ছন্নছাড়া প্রশ্ন উত্তর | অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত | Chonnochara Question Answer

নিয়মিত প্রশ্ন উত্তরের আপডেট পাও নিজের মোবাইলে 👇

wb porashona.com whatsapp channel
chonnochara-poem-question-answer
শ্রেণি – অষ্টম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – ছন্নছাড়া (Chonnochara)

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে শ্রী অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত রচিত ছন্নছাড়া কবিতা থেকে প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

১। গলির মোড়ে একটা গাছ দাঁড়িয়ে / গাছ না গাছের – (ক) প্রতিরূপ (খ) প্রেতচ্ছায়া (গ) প্রতিলিপি (ঘ) চারাগাছ
উত্তর – গলির মোড়ে একটা গাছ দাঁড়িয়ে / গাছ না গাছের – (খ) প্রেতচ্ছায়া।

২। ড্রাইভার বলেছিল কবিকে – (ক) যাবেন না (খ) ঘেঁষবেন না (গ) কথা বলবেন না (ঘ) লিফট দেবেন না ছন্নছাড়া ছেলেদের
উত্তর – ড্রাইভার বলেছিল কবিকে – (খ) ঘেঁষবেন না।

৩। ওদের প্রতি সম্ভাষণে কারুর (ক) সম্মান (খ) দয়া (গ) দরদ (ঘ) মমতা নেই
উত্তর – ওদের প্রতি সম্ভাষণে কারু (গ) দরদ নেই

৪। ওরা পাঁজাকোলা করে ট্যাক্সির মধ্যে তুলে নীল – (ক) রক্তমাখা এক বন্ধুকে (খ) দলা- পাকানো ভিখিরিকে (গ) রাগী পুলিশকে (ঘ) অসহায় অনাথ এক শিশুকে
উত্তর – ওরা পাঁজাকোলা করে ট্যাক্সির মধ্যে তুলে নীল – (খ) দলা- পাকানো ভিখিরিকে।

৫। অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে দেখলুম / কঠোরের প্রচ্ছন্নে – (ক) প্রেমের (খ) মাধুর্যের (গ) কোমলের (ঘ) কমনীয়তার বিস্তীর্ণ আয়োজন
উত্তর – অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে দেখলুম / কঠোরের প্রচ্ছন্নে – (খ) মাধুর্যের বিস্তীর্ণ আয়োজন।


আরো পড়ো → গাছের কথা প্রশ্ন উত্তর

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

১| কবি প্রথমে গাছটিকে কেমন অবস্থায় দেখেছিলেন?
উত্তর – কবি প্রথমে গাছটিকে ‘রুক্ষ, রুষ্ট, রিক্ত, জীর্ণ’, লতাপাতা, ছাল বাকলহীন অবস্থায় দেখেছিলেন।

২| ‘ড্রাইভার বললে, ওদিকে যাব না।’ – ওদিকে না যেতে চাওয়ার কারণ কি?
উত্তর – ওদিকে না যাওয়ার কারণ হিসাবে ড্রাইভার ‘ছন্নছাড়া’ কিছু বেকারদের দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলেছিলেন।

৩| ‘ওই দেখতে পাচ্ছেন না ভিড়?’ – ওখানে কিসের ভিড়?
উত্তর – একটা নিরিহ লোক গাড়িচাপা পড়েছে, তাই জন্য ভিড় জমেছে।

৪| ‘চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে ……’ কি বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল?
উত্তর – ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে’ এই বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল।

৫। ‘আমি নেমে পড়লুম তাড়াতাড়ি’ – কবি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন কেন?
উত্তর – আহত ব্যাক্তির রক্তের দাগ থেকে আমার ভব্যতা ও শালীনতা বাঁচাতে কবি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন।

৬| ‘অবিশ্বাস্য চোখে দেখলুম’- কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর কেন?
উত্তর – শুষ্ক কঠিন রুক্ষ গাছে প্রাণের মাধুর্জ দেখে কবিত্র চোখে অবিশ্বাসের ঘোর লাগে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২/৩]

১। ‘ওই পথ দিয়ে, জরুরী দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।’ – কবির যাত্রাপথের অভিজ্ঞতার বিবরণ দাও।
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত রচিত ছন্নছাড়া কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে। গলির মোড়ে একটি শুষ্ক, রুক্ষ, প্রেতছায়ার ন্যায় গাছ আছে। কবি সেই পথের পাশ দিয়ে ট্যাক্সি করে একটি জরুরী কাজে যাচ্ছিলেন। পথে যেতে যেতে কবির সাথে কিছু বেকার চালচুলো হীন ছোকরার দলের সাথে দেখা হয়। তাদের তিন জনকে কবি তাঁর ট্যাক্সিতে লিফট দেন, তাদের ট্যাক্সি সামান্য দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। যেখানে অপরিচিত একজন ভিখারি গাড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পড়েছিল। ঔ ভিখারির দেহে প্রাণ আছে বুঝে আনন্দিত হয়ে ছেলের দল আহত দেহটিকে চিকিৎসার জন্য ট্যাক্সিতে তুলে নেয়। কবি রক্ত লেগে যাওয়ার ভয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে আসেন এবং বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরেন।


আরো পড়ো → ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র প্রশ্ন উত্তর

২। ‘কারা ওরা?’ – কবিতা অনুসরণে ওদের পরিচয় দাও?
উত্তর – ছন্নছাড়া কবিতায় কবির প্রশ্নের উত্তরে ট্যাক্সির ড্রাইভার ছন্নছাড়া যুবকদের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই যুবকেরা নেই রাজ্যের বাসিন্দা। ওদের কলেজে সিট নেই, অফিসে চাকরী নেই, কারখানায় কাজ নেই, হাসপাতালে বেড নেই, বাড়িতে ঘর নেই। ‘ওরা’ নেই রাজ্যের বাসিন্দা, ওদের রীতি নীতি নেই, আইন কানুন নেই, বিনয় – ভদ্রতা নেই, শ্লীলতা – শালীনতা নেই। সমাজের চোখে ছন্নছাড়ার দল যেন ব্রাত্য।

৩। ‘প্রাণ আছে, এখনো প্রাণ আছে।’ – এই দুর্মর আশাবাদের ‘তপ্ত শঙ্খধ্বনি’ কবিতায় কিভাবে বিঘোষিত হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর – জড় বস্তু এবং সজীব বস্তুর মধ্যে একমাত্র পার্থক্য প্রাণ। ছন্নছাড়া কবিতায় ছন্নছাড়ার দল নৈরাজ্যের প্রতীক, সমাজ তাদের অবহেলা করে, উপেক্ষা করে। কিন্তু এই উদ্দেশ্যহীন যুবকদের মধ্যেও আশার আলো, মানবিক ভাবনা বর্তমান। আর তাইতো যখন একজন অপরিচিত ভিখারিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা ছুটে যায়, প্রাণ আছে জেনে আনন্দে উল্লাসিত হয়। এভাবেই কবিতায় দুর্মর আশাবাদের ‘তপ্ত শঙ্খধ্বনি’ বিঘোষিত হয়।

৪। কবিতায় নিজের ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটির ‘ছন্নছাড়া’- দের প্রতি যে অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – ছন্নছাড়া কবিতায় নিজের ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটি কবি নিজে। কবি এখানে বুদ্ধিজীবী মানুষের প্রতীক। শহুরে জীবনের এ এক দৈনন্দিন ঘটনা। শহরের বহু নাগরিক সমস্যা কি তারা বুঝতে পারেন, কিন্তু কাজের সময় সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে চলেন। এই কবিতায় আমরা দেখতে পাই জনৈক ট্যাক্সি চালক কবিকে ‘ছন্নছাড়া’ যুবকদের সম্পর্কে জানান এবং কবিকে তাদের কাছে যেতে মানা করেন। তা গ্রাহ্য না করে কবি সহানুভুতিশীল হয়ে তাদের কাছে যান, কিন্তু রক্তাক্ত ভিখারিকে নিয়ে তারা যখন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, কবি সযত্নে তার ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচিয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু আশার বিষয় হলো, যুবকদের এই মানবিক আচরণের ফলেই কবির অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয় এবং তিনি আশার আলো দেখতে পান। তিনি এই যুবক যারা তার মতোই একই সমাজের অঙ্গ তাদের অস্তিত্বের অধিকার খুঁজে পান। এইভাবেই কবিতায় ছন্নছাড়াদের প্রতি কবির সহমর্মিতা ফুটে উঠেছে।


আরো পড়ো → মেঘ ও বৃষ্টি অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

৫। কবিতায় ‘গাছটি’ কিভাবে প্রাণের প্রতীক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর – কবিতায় আমরা একটি গাছের বর্ণনা পাই, প্রথমে কবি যখন তা লক্ষ করছেন তা ছিল ‘রুক্ষ, রুষ্ট, রিক্ত, জীর্ণ’, উদ্দেশ্যহীনভাবে তার ডাল পালা ছড়িয়ে রেখেছে। এই প্রায় শুকিয়ে যাওয়া গাছটির মধ্যে সবুজের কোন উপস্থিতি নেই। নেই ‘এক বিন্দু সরসের সম্ভাবনা’। কিন্তু কবি যখন ফিরে আসার সময় গাছটিকে দেখেন তখন গাছটির অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। গাছটির ‘শুকনো বৈরাগ্য বিদীর্ণ করে বেরিয়ে পড়েছে হাজার হাজার সোনালি কচি পাতা’। সেখানে ফুলের আবির্ভাব হয়েছে, রং বেরঙের পাখিও উড়ে এসেছে। কবি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছেন ‘কঠোরের প্রচ্ছন্নে মাধুর্যের বিস্তীর্ণ আয়োজন’।

কবি এই গাছটিকে রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে বাইরে থেকে যা রুক্ষ, রুষ্ট শুকনো বলে মনে হয় আদপে তা হয়তো নয়। তার মধ্যেও আছে সম্ভাবনা। তাই কবি বলেন – ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে – প্রাণ থাকলেই স্থান আছে মান আছে।


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

পড়া মনে রাখার সেরা উপায় 👇

WBP-to-the-point-banner-v1