সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ প্রশ্ন – উত্তর | WB Class 10 History Chapter 4 – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
songhoboddhotar-gorar-kotha-question-answer
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ | songhoboddhotar gorar kotha (Chapter 4)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ অধ্যায় – সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা। প্রশ্ন উত্তর আলোচনা শুরু করার আগে, আমরা তোমাদের একটি বিশেষ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

আমরা জানি যে ভালো ভাবে প্রশ্ন – উত্তর তৈরি করলেও পরীক্ষায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে লিখতে পারে না। এই সমস্যার একটি সমাধান আমরা তোমাদের দিতে চাই; লক্ষ্য করবে প্রতিটি বড় প্রশ্নের শেষে আমরা কয়েকটি বিশেষ KeyPoints উল্লেখ করেছি। ঐ বড়প্রশ্নগুলির মূল বিষয়গুলিই KeyPoints হিসাবে তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ঐ KeyPoints গুলো যদি তোমরা মনে রাখতে পারো আমাদের বিশ্বাস সেক্ষেত্রে বড়প্রন্সের উত্তর লিখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) অনুযায়ী ভারতের রাজপ্রতিনিধি হিসেবে প্রথম নিযুক্ত হন- [পর্ষদ নমুনা]
(ক) লর্ড ডালহৌসি (খ) লর্ড ক্যানিং (গ) লর্ড বেন্টিঙ্ক (ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন

উত্তর-মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) অনুযায়ী ভারতের রাজপ্রতিনিধি হিসেবে প্রথম নিযুক্ত হন (খ) লর্ড ক্যানিং।

২। ভারতসভার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন- [পর্ষদ নমুনা]
(ক) কেশবচন্দ্র সেন) (খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর- ভারতসভার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন (খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩। এখানে আলাদা গোত্রের উপাদানটি হল- [পর্ষদ নমুনা]
(ক) ভারত মাতা (খ) গোরা (গ) আনন্দমঠ (ঘ) বর্ত্তমান ভারত

উত্তর- এখানে আলাদা গোত্রের উপাদানটি হল (ক) ভারত মাতা।

৪। ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল- [মাধ্যমিক ১৭]
(ক) ভারতসভা (খ) ভারতের জাতীয় কংগ্রেস (গ)বঙ্গ ভাষা প্রকাশিকা সভা (ঘ) ল্যান্ড হোল্ডোর্স সোসাইটি

উত্তর-ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল (গ)বঙ্গ ভাষা প্রকাশিকা সভা।

৫। ভারত মাতা চিত্রটি আঁকেন- [মাধ্যমিক ১৭]
(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) নন্দলাল বসু (ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর- ভারত মাতা চিত্রটি আঁকেন (ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৬। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলেছেন- [মাধ্যমিক ১৭,১৮]
(ক) রমেশ্চন্দ্র মজুমদার (খ) সুরেন্দ্রনাথ সেন (গ) বিনায়ক দামোদর সাভারকর (ঘ) দাদাভাই নওরোজি

উত্তর- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলেছেন (গ) বিনায়ক দামোদর সাভারকর।

৭। ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে- [মাধ্যমিক ১৮]
(ক) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে (গ)১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর- ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে (খ) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে।

৮। ভারতসভার প্রথম সভপতি ছিলেন- [মাধ্যমিক ১৮]
(ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) আনন্দমোহন বসু (গ) রেভা কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) শিবনাথ শাস্ত্রী

উত্তর- ভারতসভার প্রথম সভপতি ছিলেন (ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৯। বন্দেমাতরম সংগীতটি রচিত হয়-
(ক) ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে (গ)১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর- বন্দেমাতরম সংগীতটি রচিত হয় (ক) ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে।

১০। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন- [মাধ্যমিক ১৯]
(ক) সঙ্গীত শিল্পী (খ) নাট্যকার (গ) কবি (ঘ) ব্যঙ্গচিত্র শিল্পী

উত্তর- গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন (ঘ) ব্যঙ্গচিত্র শিল্পী।

আরো পড়ুন → হিমবাহের কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। বেগম হজরত মহল ভারতের কোন অঞ্চলের মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ) নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? [মাধ্যমিক ১৬]
উত্তর- বেগম হজরত মহল ভারতের লখনউ অঞ্চলে মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ) নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

২। ভারত মাতা চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিকায় অঙ্কিত? [মাধ্যমিক ১৮]
উত্তর- ভারত মাতা চিত্রটি বঙ্গভঙ্গের পটভূমিকায় অঙ্কিত।

৩। গোরা উপন্যাসটি কে রচনা করেন? [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোরা উপন্যাসটি রচনা করেন।

৪। কে উনিশ শতককে সভা সমিতির যুগ বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তর- ড: অনীল শীল উনিশ শতককে সভা সমিতির যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

৫। আনন্দমঠ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
উত্তর- আনন্দমঠ উপন্যাসের রচয়িতা বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৬। কার উদ্যোগে ভারতসভা গঠিত হয়?
উত্তর- সুরেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ভারতসভা গঠিত হয়।

৭। মহারাণীর ঘোষণাপত্র কবে ঘোষিত হয়?
উত্তর- মহারাণীর ঘোষণাপত্র ১৮৫৮ সালে ঘোষিত হয়।

৮। বর্তমান ভারত কে রচনা করেন?
উত্তর- বর্তমান ভারত স্বামী বিবেকানন্দ রচনা করেন।

৯। হিন্দুমেলা কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর- হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠা করেন নব গোপাল মিত্র।

১০। ব্যাঙ্গচিত্র কি?
উত্তর- চিত্রশিল্পের যে ধারার মাধ্যমে রাজনৈতিক, সামাজিক বা জটিল অর্থনৈতিক বিষয়গুলিকে সহজভাবে হাস্যরসের দ্বারা উপস্থাপন করা যায় তাকেই ব্যাঙ্গচিত্র বলে।

আরো পড়ুন → The passing away of Bapu – Question – Answer

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কীভাবে ঔপনিবেশিক সমাজের সমালোচনা করেছিলেন? [পর্ষদ নমুনা]
উত্তর- গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ঠাকুর বাড়ির সদস্য, সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যাকে তিনি ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে তার চিত্রে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার চিত্রগুলির মধ্যে ‘সংকর জাতের বাঙালি’, ‘রূপান্তর’ প্রভৃতিতে ঔপনিবেশিক সমাজের প্রতি তীব্র শ্লেষের বহিঃপ্রকাশ পাওয়া যায়। এই সকল চিত্রে ব্রিটিশকর্ত্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাঙ্গালিদের ঔপনিবেশিক আদব কায়দার প্রতি ভালবাসার মত সামাজিক পরিবর্তনগুলিকে তিনি তীব্র ব্যাঙ্গের সাহায্যে প্রকাশিত করেছেন।

২। ইলবার্ট বিল কি?
উত্তর- ১৮৮৩ সালের লর্ড রিপনের সময়কালে বেশ কিছু চমৎকৃত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। যাদের মধ্যে ইলবার্ট বিল অন্যতম। রিপন পূর্ববর্তী সময়ে ভারতীয়দের বিচার ব্যবস্থায় অধিকার থাকলেও কোনো ব্রিটিশকে শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা ছিলনা। এই বিল মূলত সেই ব্যবস্থায় ছেদ টানে। এবং বিচার ব্যবস্থাতে সাম্য আনে। এই বিল উত্থাপন করেন উদারমনস্ক রিপনের আইন সদস্য সি.পি.ইলবার্ট। এই বিল ব্রিটিশদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

৩। ল্যান্ড হোল্ডর্স সোসাইটি কি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়? [মাধ্যমিক ২০]
উত্তর- ল্যান্ড হোল্ডর্স সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৭ সালে। একে বলা যায় ভারতের সর্বপ্রথম রাজনৈতিক সংগঠন, এই ল্যান্ড হোল্ডর্স সোসাইটিতে প্রথম সভাপতিত্ব করেন রাধাকান্তদেব, এর গড়ে ওঠার উদ্দ্যেশ্য ছিল মূলত জমিদার শ্রেণির স্বার্থরক্ষা।

৪। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারাণীর ঘোষণাপত্রে দেশীয় রাজাদের প্রতি কি কি ঘোষণা করা হয়েছিল?
উত্তর- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারাণীর ঘোষণাপত্রে দেশীয় রাজাদের উদ্দ্যেশ্য কিছু ঘোষণা করা হয়েছিল।
ক) দেশীয় অপুত্রক রাজাদের পুত্র দত্তকের অধিকার স্বীকৃত হবে।
খ) ব্রিটিশ সরকার আর কোনো রকম সাম্রাজ্য বিস্তার করবেনা।
গ) স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হবে।

৫। উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ভারতমাতার চিত্রটির কিরূপ ভূমিকা ছিল? [মাধ্যমিক ১৯]
বিকল্প প্রশ্ন – ভারতমাতার চিত্র কিভাবে পরাধীন ভারতে জাতিয়তাবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

উত্তর- সংস্কৃত শব্দ ভারতাম্বা শব্দটি থেকে ভারত মাতা শব্দটি এসেছে। এই ‘অম্বা’ কথার অর্থ মা, অর্থাৎ দেশকে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয়তাবোধকে আকার দিয়েছিলেন মাতৃরূপে। যার হাত অস্ত্র, বেদ, ধান ও বস্ত্র, অর্থাৎ মা যেমন তার সন্তানকে অকৃত্রিম ভালবাসায় লালনপালন করে দেশও তেমনি তার দেশবাসিকে জ্ঞান, খাদ্য, বস্ত্র, সুরক্ষা প্রদান করে।

আরো পড়ুন → উদ্ভিদ হরমোন – প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৪]

১। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কিরূপ ছিল? [মাধ্যমিক ১৭,২০]

উত্তর- ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ সমর্থন করেনি, তারা এর থেকে দূরে সরে ছিল। এই শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষরা বিদ্রোহীদের সংস্কারের প্রতি টান ও প্রগতিশীল সমাজের বিরোধিতাকে ভালো চোখে দেখেনি,প্রগতিশীল আধুনিক সমাজব্যবস্থা গঠনে ব্রিটিশদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করত।

শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কিরূপ ছিল তা তৎকালীন সংবাদপত্র থেকে প্রমান পাওয়া যায়,বিদ্রোহীদের সশস্ত্র আক্রমণের নিন্দা করে এই শিক্ষিত সমাজ বিভিন্ন সংবাদপত্রে,যার মধ্যে ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ উল্লেখযোগ্য। বেশ কয়েকজন বাঙালি শিক্ষিত সমাজের প্ৰতিনিধিগণ ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য দেখায় ও ইংরেজদের বিজয় প্রার্থনা করে। এমনকি বহু জমিদার শ্রেণীর মানুষ যেমন রাজা রাধকান্ত দেব, রাজা কালীকৃষ্ণ প্রমুখরাও সরকারকে সহায়তার বার্তা ও আশ্বাস দেন।

বিভিন্ন ঐতিহাসিকগন মহাবিদ্রোহে বাঙালি শিক্ষিত সমাজের মনোভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। প্রমোদ সেনগুপ্তের মতে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এই সকল মানুষেরা বিদ্রোহীদের বিরোধীতা করেন। আবার শ্যামাপ্রসাদ বসুর মত কিছু আধুনিক ঐতিহাসিকগণ মনে করেন যে সকলেই বিদ্রোহীদের বিরোধিতা করেছিল এমনটা ঠিক নয়,কিছু ব্যাতিক্রমী ছিল যারা বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থনশীলও ছিল।
KeyPoints
শিক্ষিত শ্রেণীর বিদ্রোহীদের বিরোধিতা – সংবাদপত্রের ভূমিকা – জমিদার শ্রেণির ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য – বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণের মতামত

২। হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল? [মাধ্যমিক ১৯]

উত্তর- ভারতীয়দের মধ্যে স্বাদেশিকতার ভাব জাগরণে যে কয়েকটি সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তার মধ্যে হিন্দুমেলা বিশেষ উল্লেখ্য। ১৮৬৭ সালে বাংলার ঠাকুর পরিবারের সহযোগিতায় রাজনারায়ণ বসু,দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নবগোপাল মিত্রের যৌথ তত্বাবধানে হিন্দুমেলার আয়োজন করা হয়,এই মেলা স্বদেশী মেলা বা জাতীয় মেলা নামেও পরিচিত ছিল।

হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্যে ছিল কেবলমাত্র আবেদন-নিবেদন নীতির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে যুবকদের শারীরিক সক্ষমতা গঠনের মধ্যে দিয়ে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও স্বদেশপ্রেমের বিস্তার ঘটানো। রাজনারায়ন বসু ও নবগোপাল মিত্র মনে করতেন ভারতীয় যুবকদের মধ্যে স্বদেশপ্রেমের বিস্তার ঘটানোর জন্য একটি সমিতি গঠন প্রয়োজনীয়। নবগোপাল মিত্র এই উদ্দেশ্যেই জাতীয় পত্রিকা প্রকাশ করেন ও জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতা অর্জনই ছিল এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এছাড়া হিন্দুমেলার অন্যতম উদ্দেশ্যগুলি ছিল হিন্দু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা,প্রাচীন হিন্দুধর্মের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা,আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ও ঐক্যবদ্ধভাবে যুবসমাজকে স্বাধীনতা অর্জনে ও স্বদেশিকতায় উদ্বুদ্ধ করা।

KeyPoints
হিন্দুমেলার সূচনা ও উদ্যোক্তাগণ – হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে

৩। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে সভা সমিতির যুগ বলা হয় কেন? [মাধ্যমিক ১৭]
উত্তর- উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ভারতীয়দের মধ্যে ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে ও ভারতীয়রা উপলব্ধি করে যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যে সেইসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও সমিতি প্রতিষ্ঠার সূত্রপাত হয় যেমন – বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা(১৮৩৬খ্রি), জমিদার সভা(১৮৩৮খ্রি), হিন্দুমেলা (১৮৬৭), ইন্ডিয়ান লীগ (১৮৭৫) , ভারতসভা(১৮৭৬খ্রি) প্রভৃতি। এই সভাগুলি তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশদের বিভিন্ন ভ্রান্ত নীতি ও ভারতবাসীর পক্ষে অমঙ্গলজনক নীতিসমূহের বিরোধিতা করতে থাকে। ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট, অস্ত্র আইন,প্রজাস্বত্ব আইন প্রমুখের বিরোধিতা করা ও ইলবার্ট বিলের সমর্থনে এই সভা-সমিতিগুলি এগিয়ে আসে। এই সবকিছু বিচার করে ঐতিহাসিক ড: অনিল শীল এই পর্বকে “Age of Association” বা সভা-সমিতির যুগ বলে অভিহিত করেছেন। সভা সমিতির আবির্ভাব হলো ঊনবিংশ শতকের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও ভারতের জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিকাশের প্রত্যক্ষ ফল, যা ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সুদূরপ্রসারী করে তুলেছিল।
KeyPoints
ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ – বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও সমিতির উল্লেখ – বিভিন্ন আইনের বিরোধিতা – ড: অনিল শীলের উল্লেখ

আরো পড়ুন → প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

রচনাধর্মী প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৮]

১। দেশপ্রেমের বিকাশে বঙ্কিম চন্দ্র ও বিবেকানন্দের ভূমিকা কি ছিল? [পর্ষদ নমুনা]
উত্তর- ঊনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে তার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলেন প্রথম ভারতীয় গ্রাজুয়েট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্য সম্রাট সত্ত্বার পাশাপাশি তার দেশপ্রেমের পরিচয়ও আমারা পাই। বঙ্কিমচন্দ্রর বহু লেখাই জাতীয়তাবাদ ও চরমপন্থার উৎস হিসেবে কাজ করেছিল। বঙ্কিমচন্দ্র মনে করতেন এ দেশের আবহাওয়া, মানুষের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহ্যই তার ভিত্তি হতে পারে। তাঁর লেখা আনন্দমঠ ও বন্দেমাতরম ভারতবাসীর দেশপ্রেমের বিকাশে সবচেয়ে বৃহৎ অবদান। ছিয়াত্ত্বরের মন্বন্তর ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিকায় লেখা আনন্দমঠ ও সেখানে দেশমাতৃকা রূপে দেশকে দেখানো ও বন্দেমাতরম গান দেশের মানুষের মনে স্বদেশিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে। আনন্দমঠ দেশের যুব বিপ্লবী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে, বিশেষত এক্ষেত্রে উল্লেখ্য হলো অনুশীলন সমিতি। তাছাড়াও দেশকে মা বলে সম্বোধন করে বঙ্কিমচন্দ্র যুবসমাজের কাছে এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেন,বহু নারীও এই দেশপ্রেমের ডাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য এগিয়ে আসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বীনা দাস এর মুখ্য উদাহরণ। ঋষি অরবিন্দ যথার্থই বলেছেন যে বঙ্কিমচন্দ্র-এর বন্দেমাতরম ধ্বনি এক নতুন ধর্মের জন্ম দিয়েছিল, যা হলো দেশপ্রেমের ধর্ম।

দেশপ্রেমের বিকাশে আরেক বাঙালির ভূমিকা অপরিসীম, তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। বিবেকানন্দ সমসাময়িক ভারতের সমাজের উন্নতিসাধনে জোর দেন। তিনি সর্বধর্মসমন্বয়ের কথা বলেন ও জাতিভেদ প্রথার নিন্দা করেন। তাঁর গুরু রামকৃষ্ণর মত তিনিও ছিলেন মহান মানবতাবাদী। দেশের মানুষের দারিদ্র্য, দুঃখ, কষ্টে তিনি ব্যথিত হন ও মানবতাবাদী ত্রাণ কার্য ও সামাজিক কাজের উদ্দেশ্যে বহুভাবে এগিয়ে আসেন ও এই উদ্দেশ্যেই রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। বিবেকানন্দ মানুষকে সাম্য, মৈত্রি, ও মুক্তচিন্তার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নের ডাক দেন। চিন্তার স্বাধীনতার প্রসঙ্গেও তিনি মতপ্রকাশ করেন। প্রথমত, ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে সমাজসেবাকে গুরুত্ব দানের মাধ্যমেই বিবেকানন্দ দেশপ্রেমের বিকাশের অন্যতম পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয়ত,বিবেকানন্দের বাণী ভারতীয় যুবসমাজকে উদ্দীপ্ত করে ও তারা স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে, গোটা বাংলাদেশকে তিনি বিপ্লবের মন্ত্রে জাগিয়ে তোলেন তৃতীয়ত, রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে না থেকেও বিবেকানন্দর দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়,তাঁর লেখা আত্মজীবনী ভারতপথিক ভারতবাসীর কাছে অমূল্য রত্ন, গান্ধীজিও বিবেকানন্দর লেখা পাঠ করে দেশপ্রেমের আবহে ভেসে যান।
KeyPoints
জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে আনন্দমঠ ও বন্দেমাতরমের অবদান – বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের দৃষ্টিভঙ্গী – রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য – চিন্তার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিবেকানন্দের দৃষ্টিভঙ্গী

আরো পড়ুন → প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner