দাম প্রশ্ন উত্তর | Dam Golper Question Answer | WBBSE Class 9

নিয়মিত প্রশ্ন উত্তরের আপডেট পাও নিজের মোবাইলে 👇

wb porashona.com whatsapp channel
dam-question-answer
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – দাম (Dam)

এই পর্বে রইল নবম শ্রেণির বাংলা বিভাগের দাম গল্প থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। সুকুমার পেশায় ছিলেন- (ক) ডাক্তার (খ) অধ্যাপক (গ) ইঞ্জিনিয়ার (ঘ) সাংবাদিক
উত্তর- সুকুমার পেশায় ছিলেন- (ঘ) সাংবাদিক

২। এম এ পাস করার পরেও সুকুমার দুঃস্বপ্ন দেখতেন – (ক) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার (খ) চাকরি না পাওয়ার (গ) স্কুলে শাস্তি পাওয়ার (ঘ) খেলায় জিততে না পারার
উত্তর- এম এ পাস করার পরেও সুকুমার দুঃস্বপ্ন দেখতেন- (ক) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার।

৩। অঙ্কে যারা একশোর মধ্যে একশো পায়, তারা- (ক) ওঁর ভয়ে কান্নাকাটি করত (খ) ওঁর ভয়ে অজ্ঞান হত (গ) ওঁর জন্য অপেক্ষা করত (ঘ) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।
উত্তর- অঙ্কে যারা একশোর মধ্যে একশো পায়, তারা-(ঘ) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।

৪। “…কাঁদবার জো ছিল না।” – এই কাঁদবার উপায় না থাকার কারণ- (ক) ক্লাসের অন্য ছেলেদের সামনে কাঁদতে লজ্জা করত (খ) চোখের জল মাস্টারমশাই সহ্য করতে পারতেন না (গ) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন (ঘ) কাঁদলে আরও অঙ্ক কষতে হত
উত্তর- “…কাঁদবার জো ছিল না।” – এই কাঁদবার উপায় না থাকার কারণ- (গ) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন

৫। “সে স্বর্গের চাইতে ______ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম”।– (ক) শত (খ) সহস্র (গ) লক্ষ (ঘ) কোটি
উত্তর- “সে স্বর্গের চাইতে (গ) লক্ষ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম”।

৬। সুকুমার তার মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকা সম্পাদকের কাছ থেকে পেয়েছিলেন- (ক) দশ টাকা (খ) বারো টাকা (গ) পনেরো টাকা (ঘ) কুড়ি টাকা
উত্তর- সুকুমার তার মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকা সম্পাদকের কাছ থেকে পেয়েছিলেন- (ক) দশ টাকা।

৭। কলকাতা থেকে কেউ বাইরে গেলে সংবর্ধনা মেলে- (ক) বীরোচিত (খ) যথোচিত (গ) রাজোচিত (ঘ) ভদ্রোচিত
উত্তর- কলকাতা থেকে কেউ বাইরে গেলে সংবর্ধনা মেলে-(গ) রাজোচিত।

৮। “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” সভাটি ছিল – (ক) সুকুমার রায়ের কলেজে (খ) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে (গ) কলকাতা এক নামী কলেজে (ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর- “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” সভাটি ছিল- খ) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে।

৯। “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়। এখানে ‘পঞ্চত্ব’ শব্দের অর্থ- (ক) ক্ষতি (খ) হানি (গ) মৃত্যু (ঘ) সমস্যা
উত্তর- “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়। এখানে ‘পঞ্চত্ব’ শব্দের অর্থ- (গ) মৃত্যু

১০। “কার একটা ইংরেজি কোটেশন চালিয়ে দিলুম — নামে”। – (ক) টেনিসনের (খ) বায়রনের (গ) শেকসপিয়রের (ঘ) বার্নার্ড শ-র
উত্তর- কার একটা ইংরেজি কোটেশন চালিয়ে দিলুম (ঘ) বার্নার্ড শ-র নামে।


আরো পড়ো → ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় (নেপোলিয়ন) প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। “কিন্তু কাঁদবার জো ছিল না”- কেন কাঁদবার জো ছিল না?
উত্তর –চোখে এক ফোঁটা জল দেখতে পেলেই মাস্টারমশাই ছাত্রদের আরো বকতেন, তাই অঙ্ক না পেরে এবং মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেলেও কাঁদার জো ছিল না।

২। প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাস্টারমশাই বলেছেন?
উত্তর – মাস্টারমশাই বলতেন প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা লেখা ছিল – ‘যে অঙ্ক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ’।

৩। ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তর – ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলতে প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের বোঝানো হয়েছে।

৪। ‘মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।’ কখন এমনটি ঘটেছে?
উত্তর – দাম গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার একটি পত্রিকায় তার ছেলেবেলার গল্প লেখার সময় মাস্টারমশাইয়ের কথা মনে করেছিলেন।

৫। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
উত্তর – পত্রিকার কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে সুকুমার অর্থাৎ লেখককে দশ টাকা দিয়েছিলেন।


দাম গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর ↓


৬। “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল”- কোন সভায় কে বক্তৃতা করল?
উত্তর – বাংলাদেশের একপ্রান্তের একটি কলেজের বার্ষিক সভার আমন্ত্রণে ‘দাম’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার বক্তৃতা করেছিলেন।

৭। সুকুমার তাঁর বক্তৃতার ইংরেজি কোটেশনটি কার নামে চালিয়েছিলেন?
উত্তর – সুকুমার ইংরেজি কোটেশনটি বার্নাড শ’র নামে চালিয়েছিলেন।

৮। সুকুমার আলো থেকে বেরিয়ে যে মানুষটিকে দেখতে পেলেন তাঁর চেহারা কেমন?
উত্তর – সুকুমার আলো থেকে বেরিয়ে যে মানুষটিকে দেখতে পেয়েছিলেন তাঁর কুঁজো লম্বা চেহারা এবং মাথার সাদা চুলগুলি চিকমিক করছে।

৯। “আমি চমকে উঠলুম”- বক্তার চমকে ওঠার কারণ কী?
উত্তর – সুকুমার সভাগৃহ থেকে বেরিয়ে অপরিচিত মানুষের মুখ থেকে পরিচিত কণ্ঠে তার নিজের নাম শুনে চমকে গিয়েছিলেন।

১০। মাস্টারমশাই জামার পকেট থেকে কি বের করেছিলেন?
উত্তর – মাস্টারমশাই তাঁর জামার পকেট থেকে একটি শতচ্ছিন্ন জীর্ণ পত্রিকা বের করেছিলেন।

১১। সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের স্নেহকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর – সুকুমার তার মাস্টারমশাইয়ের স্নেহকে অপরিমেয় মণি – মানিক্যের সাথে তুলনা করেছেন।


আরো পড়ো → পৃথিবীপৃষ্টে কোন স্থানের অবস্থান নির্ণয় প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। “স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলোক!” – এখানে কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কেন বিভীষিকা ছিলেন? [১+২]
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত দাম গল্পের অন্তর্গত। এখানে বিভীষিকা বলতে, গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

গল্প থেকে আমরা জানতে পারি যে, স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের আশ্চর্য পরিষ্কার মাথা ছিল। তিনি বিভিন্ন জটিল অঙ্ক একবার মাত্র তাকিয়ে দেখেই কষে ফেলতেন। কিন্তু ছাত্ররা তাকে যমের মতো ভয় পেত কারণ মাস্টারমসাইয়ের ‘প্রকাণ্ড হাতের প্রচণ্ড চড়’। মাস্টারমশাইয়ের প্রতাপে ছাত্ররা কাঁদারও সুযোগ পেত না, ‘চোখে এক ফোঁটা জল দেখলেই ক্লাস ফাটিয়ে হুঙ্কার ছাড়তেনঃ পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারিসনে – তার উপর কাঁদতে লজ্জা করে না? এখনই পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেব’। তার বকুনি এবং মারের বেদম ভয় ছাত্রদের মনে এতটাই প্রগাঢ় ভাবে ছিল যে এমএ পাশ করে মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে নিস্তার পেয়েও অঙ্কের বিভীষিকা মনে থেকে যায়।

২। “প্লেটোর দোরগড়ায় কী লেখা ছিল, জানিস?” – প্লেটো কে ছিলেন? বক্তা প্লেটোর দোরগোড়ায় কোন লেখার কথা বলেছেন? [১+২]
উত্তর – প্লেটো ছিলেন একজন বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক।

আলোচ্য উক্তিটি দাম গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে, এই উক্তিটির বক্তা হলেন লেখকের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। তিনি বলেছিলেন – ‘প্লেটোর দোরগোড়ায় কি লেখা ছিল, জানিস? যে অঙ্ক জানে না – তার এখানে প্রবেশ নিষেধ। স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ঐ কথাই লেখা রয়েছে।‘ আসলে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের গণিতে পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ কিন্তু স্কুলের ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন মূর্তিমান বিভীষিকা। ক্লাসে অঙ্ক না পারলেই ছাত্রদের জুটত প্রহার এবং নানাবিধ টিটকিরি। এটি ছিল তার মধ্যে অন্যতম।

৩। “ছবিটা যা ফুটল তা খুব উজ্জ্বল নয়” – এখানে কোন ছবির কথা বলা হয়েছে? ছবিটা উজ্জ্বল নয় কেন?
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি দাম গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে। দাম গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার, তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে কেন্দ্র করে যে প্রবন্ধ লিখেছিল, এখানে তার কথা বলা হয়েছে।

সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতি মোটেই সুখকর নয়। তাই পত্রিকার অনুরোধে সুকুমার যে প্রবন্ধ রচনা করেছিল তাতে মাস্টারমশাইয়ের প্রতিচ্ছবি একেবারেই উজ্জ্বল ছিল না। রচনার মূল বক্ত্যব্য ছিল ‘অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না, গাধা পিঠিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়’। লেখক প্রবন্ধ রচনার সময় বাস্তবের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে তা রচনা করেছিলেন তা থেকে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কাঠিন্য এবং অপারদর্শিতার দিকটিই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

৪। ‘অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না।’ – কথকের এই উপলব্ধির কারণ কী?
উত্তর – আলোচ্য বক্তব্যটির কথক ‘দাম’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার। সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতি মোটেই সুখকর নয়। অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্য, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন মূর্তিমান বিভীষিকা। ছাত্ররা অঙ্কের সমাধান না করতে পারলে, তাদের কপালে জুটতো প্রহার এবং টিটকিরি। সুকুমার তার রচনায় মাস্টারমশাইয়ের এই কাঠিন্যর দিকটিই তুলে ধরেছেন – তার বক্তব্য অনুযায়ী ‘অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না’ অর্থাৎ ছাত্রদের জোর করে অঙ্ক শেখানোর যে প্রচেষ্টা মাস্টারমশাই করতেন তা সঠিক নয়।


আরো পড়ো → ব্যোমযাত্রীর ডাইরি গল্পের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

রচনাধর্মী প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। ‘আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।’ বক্তা কে? কীভাবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন?

উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

গল্পে আমরা দুটি চরিত্রের সাথে পরিচিত হই, প্রথমটি হলেন গল্পের লেখক এবং দ্বিতীয়টি হলেন লেখকের অঙ্কের মাস্টারমশাই। এখানে মাস্টারমশাই তার ছাত্রের অর্থাৎ গল্পের লেখকের উদ্দেশে এই উক্তিটি করেছেন।

ছাত্রজীবনে লেখক, স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই এবং তার প্রহারকে ভীষণ ভয় পেতেন। এমনকি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার পরেও, লেখকের মন থেকে তাঁর মাস্টারমশাইয়ের ভয়ের স্মৃতি অমলীন হয়ে থাকে। লেখক কোন একটি পত্রিকার অনুরোধে তাঁর ছেলেবেলার গল্প লেখেন এবং সেই গল্পে তিনি তাঁর মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা এবং বক্রোক্তি করেন। তাঁর লেখাটি প্রশংসিত হয় এবং তা থেকে তিনি দশ টাকা রোজগার করেন।

পরবর্তী সময়ে লেখকের সাথে মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। লেখক দেখেন যে মাস্টারমশাই তার সমালোচনাসূচক লেখাটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন, শুধু তাই নয় সময় সুযোগ মতো তিনি সবাইকে ঐ লেখাটি দেখাতেও ভোলেন না। যে লেখাটি ছাত্রের কাছে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা বর্ষণ, ঠিক তাই যেন মাস্টারমশাইয়ের কাছে ছাত্রের শ্রদ্ধা নিবেদন। মাস্টারমশাইয়ের মনে হয় তাঁর ছাত্র যেন ঐ পত্রিকার লেখার মাধ্যমেই তাঁর মাস্টারমশাইকে অমর করে রেখেছে।

২। “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” – অপরাধবোধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত দাম গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমারের কাছে তাঁর স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন এক মূর্তিমান বিভীষিকা। অঙ্কের পণ্ডিত মাস্টারমশাইয়ের অঙ্ক শেখানোর পদ্ধতি ছাত্রবান্ধব ছিল না। অঙ্ক না পারলেই ছাত্রদের জুটতো প্রহার অথবা অসম্মানসূচক টিটকিরি। অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে লেখক এমএ পাশ করে গেলেও মাস্টারমশাইকে ভুলতে পারেন না।

তাই, এক পত্রিকায় ছোটবেলার স্মৃতিচারন করতে গিয়ে মাস্টারমশাই এবং তাঁর পঠন পদ্ধতি সম্পর্কে বক্রোক্তি করেন। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না। পরবর্তী সময়ে একটি অনুষ্ঠানের পর মাস্টারমশাইয়ের সাথে লেখকের দেখা হয়, এবং লেখক জানতে পারেন যে মাস্টারমশাই তার লেখাটি পড়েছেন, সুকুমারের সব অভিযোগ এককথায় মেনে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তা তিনি যত্ন করে লেখাটি রেখেছেন এবং বহুমানুষকে তিনি তা নিয়মিত দেখান। মাস্টারমশাইয়ের মুখে “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে” শুনে সুকুমারের মন আত্মগ্লানিতে ভরে ওঠে। সুকুমার বুঝতে পারেন যে, মাস্টারমশাই ছাত্রদের যে কাঠিন্য দেখাতেন তা ছিল তাঁর অঙ্ক শেখাবার নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা। শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের যেমনই মনোভাব থাকুক না কেন, শিক্ষকের কাছে ছাত্রছাত্রীরা সর্বদাই স্নেহ – মায়া – মমতার এক বিরাট আশ্রয়।

এইভাবে সুকুমার নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং শিক্ষকের ছাত্রের প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসার উপলব্ধি করে তার আত্মশুদ্ধি ঘটে।

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

পড়া মনে রাখার সেরা উপায় 👇

WBP-to-the-point-banner-v1