বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর | Bangla Vashay Biggyan Question Answer | WBBSE Class 10 Bengali

বিনামূল্যে ইবুকের স্যাম্পল ডাউনলোড করো 👇

chapter-test-madhyamik-2025
bangla-vasay-biggan-question-answer
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (Bangla Vashay Biggyan)

দশম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে রাজশেখর বসু রচিত বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম হল – (ক) বনফুল (খ) শ্রীপান্থ (গ) পরশুরাম (ঘ) রূপদর্শী (মাধ্যমিক 19)
উত্তর- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম হল -(গ) পরশুরাম।

২। যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণিটি – (ক) ইংরেজি ভাষায় দক্ষ (খ) বাংলা ভাষায় দক্ষ (গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে (ঘ) ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্পাধিক বিজ্ঞান পড়েছে।
উত্তর- যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণিটি -(গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে।

৩। পিতলের চাইতে হালকা ধাতু – (ক) অ্যালুমিনিয়াম (খ) পারদ (গ) সোনা (ঘ) স্টিল
উত্তর- পিতলের চাইতে হালকা ধাতু – (ক) অ্যালুমিনিয়াম।

৪। ছেলেবেলায় লেখকদের জ্যামিতি পড়তে হয়েছিল – (ক) ব্রহ্মমোহন মল্লিকের (খ) ব্রহ্মমোহন মুখোপাধ্যায়ের (গ) ব্রহ্মভূষ্ণ মল্লিকের (ঘ) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের
উত্তর- ছেলেবেলায় লেখকদের জ্যামিতি পড়তে হয়েছিল (ক) ব্রহ্মমোহন মল্লিকের।

chapter-test-bengali-2025

৫। প্রীতির সঙ্গে কোন্‌ ভাষার পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হয়? (ক) মাতৃভাষা পদ্ধতি (খ) বিদেশি ভাষার পদ্ধতি (গ) হিন্দি ভাষার পদ্ধতি (ঘ) জার্মান ভাষার পদ্ধতি
উত্তর- প্রীতির সঙ্গে (ক) মাতৃভাষা পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হয়।

৬। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় প্রধান বাধা হল – (ক) ইংরেজি জ্ঞানের অভাব (খ) সঠিক অনুবাদকের অভাব (গ) পারিভাষিক শব্দের অভাব (ঘ) বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব
উত্তর- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় প্রধান বাধা হল – (গ) পারিভাষিক শব্দের অভাব ।


আরো পড়ো → মাধ্যমিক ইতিহাস পঞ্চম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর 

৭। বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা কখন সুসাধ্য হবে যখন – (ক) মাছিমারা নকল না করে সঠিক অনুবাদ হবে (খ) পারিভাষিক শব্দ যথাযথ পাওয়া যাবে (গ) সকল লেখক সমবেতভাবে লিখবেন (ঘ) বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ঘটবে
উত্তর- বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে যখন (ঘ) বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ঘটবে।

৮। ‘Sensitized Paper’ -এর অনুবাদ কী লিখলে ঠিক হয় বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন? (ক) স্পর্শকাতর কাগজ (খ) সুবেদী কাগজ (গ) সুগ্রাহী কাগজ (ঘ) ব্যথাপ্রবণ কাগজ (মাধ্যমিক 18)
উত্তর- ‘Sensitized Paper’ -এর অনুবাদ (গ) সুগ্রাহী কাগজ লিখলে ঠিক হয় বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন।

৯। অভিধা যে অর্থ প্রকাশ করে তা হল – (ক) অন্তর্নিহিত অর্থ (খ) আভিধানিক অর্থ (গ) ব্যঞ্জনা (ঘ) লক্ষণা
উত্তর- অভিধা যে অর্থ প্রকাশ করে তা হল (খ) আভিধানিক অর্থ।

১০। ‘দেশের লজ্জা’ এক্ষেত্রে দেশের অর্থ – (ক) দেশের সরকারের (খ) মাতৃভূমির (গ) দেশের সমাজব্যবস্থার (ঘ) দেশবাসীদের
উত্তর- ‘দেশের লজ্জা’ এক্ষেত্রে দেশের অর্থ -(ঘ) দেশবাসীদের ।

১১। ‘অরণ্যে রোদন’ বললে ব্যঞ্জনার অর্থ হয় – (ক) বনে কান্না (খ) নিষ্ফল ক্রোধ (গ) নিস্ফল অভিমান (ঘ) নিস্ফল খেদ
উত্তর- ‘অরণ্যে রোদন’ বললে ব্যঞ্জনার অর্থ হয় – (ঘ) নিস্ফল খেদ.

১২। ‘বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো।’ – কী কম থাকার কথা বলা হয়েছে? (ক) ছন্দ (খ) পরিভাষা (গ) অলংকার (ঘ) আভিধানিক শব্দ
উত্তর- ‘বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো।’ – (গ) অলংকার কম থাকার কথা বলা হয়েছে।

১৩। “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড” – উক্তিটি – (ক) রবীন্দ্রনাথের (খ) বঙ্কিমচন্দ্রের (গ) কালিদাসের (ঘ) বিদ্যাসাগরের (মাধ্যমিক 20)
উত্তর- “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড” – উক্তিটি (গ) কালিদাসের ।


আরো পড়ো → মাধ্যমিক ভুগোল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘এর মানে বুঝতে বাধা হয়নি।’ – কীসের মানে? কেন তা বুঝতে বাধা হয়নি?
উত্তর- ব্রহ্মমোহন মল্লিকের জ্যামিতি বইতে সম্পাদ্য- নির্দেশক প্রশ্ন – ‘এক নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভূজ অঙ্কিত করিতে হইবে।‘ -এর মানে বুঝতে প্রাবন্ধিকের অসুবিধে হয়নি কারণ, তাঁর ভাষাগত বিরোধী সংস্কার ছিল না।

২। ‘তাঁদের নতুন করে শিখতে হচ্ছে’ – কী শিখতে হচ্ছে?
উত্তর- আমাদের সরকার যেহেতু ক্রমশ রাজকার্যে বেশি দেশি পরিভাষা প্রয়োগ করছেন, সেজন্য স্থায়ী কর্মচারীবৃন্দকে নতুন করে পারিভাষিক শব্দগুলি শিখতে হচ্ছে যা তাদের গতানুগতিক কর্মধারাকে বিব্রত করেছে।

৩। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন? (মাধ্যমিক 19)
উত্তর- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন।

৪। প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে কী করা উচিত বলে লেখক মনে করেছেন? (মাধ্যমিক 20)
উত্তর- প্রাবন্ধিক ইংরেজি শব্দের উপযুক্ত ও প্রামাণিক বাংলা পরিভাষা না পেলে ইংরেজি শব্দই বাংলা বানানে লেখার পরামর্শ দিয়েছেন, তার মতে এভাবেও বৈজ্ঞানিক রচনা চলতে পারে।

৫। বিশ্ববিদ্যালয় – নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম সম্বন্ধে কী বিধান দিয়েছিল? (মাধ্যমিক 17)
উত্তর- কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতি বিধান দিয়েছেন যে, নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলা বানানে চলবে। যেমন, অক্সিজেন, প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন ইত্যাদি।


আরো পড়ো → হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর 

৬। “তখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে।” -লেখকের মতে, কখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে?
উত্তর- লেখক আলোচ্য প্রবন্ধে বলেছেন যে, কালক্রমে এদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার হলে বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনার সুবিধে হবে, কারণ তা সকলের বোধগম্য হবে।

৭। “এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।” – কোন ধারণার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর- লেখক আলোচ্য প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। বলাই বাহুল্য, তিনি এই ধারণার সঙ্গে সহমত নন।

৮। পরিভাষার উদ্দেশ্য কী? (মাধ্যমিক 17)
উত্তর- প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু পরিভাষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা।

৯। লক্ষণা বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর- শব্দের অর্থের চেয়ে যখন লক্ষ্যার্থ প্রধান হয়, তাঁকে বলে লক্ষণা। অর্থাৎ ‘দেশের লজ্জা’ বলতে কোন ভূখণ্ড বা স্থানকে বোঝানো হয় না, দেশের মানুষকে বোঝানো হয়।

১০। ব্যঞ্জনা কী?
উত্তর- শব্দের তিন প্রকার শক্তির মধ্যে ব্যঞ্জনা শ্রেষ্ঠতম। শব্দের আপাত অর্থ অতিক্রম করে যখন কোনো প্রগাঢ়তর ও গভীরতর অর্থ প্রকাশ করা হয়, তাঁকে বলে ব্যঞ্জনা। যেমন ‘অরণ্যে রোদন’ -এর অর্থ ‘নিস্ফল খেদ’ ।


মাধ্যমিকে নম্বর বাড়াবার সেরা উপায় ↓

wbporashona-madhyamik-chapter-test-2025


১১। রূপক অলংকার কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর- উপমেয় এবং উপমানে অভেদ কল্পিত হলে রূপক অলংকার হয়। যেমন ‘শোকের ঝড় বহিল সভাতে’ – উপমেয় ‘শোক’ ও উপমান ‘ঝড়ে’-র মধ্যে অভেদ কল্পিত হয়েছে।


আরো পড়ো → মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা

রচনাধর্মী উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। “তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।” – “তাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? এই দুই শ্রেণির পরিচয় দাও।

উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি রাজশেখর বসু রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে। প্রবন্ধের প্রথমেই প্রাবন্ধিক দুই শ্রেণি কথা উল্লেখ করেছেন, তারা হলেন প্রথম, যারা ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে আর দ্বিতীয়, যারা ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্পাধিক বিজ্ঞান পড়েছে।
প্রাবন্ধিকের মতে প্রথম শ্রেণির পাঠকদের বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় নেই। তারা হয়তো কিছু ইংরেজি পরিভাষিক শব্দ যেমন টাইফয়েড, আয়োডিন, মোটর ইত্যাদি শিখেছে। এছাড়া কিছু স্থুল বৈজ্ঞানিক তথ্য তাদের জানা থাকলেও, সুশৃঙ্খল আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে এই শ্রেণির পাঠকদের তেমন পরিচয় নেই। এই পাঠকরা ইংরেজি ভাষার প্রভাব থেকে মুক্ত ফলে বাংলা পরিভাষা আয়ত্ব করে বাংলায় বিজ্ঞান শেখা তাদের কাছে কঠিন নয়। তাই এই পাঠকরা যখন বাংলায় বিজ্ঞান শেখে, তখন ভাষা তাদের কাছে বাঁধা হয় না।

অপরদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠক যারা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান পড়েছেন তারা যখন বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ পড়েন তখন তাদের ইংরেজির প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত বর্জন করে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের সঙ্গে তা আয়ত্ব করতে হয়। এই কারণে প্রথম শ্রেণির পাঠক অপেক্ষা দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠককে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা বুঝতে একটু বেশি প্রচেষ্টা করতে হয়।

২। “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে।” – এই বাধা দূর করতে লেখক কী কী পরামর্শ দিয়েছেন তা আলোচনা করো।

উত্তর – ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা আরো সুগম করার জন্য তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলি হল।

বাংলা পরিভাষিক – প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন যে বাংলা ভাষায় যথেষ্ট ইংরেজি শব্দের পারিভাষিক নেই। তিনি আরো বলেন যে, পরিভাষা রচনা কোন একজনের কাজ নয়, সমবেতভাবে না করলে নানা ত্রুটি হতে পারে।
সহজ ভাবে লেখা – যেহেতু পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের জনগণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কম। তাই কোন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে লেখকের উচিৎ প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতন গোড়া থেকে লেখা, যাতে সকল ধরণের মানুষ সেই লেখা বুঝতে পারেন।
প্রাঞ্জল রচনা পদ্ধতি – প্রাবন্ধিক লক্ষ্য করেছেন যে বিজ্ঞান আলোচনার ক্ষেত্রে যে সহজ রচনা পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিৎ, বহুক্ষেত্রে তার বদলে আড়ষ্ট ভাষা এবং ইংরেজির অনুবাদ বলে মনে হয়। প্রাবন্ধিক মনে করেন যে এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না।
অলংকার বর্জন করা – প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন যে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে উপমার স্থান থাকলেও অন্যান্য অলংকার বর্জন করা উচিৎ।
ভুল তথ্য পরিহার করা – প্রবন্ধের তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল না হলে তা সাধারণ পাঠকদের ক্ষেত্রে অনিষ্টকর হবে। তাই লেখক পরামর্শ দিয়েছেন যে সম্পাদকের উচিৎ কোন অবিখ্যাত লেখকের বৈজ্ঞানিক রচনা প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ লোককে দিয়ে যাচাই করিয়ে নেওয়া।


পড়া মনে রাখার সেরা উপায়! ↓

wb-porashona-to-the-point-ebook


৩। “পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য।” – লেখকের এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি রাজশেখর বসু রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে। প্রাবন্ধিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের বোধগম্যতা প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি করছেন। তাঁর মতে ভারতের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য, প্রথমিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সামান্য পরিচয় না থাকলে বইজ্ঞান সন্দর্ভ বোঝা কঠিন, কিন্তু ইউরোপ – আমেরিকায় এই সমস্যা নেই, সেখানে অধিকাংশ মানুষদের প্রাথমিক বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকার কারণে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ লেখা সহজ। তাই আমাদের দেশের পাঠকদের বর্তমান অবস্থা উপলব্ধি করে প্রাবন্ধিক জনসাধারণের জন্য যারা বাংলায় বিজ্ঞান লেখেন তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন যে, বয়স্কদের জন্য যা লেখা হয় তায় প্রথমিক বিজ্ঞানের মতন গোড়া থেকে না লিখলে লেখা জনপ্রিয় হবে না। তবে এর পাশাপাশি প্রাবন্ধিক এও জানিয়েছেন যে ধীরে ধীরে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার হলে এই অসুবিধা দূর হবে এবং তখন দেশে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লেখা সহজ হবে।

chapter-test-bengali-2025

৪। “আমাদের আলংকারিক শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন।” – এই ত্রিবিধ অর্থ কী কী ব্যাখ্যা করে লেখো। কোনটি কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্ত?

উত্তর- আলোচ্য উক্তিটি রাজশেখর বসু রচিত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে। প্রবন্ধে শব্দের ত্রিবিধ কথা বলা হয়েছে – অভিধা, লক্ষণা ও ব্যাঞ্জনা।
অভিধা – এটি শুধুমাত্র আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করে, যেমন ‘দেশ’ এর অর্থ ভারত অথবা স্থান।
লক্ষনা – শব্দের অর্থের চেয়ে যখন লক্ষ্যার্থ প্রধান হয়, তাঁকে বলে লক্ষণা। যেমন, ‘দেশের লজ্জা’ এই শব্দবন্ধে দেশের অর্থ বলতে দেশবাসীর কথা বলা হয়েছে।
ব্যাঞ্জনা – শব্দের তিন প্রকার শক্তির মধ্যে ব্যঞ্জনা শ্রেষ্ঠতম। শব্দের আপাত অর্থ অতিক্রম করে যখন কোনো প্রগাঢ়তর ও গভীরতর অর্থ প্রকাশ করা হয়, তাঁকে বলে ব্যঞ্জনা। অরণ্য শব্দটির আভিধানিক অর্থ বন, কিন্তু ‘অরণ্যে রোদন’ এইক্ষেত্রে অরণ্য শব্দের অর্থ নিস্ফল ক্ষেদ, এটি ব্যাঞ্জনা।


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

নিয়মিত প্রশ্ন উত্তরের আপডেট পাও নিজের মোবাইলে 👇

wbporashona-whatsapp-channel