বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 10 History Chapter 5 – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
bikolpo-chinta-udyog
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা | bikolpo chinta o udyog (Chapter 5)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগের পঞ্চম অধ্যায় – বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা। প্রশ্ন উত্তর আলোচনা শুরু করার আগে, আমরা তোমাদের একটি বিশেষ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

আমরা জানি যে ভালো ভাবে প্রশ্ন – উত্তর তৈরি করলেও পরীক্ষায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে লিখতে পারে না। এই সমস্যার একটি সমাধান আমরা তোমাদের দিতে চাই; লক্ষ্য করবে প্রতিটি বড় প্রশ্নের শেষে আমরা কয়েকটি বিশেষ KeyPoints উল্লেখ করেছি। ঐ বড়প্রশ্নগুলির মূল বিষয়গুলিই KeyPoints হিসাবে তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ঐ KeyPoints গুলো যদি তোমরা মনে রাখতে পারো আমাদের বিশ্বাস সেক্ষেত্রে বড়প্রন্সের উত্তর লিখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন- (ক) জগদীশ চন্দ্র বসু (খ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
(গ) চন্দ্রমুখী বসু (ঘ) আনন্দমোহন বসু

উত্তর- বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন (ক) জগদীশ চন্দ্র বসু।

২। ইউ এন রায় অ্যান্ড সন্স ভূমিকা নিয়েছিল- (ক) বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে (খ) বাংলার চিকিৎসা বিদ্যার প্রসারে (গ) বাংলা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে (ঘ) বাংলার মুদ্রণশিল্পের প্রসারে [পর্ষদ নমুনা]
উত্তর- ইউ এন রায় অ্যান্ড সন্স ভূমিকা নিয়েছিল (ঘ) বাংলার মুদ্রণশিল্পের প্রসারে।

৩। ভারতে হাফটোন প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেন (ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি
(খ) সুকুমার রায় (গ) পঞ্চানন কর্মকার (ঘ) চার্লস উইলকিনস [মাধ্যমিক ১৭]

উত্তর- ভারতে হাফটোন প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেন (ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি।

৪। বিশ্ব ভারতী প্রতিষ্ঠা করেন- (ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) স্বামী বিবেকানন্দ (ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর [মাধ্যমিক ১৭]
উত্তর- বিশ্ব ভারতী প্রতিষ্ঠা করেন (ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫। বাংলা ভাষার প্রথম ছাপা বই হল- (ক) বর্ণ পরিচয় (খ) এ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (গ) মঙ্গল সমাচার মতিয়ের (ঘ) অন্নদামঙ্গল [মাধ্যমিক ১৮]
উত্তর- বাংলা ভাষার প্রথম ছাপা বই হল (গ) মঙ্গল সমাচার মতিয়ের।

৬। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স এর যে বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন- (ক) জগদীশ চন্দ্র বসু (খ) সিভি রমন (গ) প্রফুল্লচন্দ্র রায় (ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু [মাধ্যমিক ১৮]
উত্তর- ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স এর যে বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন (খ) সিভি রমন।

৭। বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়- (ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় (খ) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।

৮। বর্ণ পরিচয় প্রকাশিত হয়েছিল- (ক) ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- বর্ণ পরিচয় প্রকাশিত হয়েছিল (গ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে।

৯। বাংলা ভাষার প্রথম বই ছাপা হয়- (ক) ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে [মাধ্যমিক ২০]
উত্তর- বাংলা ভাষার প্রথম বই ছাপা হয় (খ) ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

১০। বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন- (ক) অরবিন্দ ঘোষ (খ) সতীশচন্দ্র বসু (গ) যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (ঘ) প্রমথ নাথ বসু [মাধ্যমিক ২০]
উত্তর- বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন (ঘ) প্রমথ নাথ বসু।

আরো পড়ো→ ভারতের জলবায়ু – প্রশ্ন উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। কোন বছর শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়? [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় 1800 সালে।

২। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থের নাম লেখো। [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থের নাম অন্নদামঙ্গল।

৩। হাফটোন ব্লক তৈরির পদ্ধতি কে আবিস্কার করেন?
উত্তর- হাফটোন ব্লক তৈরির পদ্ধতি উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী আবিস্কার করেন।

৪। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
উত্তর- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫। সন্দেশ পত্রিকার মুদ্রণ কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তর- সন্দেশ পত্রিকার মুদ্রণ কবে থেকে শুরু হয় 1913 সালে।


মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায় ↓


৬। জাতীয় শিক্ষা পরিষদের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর- জাতীয় শিক্ষা পরিষদের প্রথম সভাপতি ছিলেন রাসবিহারী বোস।

৭। বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর- বাংলার মানুষকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট যাদবপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

৮। দ্বিতীয় সনদ আইন কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর- দ্বিতীয় সনদ আইন প্রতিষ্ঠিত হয় 1813 সালে।

৯। সম্বাদ কৌমুদীর প্রকাশক কে ছিলেন?
উত্তর- সম্বাদ কৌমুদীর প্রকাশক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

১০। ব্যাপটিস্ট মিশন কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর- ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীরামপুরে।

আরো পড়ো  → জনন – প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। শ্রীনিকেতন কি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর- শান্তিনিকেতন এর পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীনিকেতন নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন শিক্ষার সমন্বয়ের জন্য পল্লিগ্রামের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যোগসূত্র স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শ্রীনিকেতনের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল কৃষির উন্নতি, চিকিৎসার সুব্যবস্থা, ও স্বাস্থ্য বিষয়ে গ্রামবাসীদের সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলা ।

২। উনিশ শতকে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স এর ভূমিকা কি ছিল?

উত্তর- ১৮৭৬ সালে ড:মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কল্টিভেশন অফ সায়েন্স,যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিবিধ মৌলিক গবেষণার কাজে সহায়তা প্রদান। এর পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন শাখার নিয়মিত মৌলিক গবেষণা ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিষয়ে বক্তৃতার জন্য দেশ বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব দের নিয়ে আসা হত।

৩। বিশ্ব ভারতী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল?

উত্তর- ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা ও জীবনযাপন কে একই সূত্রে অঙ্গাঙ্গীভাবে নিযুক্ত করা ও প্রকৃতির কোলে, স্নিগ্ধ ও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার বিকাশ, এক্ষেত্রে তাঁর মূল আদর্শ ছিল প্রাচীন ভারতের তপোবন শিক্ষাঙ্গন।

৪। বাংলার ছাপাখানার বিকাশে পঞ্চানন কর্মকারের ভূমিকা কি ছিল?

উত্তর- বাংলা ভাষায় ছাপাখানায় হরফ নির্মাণের অন্যতম প্রাণপুরুষ হলেন পঞ্চানন কর্মকার। ব্রিটিশ টাইপোগ্রাফার চার্লস উইলকিনস এর বাংলা অক্ষরের নকশাকে আরো মার্জিত করে বাংলায় নতুন টাইপফেস তৈরি করেন তিনি। ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরির বাইবেল নিউ টেস্টামেন্ট এর বাংলা অনুবাদের জন্য টাইপফেস নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর। পঞ্চানন কর্মকারেরই নির্মিত হরফে রচিত হয় হ্যালহেডের এ গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ।

৫। বাংলার মুদ্রনের ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কি?

উত্তর- বাংলার মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের আদিতম স্থান হলো বটতলা, যার নামের উৎপত্তি কলকাতার শোভাবাজার,চিৎপুর,এলাকার একটি বিশাল বটগাছকে কেন্দ্র করে। শ্যামবাজার,জোড়াসাঁকো,শিয়ালদহ ইত্যাদি স্থানে সাধারণ জনগণের রুচি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকাশনা চলত যা বটতলা প্রকাশনা নামে পরিচিত ছিল। স্বদেশী কারিগরির বিশেষত্বের জন্য এই প্রকাশনা বিখ্যাত ছিল।

৬। চার্লস উইল্কিন্স কে ছিলেন?

উত্তর- ব্রিটিশ প্রাচ্যভাষাবিদ, এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা-সদস্য ও সর্বোপরি আধুনিক বাংলা ও ফারসি মুদ্রাক্ষরের জনক হলেন চার্লস উইল্কিনস।তিনিই ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ যিনি প্রাচ্য ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হন ও প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পুনঃনির্মাণের জন্য সংস্কৃত ভাষা ও লিপির পাঠোদ্ধার ও পারদর্শিতা লাভ করেন।

৭। বাংলা লাইনোটোপ প্রবর্তনের গুরুত্ব কি?

উত্তর- বাংলা টাইপকে আরো উন্নত করে লাইনো টাইপ প্রবর্তনের পুরোধা হলেন সুরেশ চন্দ্র মজুমদার। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে লাইনো টাইপ বাংলার অক্ষর বিন্যাসে সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নেয়।উন্নতমানের মুদ্রণ পদ্ধতি ও তার বিকাশলাভের সূত্রপাত হয় ঢাকার ইডেন প্রেসে সূচনা হওয়া লাইনো টাইপের মধ্যে দিয়ে।

৮। বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে ছাপাখানার বিকাশের প্রভাব কতটা?

উত্তর- ঊনবিংশ শতকের ত্রিশ এর দশক থেকেই বাংলায় ছাপাখানার আধুনিকতা ও সাংস্কতিক জীবনে প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এই পর্ব থেকে ছাপাখানা একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে ও সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভের একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রসার ও বর্ণমালার সংস্কার এ ক্রমেই সাংস্কৃতিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষেরা এগিয়ে আসতে থাকে।

৯। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?

উত্তর- ঊনবিংশ শতকের ভারতে প্রচলিত ব্রিটিশ সরকারের পাশ্চাত্য তথা ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার যে ত্রুটি গুলি চোখে পড়ে সেগুলি হলো মূলত ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারা,ভাষাগত সমস্যা অর্থাৎ মিশনারীদের কর্মকাণ্ড,মুসলিম ও নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি উদাসীনতা, প্রাথমিক শিক্ষাকে অবহেলিত করা ইত্যাদি।

১০। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী কী কারণে স্মরণীয়?

উত্তর- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন একাধারে শিল্পী , মুদ্রাকর ও শিশু সাহিত্যিক। উপেন্দ্রকিশোর এর সাহিত্যকর্মের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পুরাণ ও মহাকাব্যের কাহিনীকে শিশুদের পাঠ্যকাহিনীতে রূপ প্রদান। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারতে ইউ রায় এন্ড সন্স প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের মুদ্রণ ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন।

আরো পড়ো → আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৪]

১। বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি ভূমিকা আলোচনা করো। [পর্ষদ নমুনা]

উত্তর- একাধারে শিশুসাহিত্যিক, শিল্পীর পাশাপাশি বাংলা তথা ভারতের মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা জগতের ক্ষেত্রেও এক অবিস্মরণীয় ও উল্লেখযোগ্য নাম হলো উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। বাংলায় সর্বপ্রথম উচ্চমানের মুদ্রণ ব্যবস্থা ও ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা করেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। এই উদ্দেশ্যেই তিনি ১৮৯৫ সালে ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’ নামক ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। উপেন্দ্রকিশোরই বাংলায় হাফটোন পদ্ধতি, রঙিন ব্লক ইত্যাদির সূচনা করেন।

তৎকালীন বাংলায় ছাপাখানার একটি প্রধান সমস্যা ছিল বহুবর্ণের চিত্র মুদ্রণের উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাব,সেই উদ্দেশ্যই মূলত উপেন্দ্রকিশোর বিদেশ থেকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আনয়ন করে কর্নওয়ালিশ স্ট্রিটে এই ছাপাখানা গড়ে তোলেন। তিনি এই বিষয়ে এতটাই উৎসাহী ছিলেন যে উন্নত প্রযুক্তিসহ ছাপাখানা নির্মাণের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের জন্য ময়মনসিংহের নিজের জমিদারি বিক্রয় করে দেন।

উপেন্দ্রকিশোর এর প্রতিষ্ঠিত এই ছাপাখানা মুদ্রণশিল্পে অভুতপূর্ব বিকাশ আনার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চালায়। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে স্ক্রিন অ্যাডজাস্টার যন্ত্র, ডায়াফর্ম সিস্টেম প্রভৃতি ব্যবহার করে রঙিন ছবি ছাপার ব্যবস্থা করেন। এই ইউ রায় এন্ড সন্স থেকেই উপেন্দ্রকিশোর এর বহু বিখ্যাত লেখা যেমন- টুনটুনির বই, ছেলেদের মহাভারত প্রভৃতি সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়েছিল।
KeyPoints
ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা কবে হয় কে করেন- পূর্ববর্তী সময়ে ছাপাখানার সমস্যা ও তার সমাধান – উপেন্দ্রকিশোরের ছাপাখানার বিশেষত্ব


 Buy Now – মাধ্যমিক ২০২৩ চ্যাপ্টার টেস্ট ই-বুক সিরিজ 

২। বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের কিরূপ অবদান ছিল? [মাধ্যমিক’ ১৯]

উত্তর- বাংলা তথা ভারতে ঊনবিংশ শতকের বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ড: মহেন্দ্রলাল সরকার। বিজ্ঞানচর্চার পথকে ও অন্ধ কুসংস্কারের থেকে সরে এসে যুক্তিবাদের পথকে তিনি সমর্থন করে বাঙালি জাতির মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার ও যুক্তিবাদের বিকাশের পথকে মসৃন করার চেষ্টায় উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। প্রাথমিকভাবে তিনি ছিলেন অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক। ১৮৬৩ সালে তিনি এম.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তার পেশা হয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। ১৮৬০ এর দশক থেকেই তিনি বাঙালি জাতির মধ্যে অন্ধবিশ্বাসকে দূর করে যুক্তিবাদের প্রসারে ব্রতী হন ও এটা করতে গেলে যে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশ প্রয়োজন তা তিনি উপলব্ধি করেন ও ১৮৬৭ সাল থেকেই বিজ্ঞানচর্চা কেন্দ্রিক সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন ও জনমত গ্রহণ করতে থাকেন। অবশেষে ড: মহেন্দ্রলাল সরকারের প্রচেষ্টায় ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসােসিয়েশন ফর দ্যা কাল্টিভেশন অব সায়েন্স (আই. এ. সি. এস) বা ভারতবর্ষীয় বিজ্ঞান সভা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল কেবল বাংলাই নয় সমগ্র ভারতের প্রথম বিজ্ঞানসভা। এই প্রতিষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণা করা। সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের বহু বৈজ্ঞানিক এই সভায় যুক্ত হন। আই.এ.সি.এস এর নিজস্ব পত্রিকা ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ফিজিক্সে বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরামন প্রমুখরা এই প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষণাকার্যে বিভিন্ন সময় নিযুক্ত হন। এই প্রতিষ্ঠানেই রমন ক্রিয়া, চৌম্বকত্ত্ব, আলোক বিজ্ঞান নানা বিষয়ে গবেষণাকার্য সম্পন্ন হয়।
KeyPoints
বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে ড: মহেন্দ্রলাল সরকারের ভূমিকা – ভারতবর্ষীয় বিজ্ঞান সভার প্রতিষ্ঠা – এবং সেই সভার উদ্দ্যেশ্য – গবেষণাকার্য ও বিভিন্ন গবেষক ব্যাক্তিবর্গ

৩। ছাপা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো। [মাধ্যমিক’ ১৭, ১৯]

উত্তর- অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে ভারতে ছাপাখানার বিস্তার তৎকালীন শিক্ষাকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছিল। তৎকালীন সময়ে ইংরেজি ভাষায় পাশ্চাত্য শিক্ষার বহুল প্রচলন ও বহু সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে পাঠ্যপুস্তকের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে ছাপাখানা শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও সকলের জন্য যেসমস্ত পাঠশালা সেই সময় নির্মিত হয়েছিল সেগুলোতেও পাঠ্যক্রম গড়ে ওঠে ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ও বাংলা ভাষায়। সেক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক আবশ্যক হয়ে পড়ে। শিক্ষাবিস্তারে এই বিপুল চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ছাপা বই এর অবদান অনস্বীকার্য হয়ে ওঠে। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষা কিভাবে বিস্তৃত হয় তা আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় যে পূর্বে শিক্ষাদান ছিল উচ্চবিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার ফলে কম খরচে বই সমস্ত শ্রেণীর মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও মধ্যবিত্তরাও সুযোগ পায়। ছাপা বই হাতে লেখা পুঁথিতে হওয়া ভুলভ্রান্তি থেকে অনেকটাই মুক্ত ছিল এইসমস্ত কারণেই ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষা দ্রুতহারে বিস্তৃত হতে থাকে ও ছাপাখানাগুলি ভারতের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনতে শুরু করে।
KeyPoints
সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা – ছাপাখানার প্রয়োজনীয়তা – সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার প্রসার

আরো পড়ো → Our Runaway Kite – Question – Answer

রচনাধর্মী প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৮]

১। মানুষ, প্রকৃতি ও শিক্ষার সমন্বয় বিষয়ে রবিন্দ্রনাথের চিন্তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। [মাধ্যমিক’১৮]

উত্তর- ঊনবিংশ শতকের শেষ পর্যায়ে ও বিংশ শতকের সূচনাপর্বে শিক্ষার উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও মানুষ-প্রকৃতি-শিক্ষার সমন্বয় নিয়ে যে সমস্ত ভারতীয় মনীষী চিন্তাভাবনা করেছিলেন তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্রগণ্য। রবী ঠাকুর মনে করতেন ভারতবর্ষে শিক্ষা, সভ্যতার মূল হলো বনাঞ্চল, শহর নয়। তার মতে ভারতীয় সভ্যতা পরিপূর্ণ হয়েছে বিভিন্ন তপস্বীদের জ্ঞান ও বোধের মিশ্রনে।প্রথাগত চার দেওয়ালে আবদ্ধ শিক্ষার তুলনায় মুক্ত প্রকৃতির কোলে ও মুক্ত আকাশের তলে শিক্ষাকেই রবীন্দ্রনাথ অধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। আদর্শ প্রাকৃতিক পরিবেশ একজন শিশু বা কিশোরকে মানুষ করে তুলতে প্রধান ভূমিকা নেয় বলেই তিনি মনে করতেন। বিশ্বপ্রকৃতির সাথে মানুষের নিজের যুক্ত থাকার বোধকে জাগ্রত করা, প্রাচীন ভারতের এই শিক্ষারীতিকেই রবীন্দ্রনাথ অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। শান্তিনিকেতন,বিশ্বভারতী, শ্রীনিকেতন প্রমুখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগস্থাপন এর আকাঙ্ক্ষাকে অনুসরণ করেছিলেন।

মানুষের সাথে শিক্ষার সমন্বয় রবী ঠাকুরের কাছে খুবই প্রাধান্য পেয়েছিল, তিনি মনে করতেন শিক্ষা এমনই হওয়া উচিত যেখানে উচ্চ নিচ বা শিক্ষিত-অশিক্ষিত ভেদাভেদ স্থান পাবে না। এই কারণেই তিনি কলকাতার মত বড় শহর কে না বেছে শান্তিনিকেতনের মত নির্জন গ্রাম্য পরিবেশকেই বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের স্থান হিসাবে। মুক্ত বাতাস, মুক্ত পরিবেশ এ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান ছিল রবীন্দ্রনাথ এর মূল স্বপ্ন,যদিও তৎকালীন ঔপনিবেশিক বস্তুবাদী সমাজে এই ধরণের মুক্ত চিন্তার ও মুক্ত পরিবেশে ব্যাতিক্রমী ভাবে শিক্ষা প্রদান দীর্ঘকাল যাবৎ বজায় রাখা সম্ভবপর ছিল না। ফলে কিছু নিজস্বতা ধরে রাখার সাথে সাথে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলিকেও শান্তিনিকেতন কে অনুসরণ করতে হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপলব্ধি করেছিলেন যে ঔপনিবেশিক প্রথাগত ইংরেজি শিক্ষা একটি মানুষের মনের মুক্তচিন্তা,প্রসারতা,চারিত্রিক বিকাশ ঘটা থেকে বিরত করে রাখছে। তাই মানুষকে প্রকৃত রূপে শিক্ষিত করে তুলতে তথা সামগ্রিকভাবে পরিবেশ এর সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষাদান এর জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেন ও মানুষের মধ্যে মনুষত্ববোধ ও প্রকৃতিপ্রেম জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হন। বর্তমান সমাজে প্রকৃতির প্রতি বেড়ে চলা নিত্য অনীহা , প্রকৃতির অঙ্গ গাছপালাদের ধ্বংস করে বড় বড় ইমারত গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষ নিজেই তার মারণাস্ত্র প্ৰস্তুত করে চলেছে, আমাদের উচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা ও শিক্ষার সাথে প্রকৃতির সমন্বয় এর ধারণাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যাতে আমরা প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠি নিজেদের প্রানের তাগিদেই।
KeyPoints
শিক্ষার সাথে রবি ঠাকুরকর্তিক প্রকৃতির সংযোগ স্থাপন – বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রসারে শান্তিনিকেতন – প্রকৃতিকে রক্ষার প্রয়াস

আরো পড়ুন → সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ – প্রশ্ন ও উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner