আঞ্চলিক শক্তির উত্থান – প্রশ্ন উত্তর | Ancholik-shaktir-utthan – Question Answer

মাধ্যমিকে পড়া বুঝে নম্বর পাবার সেরা উপায় 👇

jump-magazine-banner-ad
ancolik-shoktir-utthan
শ্রেণি – অষ্টম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান | Ancolik shoktir utthan (Chapter 2)

এই পর্বে রইল অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় অধ্যায় – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান – থেকে রইল সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা। প্রশ্ন উত্তর আলোচনা শুরু করার আগে, আমরা তোমাদের একটি বিশেষ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। আমরা জানি যে ভালোভাবে প্রশ্ন – উত্তর তৈরি করলেও পরীক্ষায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে লিখতে পারে না। এই সমস্যার একটি সমাধান আমরা তোমাদের দিতে চাই; লক্ষ্য করবে বড় প্রশ্নের শেষে আমরা কয়েকটি বিশেষ KeyPoints উল্লেখ করেছি। ঐ বড় প্রশ্নগুলির মূল বিষয়গুলিই KeyPoints হিসাবে তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ঐ KeyPoints গুলো যদি তোমরা মনে রাখতে পারো আমাদের বিশ্বাস সেক্ষেত্রে বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। হায়দ্রাবাদ রাজ্যকে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) মহম্মদ শাহ (খ) ফাররুখশিয়র (গ) মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি (ঘ) মুবারিজ খান

উত্তর- হায়দ্রাবাদ রাজ্য (গ) মির কামার উদ-দিন খান সিদ্দিকি প্রতিষ্ঠা করেন।

2। দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল –
(ক) নায়েব নাজিমের উপর (খ) নবাব নজম উদ- দৌলার উপর
(গ) ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির উপর (ঘ) রানি ভিক্টোরিয়ার উপর।

উত্তর- দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল (খ) নবাব নজম উদ- দৌলার উপর।

3। ৭৬-এর মন্বন্তর হয়েছিল –
(ক) 1176 বঙ্গাব্দে (খ) 1276 বঙ্গাব্দে (গ) 1376 বঙ্গাব্দে (ঘ) 1476 বঙ্গাব্দে

উত্তর- ৭৬-এর মন্বন্তর হয়েছিল – (ক) 1176 বঙ্গাব্দে ।

4। সিরাজ 1756 খ্রিঃ কলকাতা আক্রমণ করলে ইংরেজরা কোথায় পালিয়ে যায়?
(ক) পলতায় (খ) ফলতায় (গ) বজবজে (ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর- সিরাজ 1756 খ্রিঃ কলকাতা আক্রমণ করলে ইংরেজরা (খ) ফলতায় পালিয়ে যায়।

5। বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন –
(ক) ভেরেলেস্ট (খ) রবার্ট ক্লাইভ (গ) লর্ড ক্যানিং (ঘ) লর্ড ডালহৌসি

উত্তর- বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন (খ) রবার্ট ক্লাইভ।

6। পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল –
(ক) 1757 খ্রিস্টাব্দের 20 জুন (খ) 1757 খ্রিস্টাব্দের 21 জুন
(গ) 1757 খ্রিস্টাব্দের 22 জুন (ঘ) 1757 খ্রিস্টাব্দের 23 জুন

উত্তর- পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল (ঘ) 1757 খ্রিস্টাব্দের 23 জুন।

7। 1765 খ্রিঃ দেওয়ানি লাভের সময় বাংলার নবাব কে ছিলেন?
(ক) মিরজাফর (খ) মিরকাশিম (গ) নজম -উদ-দৌলা (ঘ) মির-উদ্দিন

উত্তর- 1765 খ্রিঃ দেওয়ানি লাভের সময় বাংলার নবাব ছিলেন (গ) নজম -উদ-দৌলা।

8। মোগল শাসনকে কারা বিপর্যস্ত করেছিল?
(ক) অভিজাতদের দলাদলি (খ) বহিরাক্রমন (গ) জায়গিরদার ও মনসবদারি সংকট (ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর- মোগল শাসনকে বিপর্যস্ত করেছিল (গ) জায়গিরদার ও মনসবদারি সংকট ।

9। অন্ধকূপ হত্যা প্রচারক ছিলেন –
(ক) রজার ড্রেক (খ) অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (গ) হলওয়েল (ঘ) রবার্ট ক্লাইভ

উত্তর- অন্ধকূপ হত্যা প্রচারক ছিলেন (গ) হলওয়েল।

10। অধীনতামূলক মিত্রতা নীতিকে প্রবর্তন করেন-
(ক) ওয়েলেসলি (খ) কর্নওয়ালিস (গ) ডালহৌসি (ঘ) রিপন

উত্তর- অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (ক) ওয়েলেসলি প্রবর্তন করেন।

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মূলধন বিনিয়োগকারীর নাম কী?
উত্তর- মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মূলধন বিনিয়োগকারীর নাম হল জগৎ শেঠ।

2। 1760 খ্রিস্টাব্দে মির জাফরের পর বাংলার নবাব কে হয়েছিলেন?
উত্তর- 1760 খ্রিস্টাব্দে মির জাফরের পর বাংলার নবাব হয়েছিলেন মির কাশিম।

3। কলকাতা দখল করে সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতার কী নাম রাখেন?
উত্তর- কলকাতা দখল করে সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতার নাম রাখেন আলিনগর।

4। বাংলায় দ্বৈত শাসন কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর- লর্ড ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন কে প্রবর্তন করেন।

5। কে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ‘জগৎ শেঠ’ বা ‘জগতের শেঠ’ উপাধি পান?
উত্তর- ফতেহচাঁদ মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ‘জগৎ শেঠ’ বা ‘জগতের শেঠ’ উপাধি পান।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। ‘পলাশীর লুন্ঠন’ কাকে বলে?
উত্তর- পলাশির যুদ্ধের পরে ব্রিটিশ কোম্পানি মীরজাফরকে নবাব হিসাবে নির্বাচিত করেন। কার্যত তাঁকে “পুতুল শাসক” বানিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রভূত সম্পদ, যুদ্ধ বাবদ ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি নিয়ে বাংলাকে তারা নিঃস্ব করে দেয়। জানা যায়, প্রায় 3 কোটি টাকার সম্পদ তারা মীরজাফরের থেকে আদায় করেছিল। বহু ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ‘পলাশির লুণ্ঠন’ বলে অভিহিত করেছেন।

2। ফারুখশিয়র ফরমানের কী কী বৈশিষ্ট্য ছিল?
উত্তর- ফারুখশিয়ারের ফরমানের বৈশিষ্ট্য –
• বার্ষিক মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে কোম্পানি বাংলায় বাণিজ্য চালাতে পারবে।
• কলকাতার নিকটে ৩৮ টা গ্রামের জমিদারী কেনার অধিকার দেওয়া হয়।
• মুর্শিদাবাদের ট্যাঁকশাল ও তারা প্রয়োজনমত ব্যবহার করতে পারবে।
• বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অনুমতি ইত্যাদি ছিল মূল বিষয়।

3। সিরাজ উদ-দৌলার সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানির বিরোধের কারণগুলি উল্লেখ করো। (3)
উত্তর- স্বাধীনচেতা তরুণ নবাব সিরাজ তাঁর দাদু আলিবর্দি খানের মত ব্রিটিশদের সাথে সহাবস্থান করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ব্রিটিশ কোম্পানির ক্ষমতা খর্ব করতে। যদিও এর যথেষ্ট কারণ ছিল, ঔদ্ধত্য পূর্ণ ইংরেজরা ক্রমাগত নবাবকে অসম্মান, অবজ্ঞা প্রদর্শন করার মাত্রা বাড়িয়ে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। সব থেকে অপমানজনক ঘটনাটি ঘটে যখন সিরাজের অনুমতি ছাড়াই তারা কলকাতা দুর্গ নির্মাণ শুরু করে। এরপরে 1757 সালে ‘আলিনগরের সন্ধি’ স্বাক্ষরিত হলে ইংরেজদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, বলা চলে তাদের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরো চওড়া করে। তারা সমস্ত বাণিজ্যিক সুবিধা পুনরায় ফিরত পায়। তারা নিজস্ব মুদ্রা বা সিক্কা তৈরির অধিকার পায়। এমনকি কোম্পানির ক্ষতিপূরণ করার দায়ও বর্তায় নবাব সিরাজের ওপর। এমন অপমানজনক সন্ধি নবাব ও কোম্পানির বিরোধ আরো বাড়িয়ে তোলে।

4। কে, কবে হায়দ্রাবাদে আঞ্চলিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর- মুঘল শাসক ঔরঙ্গজেবের সভাকক্ষে একজন অভিজাত ছিলেন তার নাম ছিল মির কামার উদ্দিন খান সিদ্দিকি। ঔরঙ্গজেব এনাকে চিনক্লিচ খাঁ উপাধি দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ফারুখশিয়ার তাঁকে নিজাম উল মূলক এবং মহম্মদ শাহ তাঁকে আসফ ঝা উপাধি দেন। তিনি 1724 সালে প্রতিষ্ঠা করেন হায়দ্রাবাদ।

রচনাধর্মী প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। মুঘল সাম্রাজ্যের অবনতির কারণ কী ছিল?
উত্তর- উত্তর- ঔরঙ্গজেবের পরবর্তী সময়ে যে সমস্ত শাসকরা রাজত্ব করেছিল, তারা খুবই অদক্ষ ছিল। সামরিক শক্তি অর্থাৎ সৈন্য দলকেও তারা শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারেননি। দেশের মধ্যেই অদক্ষ শাসন ব্যবস্থার দরুণ বহু বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তার সাথেই ছিল ছত্রপতি শিবাজি ও মারাঠাদের আক্রমণ। এতো গেল ঘরের কথা, এরপর শুরু হয় বৈদেশিক শক্তির আক্রমণ। একদিকে নাদির শাহ (1739 খ্রিঃ) অন্যদিকে আহম্মদ শাহ আবদালি (1756 খ্রিঃ)। এছাড়াও সেই সময় থেকেই ইউরোপীয় জাতিগুলি ভারতে আসতে শুরু করেছে। এই সব কিছুর মাঝে মুঘল সাম্রাজ্যের অদক্ষ শাসকদের করুণ অবস্থা হয়েছিল।
এরপরেই বলতে হয় অতিরিক্ত ব্যয়, তাজমহলের কথা প্রায় সকলেরই জানা, এই ধরণের ব্যয়বহুল স্থাপত্যগুলি বানাতে শাহজাহানের আমলে প্রচুর খরচ হয়েছিল। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে অবক্ষয় শুরু হয়। সেই সময় শাহজাহান বা ঔরঙ্গজেবের আমলে শাসন কাঠামো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে। যা পরবর্তী শাসকরা সামাল দিতে পারেননি।
এছাড়া দুর্বল অনুন্নত কৃষি, জায়গীরদারি, মনসবদারী প্রথাগুলি শুরুর দিকে সংকটমুক্ত থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়।
এইসব কারণেই প্রায় ২০০ বছরের সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়ে। এই সাম্রাজ্যের অবক্ষয়ের মাঝেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু আঞ্চলিক শক্তির উত্থান হয়।

Key points
অদক্ষ শাসক – বৈদেশিক শক্তির আক্রমণ – অতিরিক্ত ব্যয় – অর্থনৈতিক সংকট


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner