধিক খাজনা বৃদ্ধি প্রভৃতি ভাবে হেনস্থা করতে থাকে সরকার, যার প্রতিবাদে তারা সরব হয়ে ওঠে ও বাবা রামচন্দ্রর নেতৃত্বে বিদ্রোহে অবতীর্ন হয়।

আরো পড়ুন → হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৪]

1। অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজের কি অবদান ছিল?
উত্তর- গান্ধীজির পরিচালনায় ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রথম অহিংস আন্দোলন ছিল অসহযোগ আন্দোলন ও এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের ভারতীয় নারী এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় ও চিরাচরিত রক্ষণশীল ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন সভায় ও যোগদান ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। গান্ধীজির ডাকে সাড়া দিয়ে বহু নারী বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে দেশীয় বস্ত্র সহ অন্যান্য দ্রব্য ব্যবহার করতে শুরু করে ও নিজের হাতে সুতো কাটা, কাপড় বোনার মাধ্যমে স্বদেশী বা দেশাত্মবোধে জাগরিত হয়। কয়েকজন সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য নারী যাঁরা এই অসহযোগ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন সরোজিনী নাইডু(হায়দ্রাবাদ) ,নেলি সেনগুপ্ত, বাসন্তী(বাংলা) দেবী, উর্মিলা দেবী(বাংলা), কমলা দেবী চট্টপাধ্যায়(কর্ণাটক), মতিলাল নেহেরু র স্ত্রী স্বরূপা রানী , জওহরলাল নেহেরুর স্ত্রী কমলা নেহেরু প্রমুখ। এঁরা প্রায় সবাই বিভিন্নভাবে এই আন্দোলনে এগিয়ে আসেন, বাসন্তী দেবী নারী সত্যাগ্রহ সমিতি ও কর্মমন্দির গঠন করেন, উর্মিলা দেবী কলকাতায় প্রিন্স অব ওয়েলসের আসার দিন হরতালের ডাক দেন। এভাবেই নারীসমাজ অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
KeyPoints
বিভিন্ন স্তরে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা – বিদেশি দ্রব্য বর্জন – স্বদেশী দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি – কিছু প্রগতিশীল নারীর উল্লেখ

2। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কৃষকশ্রেণির ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর- 1905 সালে হওয়া বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন গ্রামীন সমাজে ততটা স্থায়ীত্ব পায়নি। মূলত কৃষক শ্রেণীর মধ্যে এই আন্দোলন বিশেষ একটা জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। বহু জমিদার শ্রেণীর মানুষ এই আন্দোলনে নিজেদের সামিল করলেও কৃষকরা এই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। এই বিষয়ে অধ্যাপক সুমিত সরকার তার “Modern India” গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে বঙ্গভঙ্গর সাথে যুক্ত নেতারা জমিদার শ্রেণীর অর্থসাহায্যর ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল ছিল ও জমিদারদের সেই অর্থ আসতো কৃষক সমাজের থেকে খাজনা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের নেতারা মূলত খাজনা বন্ধের বিরুদ্ধে ছিল অপরদিকে কৃষক সমাজ ছিল খাজনা বন্ধের পক্ষে। এই বিষয়ে নম:শূদ্র সম্প্রদায়ের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা প্রয়োজন কারণ তাদের অধিকাংশই ছিল কৃষক। ঐতিহাসিক শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন এরা মূলত শাসকগোষ্ঠীর সাথে সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করে কারণ তারা ভাবে যে সরকার তাদের মতো সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষদের সুবিধাদান করবে।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে মুসলিম কৃষক সমাজের অংশগ্রহণ না করাও এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব যেভাবে তাদের কাছে পেশ করা হয়েছিল তা থেকে তারা ভাবে যে বঙ্গভঙ্গ হলে মুসলমান সম্প্রদায়ের হয়ত উপকারই হবে। এই সমস্ত নানান কারণে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত।
KeyPoints
জমিদার ও কৃষক সম্প্রদায়ের আভ্যন্তরীণ বৈষম্য – আন্দোলনকারিদের সাথে কৃষক সম্প্রদায়ের চাহিদার বৈষম্য – নম:শূদ্র সম্প্রদায়ের ভূমিকা – মুসলিমদের ভূমিকা

3। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অবদান মূল্যায়ন করো।
বিকল্প প্রশ্ন – মানবেন্দ্র রায় কি জন্য বিখ্যাত?

উত্তর- ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন মানবেন্দ্রনাথ রায়। জার্মানি থেকে অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি 1915 সালে ভারত ত্যাগ করেন ও 1920 সালে তাসখন্দে তাঁর নেতৃত্বেই কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবেন্দ্রনাথ রায় বার্লিনে তাঁর দলের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন ও মুখপত্র প্রকাশ করেন। এই মুখপত্রের নাম হলো ‘vanguard of Indian Independence’। মূলত মানবেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগেই ভারতে নানা প্রান্তে কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গড়ে উঠতে শুরু করে ও যার চূড়ান্ত প্রতিফলন লক্ষ্যনীয় হয় 1925 সালে কানপুরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের মধ্যে দিয়ে। তাঁর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি যে বিষয়টি তুলে ধরে তা হলো দ্বিস্তর আন্দোলন, যা হল মূলত জাতীয় আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে আইনগত ও বৈধভাবে আন্দোলন করা ও গোপনে শ্রমিক-কৃষক সংগঠন দ্বারা দলের নিজস্ব ভিত্তি শক্ত করা। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের লেখা বিখ্যাত গ্রন্থটি হলো ‘India in Transition’। তিনি 1954 সালের 25শে জানুয়ারি ইহলোক ত্যাগ করেন।
KeyPoints
কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা ও মানবেন্দ্রনাথ রায় – মুখপত্রের নাম – ভারতের নানা প্রান্তে কমিউনিস্ট পার্টির শাখা বিস্তার – ‘India in Transition’ এর উল্লেখ

4। সারা ভারত কিষাণ সভার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর- 1936 সালে নিখিল ভারত কিষান সভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে এম.জি.রঙ্গ ও ই এম এস নাম্বুদ্রিপাদ কিষান সভা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন ও দক্ষিণ ভারতে 1935 সালে দক্ষিণ ভারতীয় কৃষক নামক সংস্থা গড়ে তোলে। 1936 সালে গড়ে ওঠা নিখিল ভারত কিষান সভার প্রথম অধিবেশন বসে লখনৌতে যার সভাপতিত্ব করেন স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী যিনি ছিলেন বিহারের একজন কৃষক নেতা। কিষান সভা প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল সেগুলি হলো প্রথমত, জমিদারি প্রথার উচ্ছেদসাধন – কারণ জমিদারি প্রথা ছিল কৃষকদের সামগ্রিক দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার মুখ্য কারণ দ্বিতীয়ত, তৎকালীন সরকার কৃষকদের ওপর খাজনার হার অত্যধিক পরিমাণে বৃদ্ধি করে ফলে কৃষকদের অবস্থা সঙ্গিন হয়ে ওঠে। কিষান সভার উদ্দেশ্য ছিল খাজনার পরিমান অন্ততপক্ষে 50% হ্রাস করানো। তৃতীয়ত, কৃষকরা ঋণএর জালে প্রায়ই জড়িয়ে পড়ে সর্বশ্রান্ত হতো, সেই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য কিষান সভা পদক্ষেপ নেবে ঠিক করে চতুর্থত, কিষান সভার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পতিত ও খাস জমি সঠিকভাবে কৃষকদের মধ্যে বন্টন করানো। পঞ্চমত, বনজ সম্পদের ওপর কৃষকদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ছিল কিষান সভার অন্যতম লক্ষ্য,কারণ ইতিপূর্বে ব্রিটিশ সরকার বেশ কিছু অরণ্য আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই অধিকার থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করেছিল।
কিষান সভার প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে ভারতীয় কৃষক শ্রেণী স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করে ও নিখিল ভারত কিষান সভা গঠনের মাধ্যমে ভারতীয় কৃষক আন্দোলনের নবোদয় ঘটে।
KeyPoints
নিখিল ভারত কিষান সভার প্রতিষ্ঠা – প্রথম সভা ও তার সভাপতিত্ব – কিষান সভার প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেশ্য

আরো পড়ুন → Our Runaway Kite – Question – Answer

রচনাধর্মী প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৮]

1। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের কৃষক আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর- ভারতে ব্রিটিশদের প্রাধান্য বিস্তারের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় কৃষক শ্রেণীর ব্রিটিশ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়। তবে 1919 সাল থেকে অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে থেকে পূর্বকালীন কৃষক আন্দোলনগুলির তুলনায় চরিত্রে বদল আসে ও কৃষক আন্দোলন সেই সময় থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের মুল স্রোতের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়তে থাকে। পূর্বকালীন কৃষক আন্দোলনগুলি মূলত কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজের উপস্থিতি এই আন্দোলনে অতটা সক্রিয় ছিল না,ব্যতিক্রম নীল বিদ্রোহ। তবে 1919-20 সালের কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্বদানে এগিয়ে আসে কিছু আদর্শবাদী মানুষ যারা কৃষক সমাজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে না থাকলেও আন্দোলনে তাদের সমর্থন ও নেতৃত্বদানে অবতীর্ণ হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম জওহরলাল নেহেরু, গুজরাটে বল্লভভাই প্যাটেল প্রমুখ যারা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল ও তৎকালীন কৃষক আন্দোলনগুলিতেও গান্ধীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে থেকে কিষান সভাগুলি প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে যার মাধ্যমে কৃষক আন্দোলনগুলি অনেক সুসংগঠিত হয় উঠতে সক্ষম হয়। কংগ্রেস নেতারাও এই কিষান সভাগুলিতে যুক্ত হতে শুরু করে।
পাশাপাশি গান্ধীজির নেতৃত্বে 1920 সালে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনের সাথেও কৃষকদের আন্দোলন ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়ে। গান্ধীজীর কৃষক আন্দোলন ও গ্রামোন্নয়নের ডাকে সাড়া দিয়ে বহু কৃষক তার সাথে যুক্ত হয়। কিষান সভাগুলির নেতৃত্বে 1920-21 সালে প্রতাপগড়, রায় বেরিলি,ফৈজাবাদ, সুলতানপুর প্রমুখ স্থানে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়। ব্রিটিশ সরকারের অসহনীয় নীতির বিরূদ্ধে কিষান সভাগুলি প্রতিবাদ গড়ে তুলতে শুরু করে দেয়। উপরোক্ত এলাকাগুলিতে বাবা রামচন্দ্রর নেতৃত্বে ‘খাজনা বন্ধ’ আন্দোলন শুরু হয় কারণ উত্তরপ্রদেশের ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি খাজনা, বেগারি প্রথা প্রভৃতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। 1921 সালের শেষপর্বে ও 1922 সালের সূচনাপর্ব নাগাদ উঃ প: অযোধ্যার বারাবাঁকি, হরদৈ, সীতাপুর, বাহরাইচ প্রভৃতি স্থানে একটি বৃহৎ কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে যা একা আন্দোলন নামে পরিচিত। 1919-20 সালে বিহারের দ্বারভাঙ্গা,ভাগলপুর,পূর্ণিয়া প্রমুখ এলাকায় কৃষকদের ওপর অত্যাচার ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়। অন্যদিকে রাজস্থানে বিদোলিয়া অঞ্চলে বিজয় সিং পথিক ও মানিকলাল বর্মার নেতৃত্বে 1920-21 সালে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত হয়। কিছুটা পরবর্তী সময়ে 1927 এ বারদৌলি সত্যাগ্রহ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
KeyPoints
কৃষক আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদি আন্দোলনের মেলবন্ধন – কৃষক বিদ্রোহের নেতৃবৃন্দ – গান্ধীর ভূমিকা – কিষান সভাগুলির প্রতিষ্ঠা – অসহযোগ আন্দোলনে কৃষকদের যোগদান – বিভিন্ন স্থানে কৃষক আন্দোলন গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

2। বিংশ শতকের ভারতে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর- ভারতে বামপন্থার উদ্ভব 1920 এর দশকে। 1920 সালে রাশিয়ার তাসখন্দে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বেশ কিছু সদস্য ভারতে চলে আসে ও কলকাতা ,মাদ্রাজ,বোম্বাই, লাহোর প্রভৃতি স্থানে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। এই সংগঠনগুলি ১৯২৫ সালে কানপুরে মিলিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিঙ্গারাভেলু চেটিয়ার। ভারতে বিশের দশক ও তার পরবর্তীতে কংগ্রেসের প্রভাব একচেটিয়া থাকলেও সম্পূর্ন পৃথক মতাদর্শে গড়ে ওঠা বামপন্থী রাজনীতি ও আন্দোলনও যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে ওঠে ও প্রসারিত হয়। বামপন্থীরা শুরু থেকেই ব্রিটিশ সরকারের তীব্র বিরোধী ছিল ও মনে করত ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের মুক্ত হওয়া আবশ্যিক। তবে কংগ্রেসের তৎকালীন বিভিন্ন আন্দোলনে বামপন্থীদের বিরোধিতা ছিল লক্ষনীয়।
বামপন্থীরা ইয়ং কমরেডস লীগ,ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টির মত সংগঠন গড়ে তুলে ব্রিটিশ বিরোধিতায় এগিয়ে আসে। বামপন্থী দলগুলি কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর ওপর প্রাধান্য বিস্তারে সক্ষম হয় ও দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর জাতীয় আন্দোলনগুলিতে তাদের সমর্থনে বামপন্থীরা এগিয়ে আসে। তারা যেমন সাইমন কমিশনের বিরোধিতা করে আবার বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলনগুলোকেও সমর্থন করে তাদের সাথে যুক্ত হয়। বামপন্থীরা 1925-29 এই সময়ে গিরনি কামগার ইউনিয়ন(বোম্বে) গড়ে তোলে ও তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বামপন্থীদের মুখপত্র হিসাবে কাজ করে যার মধ্যে বাংলার ‘লাঙল’ও ‘গণবানী’ উল্লেখ্য।
1930 এর দশক থেকে বামপন্থীদের সাথে কংগ্রেসের দূরত্ব বাড়তে থাকে, আইন অমান্য আন্দোলনে বামপন্থীরা অংশগ্রহণ করেনি। বামপন্থী নেতারা মনে করতেন যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়ার সাথে সাথে জমিদার ও মালিক শ্রেণীর অত্যাচারের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে। তারা তাদের শ্রেণীসংগ্রামের চরিত্র ঔপনিবেশিক আমলে বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

KeyPoints
ভারতে বামপন্থার উদ্ভব – বিভিন্ন স্থানে সংগঠন প্রতিষ্ঠা – কংগ্রেসের বিভিন্ন আন্দোলনে বামপন্থীদের বিরোধিতা – ইয়ং কমরেডস লীগ,ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি গঠন – বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ভূমিকা – বামপন্থীদের শ্রেণীসংগ্রামের বিরুদ্ধে লড়াই

আরো পড়ুন → বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ – প্রশ্ন ও উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner