ভারতের ভূ প্রকৃতি – প্রশ্ন উত্তর | Bharater bhuprokriti – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
bharater-bhuprokriti
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – Bharater vuprokriti | ভারতের ভূ প্রকৃতি (Chapter 5)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের পঞ্চম অধ্যায় – ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ভারতের ভূ প্রকৃতি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। শিবালিক হিমালয়ের পাদ দেশীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিলাখন্ড সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়েছে, তাকে বলে- [পর্ষদ নমুনা, মাধ্যমিক ১৮]
(ক) খাদার (খ) ভাঙ্গর (গ) ভাবর (ঘ) বেট

উত্তর- শিবালিক হিমালয়ের পাদ দেশীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিলাখন্ড সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়েছে, তাকে বলে (গ) ভাবর।

২। ভারতের সাতপুরা একটি-
(ক) ক্ষয়জাত পর্বত (খ) স্তূপ পর্বত (গ) ভঙ্গিল পর্বত (ঘ) আগ্নেয় পর্বত

উত্তর- ভারতের সাতপুরা একটি (খ) স্তূপ পর্বত।

৩। আন্দামানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ-
(ক) স্যাডল পিক (খ) ধূপগড় (গ) নিকোবর (ঘ) হ্যারিয়েট

উত্তর- আন্দামানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (ক) স্যাডল পিক।

৪। গঙ্গা সমভূমির নতুন পলিমাটিযুক্ত অঞ্চলকে উত্তরপ্রদেশ-
(ক) বেট (খ) ভাবর (গ) তরাই (ঘ) খাদার

উত্তর- গঙ্গা সমভূমির নতুন পলিমাটিযুক্ত অঞ্চলকে উত্তরপ্রদেশ (ঘ) খাদার।

৫। ভারতের দক্ষিণতম পর্বত হল
(ক) নীলগিরি (খ) কার্ডামম (গ) আনাইমালাই (ঘ) পালনি

উত্তর- ভারতের দক্ষিণতম পর্বত হল (খ) কার্ডামম।

৬। সাতপুরা পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম-
(ক) মহাবালেশ্বর (খ) দোদাবেতা (গ) ধূপগড় (ঘ) মহেন্দ্রগিরি

উত্তর- সাতপুরা পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম (গ) ধূপগড়।

৭। ভারতের সর্বাপেক্ষা ভগ্ন উপকূলটি
(ক) মালাবার উপকূল (খ) ওড়িশা উপকূল (গ) কোঙ্কণ উপকূল (ঘ) করমন্ডল উপকূল

উত্তর- ভারতের সর্বাপেক্ষা ভগ্ন উপকূলটি (গ) কোঙ্কণ উপকূল।

৮। ভারতের উচ্চতম মালভূমিটি হল-
(ক) মেঘালয় (খ) পামির (গ) তিব্বত (ঘ) লাদাখ

উত্তর- ভারতের উচ্চতম মালভূমিটি হল (ঘ) লাদাখ।

৯। রাজস্থানের প্রস্তরময় মরুভূমির নাম-
(ক) হামাদা (খ) ধান্দ (গ) বাগার (ঘ) রোহি

উত্তর- রাজস্থানের প্রস্তরময় মরুভূমির নাম (ক) হামাদা।

১০। ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বতের নাম-
(ক) বিন্ধ্য (খ) নীলগিরি (গ) আরাবল্লি (ঘ) হিমালয়

উত্তর- ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বতের নাম (গ) আরাবল্লি।

আরো পড়ো → সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা – প্রশ্ন উত্তর
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি? [পর্ষদ নমুনা]
উত্তর- ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কাঞ্চনজঙ্ঘা।

২। ভারতের সর্বোচ্চ গিরিপথ কোনটি? [মাধ্যমিক ১৭]
উত্তর- ভারতের সর্বোচ্চ গিরিপথ গিয়ং লা।

৩। পশ্চিম ঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি? [মাধ্যমিক ১৭, ১৯]
উত্তর- পশ্চিম ঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম আনাইমুদি।

৪। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার দক্ষিণতম গিরিপথটির নাম কি? [মাধ্যমিক ২০]
উত্তর- পশ্চিমঘাট পর্বতমালার দক্ষিণতম গিরিপথটির নাম পালঘাট।

৫। ভারতের উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গের নাম কি?
উত্তর- ভারতের উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গের নাম k2 বা গডউইন অস্টিন।

৬। মেঘালয়ের উচ্চতম অংশটির নাম কি?
উত্তর- মেঘালয়ের উচ্চতম অংশটির নাম শিলং।

৭। মালাবার উপকূলে হ্রদগুলি কি নামে পরিচিত?
উত্তর- মালাবার উপকূলে হ্রদগুলি কয়াল নামে পরিচিত।

৮। যমুনোত্রী হিমবাহটি কোন হিমালয়ে অবস্থিত?
উত্তর- যমুনোত্রী হিমবাহটি গাড়োয়াল হিমালয়ে অবস্থিত।

৯। আরাবল্লি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি?
উত্তর- আরাবল্লি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম গুরুশিখর।

১০। রাজস্থানের মরুভূমির পশ্চিমাংশ কি নামে পরিচিত?
উত্তর- রাজস্থানের মরুভূমির পশ্চিমাংশ মরুস্থহলী নামে পরিচিত।

আরো পড়ো → The passing away of Bapu – Question Answer

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। দুন উপত্যকা কাকে বলে? [পর্ষদ নমুনা]
উত্তর- কুমায়ুন হিমালয় অর্থাৎ হিমাচল হিমালয় ও শিবালিক হিমালয়ের মধ্যবর্তী অংশে যেসব সমপ্রায় মনোরম উপত্যাকা গড়ে উঠেছে তাদের দুন বলা হয়। যেমন- উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন।

২। মরুস্থলী কথার অর্থ কি? এই নামকরণের কারণ কি? [মাধ্যমিক ১৪]
উত্তর- মরুস্থলী কথার অর্থ মৃতের দেশ। অর্থাৎ যেখানে প্রাণের কোনো অস্ত্বিত্ব নেই।ভারতের মরু শহর রাজস্থানে জনশুন্য উদ্ভিদহীন এইরুপ অঞ্চল দেখতে পাওয়া যায় বলে এইরুপ নামকরণ হয়েছে।

৩। কয়াল কি? [মাধ্যমিক ১৪]
উত্তর- মালাবার উপকূলে সমুদ্রের সাথে আংশিক যুক্ত যে সব ব্যাকওয়াটার্স বা উপহ্রদ দেখা যায় তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কয়াল বলে। যেমন- ভেম্বনাবাদ, অষ্ঠমুদি।

৪। তাল কি? উদাহরণ দাও। [মাধ্যমিক ১৬]
উত্তর- হিমবাহের ক্ষয়কার্যের প্রভাবে কুমায়ুন হিমালয়ে অসংখ্য অবনমিত অঞ্চলে জল জমে যে হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে তাল বলে। যেমন- ভীম তাল, সাততাল প্রভৃতি।

৫। কর্ণাটক মালভূমির দুটি ভুপ্রাকৃতিক অংশের নাম লেখো। [মাধ্যমিক ১৬, ১৮]
উত্তর- কর্ণাটক মালভূমির দুটি ভুপ্রাকৃতিক অংশের নাম ক) ময়দান, খ) মালনাদ।

৬। মালনাদ কি?
অথবা, মালনাদ অঞ্চল কোথায় অবস্থিত? [মাধ্যমিক ১৯]

উত্তর- পশ্চিমভাগে পশ্চিমঘাট পর্বতের পাদদেশে উত্তর থেকে দক্ষিনে বিস্তারিত 320 কিলোমিটার লম্বা, পূর্বদিকে 35 কিলোমিটার চওড়া উঁচু-নিচু ঢেউখেলানো পাহাড়ময় ভূমিভাগটি মালনাদ নামে পরিচিত।

৭। কারেওয়া কি?
উত্তর- কাশ্মীর উপত্যাকায় হিমবাহের ক্ষয়জাত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে যে ধাপযুক্ত ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে তাকে কারেওয়া বলে।

৮। তরাই বলতে কি বোঝো?
উত্তর- তরাই শব্দের অর্থ সিক্ত স্যাতস্যাতে ভূমি। শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গা ব্রমহপুত্র বাহিত নুড়ি, পাথরে গড়ে ওঠা সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের আধিক্যের দরুণ ঐ অঞ্চল সর্বদাই সিক্ত থাকে, তাই একে তরাই বলে।

৯। হিমালয় পর্বতের দুটি গিরিপথের নাম লেখ।
উত্তর- হিমালয় পর্বতে অবস্থিত দুটি গিরিপথ রোটাং পাস, নাথুলা।

১০। ভাবর কি?
উত্তর- উত্তরের সমভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন নদীবাহিত নুড়ি, পাথর প্রভৃতির সংমিশ্রণে যে অঞ্চল গড়ে উঠেছে তাকে ভাবর বলে। এই ভূমিরূপ সচ্ছিদ্র হবার দরুণ এই অঞ্চলে বহু নদী প্রবেশ করে ভূমিভাগের নীচে হারিয়ে যায়।

দেখে নাও প্রশ্ন উত্তর আলোচনা । ↓

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের পার্থক্য লেখো।

২। ভাঙ্গর ও খাদারের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

৩। মালনাদ ও ময়দানের পার্থক্য লেখো।

৪। ডেকান ট্র্যাপ বলতে কী বোঝ? অথবা, দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমি সম্পর্কে যা জানো সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর- এই মালভূমি বাসল্টজাতীয় লাভা দ্বারা গঠিত হয়েছে। এই মালভূমির পশ্চিম অংশে লাভা স্তরের ক্রমাগত সঞ্চয়ের ফলে সিঁড়ির ধাপের মত ভূমিরূপ সৃষ্টি করেছে। এই কারণে এই মালভূমিকে ডেকানট্রাপ বলা হয়। এই মালভূমিতে অযোধ্যা পাহাড় অবস্থিত।প্রায় ৬ থেকে ১৩ কোটি বছর আগে ভূ অভ্যন্তরস্থ ম্যাগমা ভূ পৃষ্টে বেড়িয়ে এসে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, কালক্রমে সেই তরল লাভা শীতল হয়ে জমে ব্যাসল্ট শিলায় পরিণত হয়। এবং এই দাক্ষিণাত্য মালভূমি সৃষ্টি করে।

এই মালভূমির কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলি হল-
ক) ব্যাসাল্ট শিলা দ্বারা নির্মিত হওয়ায় মৃত্তিকা কালো বর্ণের হয়।
খ) সমগ্র অঞ্চলটি পশ্চিম থেকে পূর্বে সিঁড়ির মতন ধাপে ধাপে নেমে গেছে।
গ) বিভিন্ন ক্ষয়কারী শক্তির ক্ষয়ের ফলে এই অঞ্চলের মালভূমি ব্যবচ্ছিন্ন প্রকৃতির।

৫। পশ্চিম উপকূলের সমভূমি ও পূর্ব উপকূলের সমভূমির মধ্যে পার্থক্য লেখো। [মাধ্যমিক ০৩, ০৭, ১৭]
অথবা, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো। [মডেল অ্যাকটিভিটি]

আরো পড়ো → উদ্ভিদ হরমোন প্রশ্ন – উত্তর

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয়ের শ্রেণিবিভাগ করো এবং পশ্চিম হিমালয় ও পূর্ব হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর- দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে পশ্চিম থেকে পূর্বে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
ক.পশ্চিম হিমালয়,
খ. মধ্য হিমালয়,
গ. পূর্ব হিমালয়।

ক. পশ্চিম হিমালয়
পশ্চিম হিমালয় বলতে হিমালয় পর্বতের একেবারে পশ্চিমের বা বাম দিকের অংশকে বোঝায়। এই অংশটি পশ্চিমে সিন্ধু নদীর উপত্যকা থেকে পূর্বে কালি নদীর উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই পর্বতমালা প্রায় 880 কিলোমিটার বিস্তৃত। এই হিমালয়কে তিনটি অংশে ভাগ করা যায়।

A. কাশ্মীর হিমালয়
জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত হিমালয়কে কাশ্মীর হিমালয় বলা হয়।কাশ্মীর হিমালয়ের অন্তর্গত পর্বতশ্রেণীগুলি হল কারাকোরাম, লাদাখ, জাস্কার, পিরপাঞ্জাল এবং সর্ব দক্ষিণে জম্মু ও পুঞ্চ পর্বতশ্রেণী। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা 3000 মিটার।এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি হল K2 বা গডউইন অস্টিন যা কারাকোরাম পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।পিরপাঞ্জাল ও উচ্চ হিমালয়ের মাঝে অবস্থিত কাশ্মীর উপত্যকা এই অঞ্চলে অবস্থিত।

B. পাঞ্জাব ও হিমাচল হিমালয়
পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের হিমালয়ের যে অংশটি অবস্থিত তাকে পাঞ্জাব ও হিমাচল হিমালয় বলা হয়।এই অঞ্চলের প্রধান প্রধান পর্বতগুলি হল ধউলিধর, মুসৌরি, নাগটিব্বা।কুলু, কাংড়া, লাহুল, স্পিতি উপত্যকাগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত।

C. কুমায়ুন হিমালয়
পশ্চিমে শতদ্রু নদী এবং পূর্বে কালী নদীর মাঝে উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত হিমালয়কে কুমায়ুন হিমালয় বলা হয়।নাগটিব্বা ও মুসৌরি হলো এখানকার প্রধান পর্বত। নন্দাদেবী (7,816 মিটার), কামেট (7,756 মিটার) ও ত্রিশূল হলো এই অঞ্চলের প্রধান পর্বত শৃঙ্গ।এখানকার উপত্যকাগুলি ‘দুন’ নামে পরিচিত। যেমন- দেরাদুন।এই অঞ্চলের হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ গুলি ‘তাল’ নামে পরিচিত। যেমন- নৈনিতাল, সাততাল, ভিমতাল।

খ. মধ্য হিমালয়
হিমালয়ের এই অংশটি নেপাল রাষ্ট্রের অন্তর্গত। এই অংশের প্রধান পর্বত শৃঙ্গ হল ধবলগিরি, অন্নপূর্ণা, গৌরীশংকর, মাউন্ট এভারেস্ট (8,848 মিটার) এবং মাকালু।

গ. পূর্ব হিমালয়
পূর্ব হিমালয় পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা, সিকিম, অসম, অরুণাচল প্রদেশ বিস্তৃত হয়েছে। পশ্চিমে তিস্তা নদী উপত্যকা থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপত্যকা পর্যন্ত প্রায় 700 কিলোমিটার এই হিমালয় প্রসারিত হয়েছে।সিঙ্গালিলা শৈলশিরা দার্জিলিং ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশের হিমালয়কে অরুণাচল হিমালয় নামেও অভিহিত করা হয়।নামচাবারোয়া (7,756 মিটার) এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এছাড়া কুলাকাংড়ি (7,838 মিটার) ও চামলহরী (7,326 মিটার) এখানকার উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গগুলির মধ্যে অন্যতম।

২। ভারতের উপকূল সমভূমিকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়? যে – কোনো একটি বিভাগের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর- ভারতের উপকূলীয় সমভূমিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 1. ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি 2. ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি

গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি এবং পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি পশ্চিমবঙ্গ উড়িষ্যা সীমান্তের সুবর্ণরেখা নদী থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

1. পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
এই সমভূমিকে প্রধানত ছটি ভাগে ভাগ করা যায়।

● কচ্ছ উপদ্বীপ
এই উপদ্বীপ সিন্ধু এবং লুনি নদী দ্বারা গঠিত। এছাড়া বিভিন্ন উপহ্রদ, উপকূলীয় বালিয়াড়ি এবং ছোট ছোট টিলা দ্বারা এই অঞ্চল গঠিত।
এই অঞ্চলের উত্তরে বৃহৎ রান এবং দক্ষিণ পূর্বে ক্ষুদ্র রান অবস্থিত।

● কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ
এই উপদ্বীপটি কচ্ছ উপদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত। এই অংশের মধ্যভাগে গির ও মান্ডব পর্বত অবস্থিত। গির পর্বতের মাউন্ট গিরনার (1,117 মিটার)এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

● গুজরাট সমভূমি
কচ্ছ কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থিত সমভূমিটি গুজরাট সমভূমি নামে পরিচিত। এই সমভূমিটি নর্মদা, তাপ্তি, মাহি ও সবরমতী নদীর পলি দ্বারা গঠিত।

● কোঙ্কন সমভূমি
গুজরাট সমভূমির দক্ষিণে দমন থেকে গোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় 500 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 50 থেকে 80 কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট সমভূমিটির নাম হল কোঙ্কন সমভূমি।

● কর্ণাটক সমভূমি
কোঙ্কন সমভূমির দক্ষিণ গোয়া থেকে ম্যাঙ্গালোর পর্যন্ত প্রায় 225 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 30 থেকে 50 কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট সমভূমি কর্ণাটক সমভূমি নামে পরিচিত।

● কেরল সমভূমি বা মালাবার উপকূলের সমভূমি
ম্যাঙ্গালোর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় 500 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 96 কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট উপকূলটি কেরল সমভূমি বা সমভূমি মালাবার উপকূলের সমভূমি নামে পরিচিত।
এই অঞ্চলের জলাভূমি ও হ্রদগুলি কয়াল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের ভেম্বানাদ (বৃহত্তম হ্রদ) এবং অষ্টমুদি কয়াল হল এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য হ্রদ।


আরো পড়ো → নদীর কাজ বড় প্রশ্ন – উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner