বারিমণ্ডল – প্রশ্ন উত্তর | Barimondol – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
barimondol-QA
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – বারিমণ্ডল | Barimondol – Question Answer (Chapter 3)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের তৃতীয় অধ্যায় – থেকে বারিমণ্ডল সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। শৈবাল সাগর দেখা যায় –
ক) আটলান্টিক মহাসাগরে খ) ভারত মহাসাগরে গ) কুমেরু মহাসাগরে ঘ) সুমেরু মহাসাগরে

উত্তর- শৈবাল সাগর দেখা যায় ক) আটলান্টিক মহাসাগরে।

2। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে –
ক) সাময়িক বায়ু খ) নিয়ত বায়ু গ) স্থানীয় বায়ু ঘ) আকস্মিক বায়ু

উত্তর- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে খ) নিয়ত বায়ু।

3। হিমপ্রাচীর দেখা যায় –
ক) আটলান্টিক মহাসাগরে খ) কুমেরু মহাসাগরে গ) ভারত মহসাগরে ঘ) বঙ্গোপসাগরে

উত্তর- হিমপ্রাচীর দেখা যায় ক) আটলান্টিক মহাসাগরে।

4। আটলান্টিক মহাসাগরে শৈবাল সাগর সৃষ্টি হওয়ার জন্য যে স্রোতের বিশেষ ভূমিকা আছে, তা হল –
ক) ল্যাব্রাডর স্রোত খ) ক্যানারি স্রোত গ) বেঙ্গুয়েলা স্রোত ঘ) পেরু স্রোত

উত্তর- আটলান্টিক মহাসাগরে শৈবাল সাগর সৃষ্টি হওয়ার জন্য যে স্রোতের বিশেষ ভূমিকা আছে, তা হল খ) ক্যানারি স্রোত।

5। উষ্ণ পেরু স্রোতের অপর নাম –
ক) হামবোল্ড স্রোত খ) এলনিনো স্রোত গ) লা নিনা স্রোত ঘ) ওয়াশিয়ো স্রোত

উত্তর- উষ্ণ পেরু স্রোতের অপর নাম ক) হামবোল্ড স্রোত।

6। এলনিনোর প্রভাব দেখা যায় –
ক) আটলান্টিক মহাসাগরে খ) প্রশান্ত মহাসাগরে গ) ভারত মহাসাগরে ঘ) সুমেরু মহাসাগরে

উত্তর- এলনিনোর প্রভাব দেখা যায় খ) প্রশান্ত মহাসাগরে।

7। পৃথিবীর মোট আয়তনের জল ভাগ দ্বারা আবৃত অংশ প্রায় –
ক) 61% খ) 81% গ) 71% ঘ) 91%

উত্তর- পৃথিবীর মোট আয়তনের জল ভাগ দ্বারা আবৃত অংশ প্রায় গ) 91%।

8। ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত প্রবাহিত হয় কোন্‌ মহাসাগরে?
ক) আটলান্টিক খ) ভারত গ) প্রশান্ত ঘ) কুমেরু

উত্তর- ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত প্রবাহিত হয় গ) প্রশান্ত মহাসাগরে।

9। ল্যাব্রাডর স্রোত একপ্রকার –
ক) উষ্ণ স্রোত খ) শীতল স্রোত গ) নাতিশীতোষ্ণ স্রোত ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- ল্যাব্রাডর স্রোত একপ্রকার খ) শীতল স্রোত।

10। মৌসুমি বায়ু যে মহাসাগরের স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা হল –
ক) প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোতকে খ) ভারত মহাসাগরের স্রোতকে গ) আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতকে ঘ) সুমেরু মহাসাগরের স্রোতকে

উত্তর- মৌসুমি বায়ু যে মহাসাগরের স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা হল খ) ভারত মহাসাগরের স্রোতকে।

আরো পড়ো → পূরক কোণের ত্রিকোণমিতিক অনুপাত অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর- সমুদ্রে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের বয়ে আনা হিমশৈলগুলি উষ্ণ জলের স্পর্শে গলে যায়।মহাদেশীয় অংশ থেকে আগত হিমশৈলের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ নুড়ি, কাঁকর, বালি, পাথর, খনিজ দ্রব্য। প্রভৃতি উষ্ণ জলের সংস্পর্শে এগুলি গলে গেলে ওইসব পদার্থ সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে।

2। হিমপ্রাচীর কাকে বলে?
উত্তর- উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে উত্তরমুখী উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ঘন নীল জল এবং দক্ষিণমুখী শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সবুজ জলের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা দেখা যায়। এই বিভাজন রেখাকে হিমপ্রাচীর বলে।

3। ষাঁড়াষাঁড়ির বান কাকে বলে?
উত্তর- ভরা কোটালের দিনে সমুদ্রের জল নদীখাতে যখন প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঘটিয়ে ঢুকে পরে তখন ভাটার স্রোতের বাধায় জোয়ার আরও বেশি ফুলে ওঠে এবং এই ফুলে ওঠা জল তরঙ্গরূপে যেন এক খাড়া দেওয়াল তৈরি করে। এরকম প্রবল জলস্ফীতিকে তেজি ষাঁড়ের যুদ্ধরত অবস্থার সঙ্গে তুলনা কর ষাঁড়াষাঁড়ির বান বলে।

আরো পড়ো → বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্ন ও উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

1। জোয়ার ভাটার প্রভাব বা ফলাফল লেখো।
উত্তর- সমুদ্র ও নদনদীর উপকুলের কাছে জোয়ার ভাটার প্রভাব খুব বেশি থাকে। সুফল ও কুফলগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল –
জোয়ার ভাটার সুফল
• জোয়ারের ফলে নদীর জল পরিষ্কার থাকে। জোয়ার ভাটার ফলে আবর্জনা নিষ্কাশিত হয়ে নদীর জল পরিষ্কার থাকে।
• বর্তমানে জোয়ারের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
• জোয়ারের জলের টানে নদী মোহনায় সঞ্চিত পলিমাটি সমুদ্রের দিকে চলে যায়, নদী পলিমুক্ত হয় ফলে বদ্বীপ গঠনে বাধা পরে।
• জোয়ারের সময় অগভীর নদীগুলিতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নৌ চলাচলের সুবিধা হয়।
• জোয়ারের সময় সমুদ্রের মাছ নদীতে চলে আসে, জেলেরা সেই মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
জোয়ার ভাটার কুফল
•জোয়ারের ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত জল নদীতে এসে পড়লে সেই জল সেচের কাজে ব্যবহার করা যায় না এবং পানীয় হিসেবে অযোগ্য হয়ে পরে।
• জোয়ারের প্রবল বেগের জন্যে নৌকা, লঞ্চ ও ছোট জাহাজের ক্ষতি হয়।
• নদীর নাব্যতা ও গভীরতা কমে যায় জোয়ারের ফলে সঞ্চিত পলির ফলে।

2। বান বা বান ডাকা বলতে কি বোঝ? কি কি অবস্থায় নদীতে বান দেখা যায়?
উত্তর- ভরা কোটালের দিনে জোয়ারের সময় সমুদ্র স্ফীত হয় বলে সমুদ্রের জল মােহনা দিয়ে দ্রুত নদীতে প্রবেশ করে, তখন ভাটার স্রোতে বাধা পেয়ে নদীর জল আরো ফুলে ওঠে, ফলে নদীর জলও তখন বেড়ে যায়। এইভাবে জোয়ারের জল নদীতে আসার সময়, মাঝে মাঝে অত্যধিক উঁচু (5-7 মিটার) হয়ে প্রবল বেগে নদীতে প্রবেশ করে, একেই বলে বান বা বানডাকা। দূর থেকে এই বান আসার গর্জন শোনা যায়, তাই একে বানডাকা বলা হয়।
যে অবস্থায় বান প্রবল হয়ঃ
কতকগুলি বিশেষ অবস্থায় নদীতে বান খুব প্রবল হয়, যেমন:
ক) জোয়ার ও ভাটার জলের মধ্যে তারতম্য কমপক্ষে 6 মিটার থাকা দরকার
খ) তেজ কোটালের সময়,
গ) নদীর মােহানায় চড়া থাকলে,
ঘ) জোয়ারের জল প্রবেশ করার সময় নদীর স্রোতে বা অন্যভাবে বাধা পেলে,
ঙ) নদীর মুখ ফানেল-আকৃতির হলে এবং
চ) নদী জলপূর্ণ থাকলে।

3। পেরিজি ও অ্যাপোজির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর- চাঁদ নিজ কক্ষপথে পৃথিবীকে পরিক্রমণ কালে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব থাকে সবচেয়ে কম (375000 কিমি)। এই অবস্থানকে পেরিজি বলে। পেরিজি অবস্থানে চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হওয়ায় জোয়ার প্রবল হয়। এই জোয়ারকে অনুভূ জোয়ার বলে।
পৃথিবীকে পরিক্রমণকালে চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকলে তখন তাকে অ্যাপোজি অবস্থান বলে। অ্যাপোজি অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর দুরত্ব থাকে 470000 কিমি। অ্যাপোজি অবস্থানে চাঁদের আকর্ষণ বল কম হয়, ফলে জোয়ার দুর্বল হয়। এই জোয়ারকে অপভূ জোয়ার বলে।

4। নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে মগ্নচড়া সৃষ্টি হয়েছে কেন?
উত্তর- উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের বয়ে আনা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে গলে যায়। ফলে ওতে সঞ্চিত নুড়ি, কাকর প্রভৃতি মহীসোপান অঞ্চলে জমা হয়ে মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শীতল লাব্রাডার স্রোতের সঙ্গে আসা হিমশৈলগুলি উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সংস্পর্শে গলে গিয়ে সমুদ্র তলদেশে নুড়ি, কাকর, বালি, পলি, কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে এই হিমশৈল সঞ্চিত হয়ে মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয়েছে। মহীসোপানে এই মগ্নচড়াটি বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য আহরণের জন্য বিখ্যাত।

5। হিমশৈল বলতে কী বোঝ?
উত্তর- উচ্চ অক্ষাংশ (হিম মন্ডল) এ, সমুদ্রে ভাসমান বৃহদায়তন বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে।
ওলন্দাজ শব্দ ‘ijsberg’-এর আক্ষরিক অর্থ হল বরফের পর্বত। হিমমণ্ডলে অবস্থিত মহাদেশীয় হিমবাহের প্রান্তভাগ বা সমুদ্র উপকুলীয় অংশ মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে বিশাল বা ক্ষুদ্রাকতি বরফের চাঁই হিসেবে ভাসমান থাকে।
হিমশৈলের বৈশিষ্ট্য
ক) এই ধরনের বরফের চাই অনেকসময় বিশাল বরফের স্তুপরূপে সমুদ্রের জলে ভাসতে ভাসতে অগ্রসর হয়।
খ) হিমশৈল সমুদ্রের জলরাশির গতিকে প্রতিহত করে।

আরো পড়ো→ চলতড়িৎ অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর- সমুদ্র স্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হল –
• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ:
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট দিকে, নির্দিষ্ট গতিতে সারাবছর প্রবাহিত হয়। সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণজনিত বলের প্রভাবে জলরাশিকে নিজের দিকপথে চালিত করে ফলে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
• ঋতুভেদ:
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জলের লবণতা ও ঘনত্ব বাড়ে ও কমে। এছাড়াও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের জন্য সমুদ্র স্রোতের গতির দিকের পরিবর্তন ঘটে।
• পৃথিবীর আবর্তন গতি:
ফেরেলের সূত্র অনুসারে, পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য সমুদ্র স্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেকে প্রবাহিত হয় ।
• সমুদ্র জলে উষ্ণতার তারতম্য:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণতা প্রসারিত হওয়ায় আয়তনে বেড়ে যায় এবং এই হালকা স্রোত মেরুপ্রদেশের দিকে এবং শীতল মেরু অঞ্চল থেকে ভারী, শীতল স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্রের জলে লবনতা ও ঘনত্বের তারতম্য:
অধিক লবণাক্ত জল ঘন ও ভারী হওয়ায় কম লবণাক্ত জলের দিকে অন্তঃস্রোত হিসেবে প্রবাহিত হয়। কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় ঘন লবণাক্ত জলের দিকে বহি স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• বরফের গলন:
বরফ গলে গেলে ঠাণ্ডা জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। বরফ লবণাক্ত জলকণা কে পৃথক করে জলের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। তখন সমুদ্রের জল ভারী হয়ে অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।

2। জোয়ারভাটা সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর- প্রধানত দুটি কারণে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়। যথা- ক) পৃথিবীর ওপর চঁদ ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষ বলের প্রভাব এবং খ) পৃথিবীর আবর্তন জনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব।
• পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষ বলের প্রভাব:
নিউটনের মহাকর্ষ নিয়ম অনুযায়ী পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। যে বস্তুর ভর যত বেশি আকর্ষণ বল তার তত বেশি এবং যে বস্তুর দূরত্ব যত বেশি তার আকর্ষণ বল তত কম। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব 15 কোটি কিমি এবং চাঁদ 384000 কিমি দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ বল 2.2 গুণ বেশি। প্রধানত চাঁদের আকর্ষণেই সমুদ্রের জল স্ফীত হয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করে। জোয়ারের সমকোণস্থ অঞ্চলের জলতল নেমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি করে। সূর্যের চন্দ্রের চেয়ে প্রায় 255 লক্ষ গুণ ভারি হলেও বহু দূরে অবস্থিত হওয়ার জন্য সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত প্রবল হয় না। সিজিগি অবস্থানে পৃথিবীর একই স্থানে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ কার্যকরী হওয়ায় জোয়ার খুব প্রবল হয়।
• পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব:
পৃথিবীর আবর্তনজনিত কারণে কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে সমুদ্রের জলরাশি বাইরের দিকে বিক্ষিপ্ত হওয়ায় প্রবণতা লাভ করে। এই বল মহাকর্ষ বলের বিপরীতে কাজ করে। অর্থাৎ চাঁদের আকর্ষণে যে স্থানে জোয়ার হয় তার বিপরীতে প্রতিপাদ স্থানে কেন্দ্রাতিগ বল অধিক কার্যকরী হওয়ায় সেখানে জোয়ার (গৌণ জোয়ার) হয়, তবে প্রাবল্য তুলনামূলক কম। জোয়ারের স্থানে বিপুল জলরাশি সরবরাহের জন্য এদের মধ্যবর্তী সমকোণস্থ স্থানগুলিতে জলতল নেমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি করে।

আরো পড়ো → বায়ুমণ্ডল – প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner