ভারতের নদনদী – প্রশ্ন উত্তর | Bharater Nadnadi – Question Answer

bharater-nadnadi
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – ভারতের নদনদী | bharater nodnodi (Chapter 5)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের পঞ্চম অধ্যায় – ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ – থেকে ভারতের নদনদী বিভাগ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে জলবিভাজিকা হল –
ক) হিমালয় পর্বত খ) বিন্ধ্য পর্বত গ) পশ্চিমঘাট পর্বত ঘ) পূর্বঘাট পর্বত

উত্তর- উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে জলবিভাজিকা হল খ) বিন্ধ্য পর্বত।

২। গঙ্গা নদীর উৎস হল –
ক) যমুনোত্রী হিমবাহ খ) জেমু হিমবাহ গ) সিয়াচেন হিমবাহ ঘ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ

উত্তর- গঙ্গা নদীর উৎস হল- ঘ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ।

৩। রাজস্থানের প্রধান নদী হল –
ক) লুনি খ) সবরমতী গ) মাহী ঘ) সরস্বতী

উত্তর- রাজস্থানের প্রধান নদী হল – ক) লু।

৪। লুনি নদী পড়েছে –
ক) কচ্ছ উপসাগরে খ) কচ্ছের রানে গ) খাম্বাত উপসাগরে ঘ) বঙ্গোপসাগরে

উত্তর- লুনি নদী পড়েছে – খ) কচ্ছের রানে।

৫। প্রদত্ত কোন্‌টি মিষ্টি জলের হ্রদ?
ক) পুষ্কর খ) উলার গ) সম্বর ঘ) চিলকা

উত্তর- খ) উলার মিষ্টি জলের হ্রদ।

৬। নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনাটি যে নদীর ওপর অবস্থিত সেটি হল –
ক) মহানদী খ) গোদাবরী গ) কৃষ্ণা ঘ) কাবেরী

উত্তর- নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনাটি যে নদীর ওপর অবস্থিত সেটি হল – গ) কৃষ্ণা।

৭। ভারতের দীর্ঘতম উপনদী –
ক) শোন খ) হুগলী গ) চন্দ্রভাগা ঘ) যমুনা

উত্তর- ভারতের দীর্ঘতম উপনদী – ঘ) যমুনা।

৮। ভারতে সবচেয়ে বড়ো নদী অববাহিকা হল –
ক) গঙ্গা খ) ব্রহ্মপুত্র গ) সিন্ধু ঘ) গোদাবরী

উত্তর- ভারতে সবচেয়ে বড়ো নদী অববাহিকা হল – ক) গঙ্গা।

৯। ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনাটি হল –
ক) ভাকরা – নাঙ্গাল পরিকল্পনা খ)দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা গ) তিস্তা পরিকল্পনা ঘ) নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনা

উত্তর- ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনাটি হল – খ)দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা।

১০। গোদাবরীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলে কারণ এটি দক্ষিণ ভারতের –
ক) দীর্ঘতম নদী খ) গুরুত্বপূর্ণ নদী গ) পবিত্র নদী ঘ) বৃহৎ অববাহিকার নদী

উত্তর- গোদাবরীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলে কারণ এটি দক্ষিণ ভারতের- ক) দীর্ঘতম নদী।

আরো পড় → ভারতের প্রশাসনিক বিভাগ – প্রশ্ন উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদীর নাম কি?
উত্তর- দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদীর নাম গোদাবরী।

২। কেরলার উপকূলের উপহ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কি বলে?
উত্তর- কেরলার উপকূলের উপহ্রদ গুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে।

৩। ভাকরা খালটি কোথায় নির্মিত হয়েছে?
উত্তর- শতদ্রু নদীর ওপর ভাকরা খালটি নির্মিত হয়েছে।

৪। ভারতের একটি লবনাক্ত হ্রদের উদাহরণ দাও।
উত্তর- ভারতের একটি লবনাক্ত হ্রদের উদাহরণ হল প্যাংগং হ্রদ।

৫। পুষ্কর হ্রদ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর- পুষ্কর হ্রদ অবস্থিত রাজস্থানে।

৬। ভারতের বৃহত্তম বহুমুখী নদী পরিকল্পনার নাম কি?
উত্তর- ভারতের বৃহত্তম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হল ভাকরা – নাঙ্গাল।

ভারতের নদনদী প্রশ্ন – উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। অন্তঃসসিলা বা ফল্গু নদী কাকে বলে?
উত্তর- চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা থাকার দরুন যে নদী ভূপৃষ্ঠ দিয়ে প্রবাহিত হবার পরিবর্তে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়, তাকে অন্তঃসসিলা বা ফল্গু নদী বলে।
এই নদী চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে ভূ-অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত হলেও চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চল শেষ হওয়ার পর নদী পুনরায় ভূপৃষ্ঠ দ্বারা প্রবাহিত হয়।

২। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি নৌচলাচলে উপযুক্ত নয় কেন?
উত্তর- দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি নৌচলাচলে উপযুক্ত নয় কারণ- ১)দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলি দাক্ষিণাত্য মাল্ভূমির উঁচুনিচু ভূভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীগুলি খরস্রোতা এবং নদীখাত অনাব্য। ২) এছাড়া দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় সারাবছর নদীতে জলের পরিমাণ একই থাকে না ও সমগ্র নদী সমবেগসম্পন্ন।

৩। ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী কেন?
উত্তর- ভারতের অধিকাংশ নদীগুলি পূর্ববাহিনী কারণ -দাক্ষিণাত্য মাল্ভূমির ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে সৃষ্ট নদীগুলি দাক্ষিণাত্য মাল্ভূমির ঢাল অনুসারে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে। যেমন-গোদাবরী, কৃষ্ণা, প্রভৃতি।
এছাড়া উত্তরের নদী গঙ্গা হিমালয় থেকে নেমে ভূমির ঢাল অনুসারে প্রথমে পূর্ববাহিনী পরে দক্ষিণবাহিনী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

৪। দামোদর উপত্যকা প্রকল্প কী?
উত্তর- পশ্চিমবঙ্গের দুঃখ হিসাবে পরিচিত দামোদর নদীতে প্রতিবছর হওয়া বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এই নদী উপত্যকাকে বহূমুখী নদী পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে দামোদর উপত্যকা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ১৯৪৮ সালে বিবিধ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। যথা- সেচের ব্যবহারের বিকাশ, ধাতব শিল্পের উন্নতি, মৃত্তিকা সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটনের বিকাশ প্রভৃতি।

৫। প্লাবন খাল কাকে বলে?
উত্তর- যে খালের মাধ্যমে কেবলমাত্র বর্ষাকালের অতিরিক্ত জলকে কাজে লাগিয়ে জলসেচ করা হয়, তাকে প্লাবন খাল বলে। যেমন- অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গে এইভাবে চাষবাস করা হয়।
বৈশিষ্ট্য- ১) বর্ষার সময় অতিরিক্ত জলকে সেচের কাজে লাগানো হয়, কিন্তু অন্যান্য সময় এই খালের গুরুত্ব কম। ২) বর্ষার জল পুষ্ট হওয়ায় অন্য সময় এই খাল অস্থায়ী প্রকৃতির।

আরো পড় → আয়নীয় সমযোজী বন্ধন প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। ভারতীয় জনজীবনে নদনদীর গুরুত্ব বা প্রভাব লেখো।
উত্তর- জনজীবনে সর্বক্ষেত্রেই নদনদীর গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত নদীমাতৃক দেশ হওয়ার ফলে নদী ভারতীয় জনজীবনেও খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।
যেমন- কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি ঘটে নদীকে কেন্দ্র করেই, সেই দিক থেকে ভারত এগিয়ে, ভারতে প্রায় 75% মানুষ জীবিকা উপার্জনের জন্য কৃষি ক্ষেত্রে উপর নির্ভরশীল। এছাড়া কৃষির পাশাপাশি শিল্প ক্ষেত্রেও নদীর অবদান অসীম, শিল্পে যে পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয় তার অভাব পূরন করে নদী শিল্পে উন্নতি সাধন ঘটায়।
এছাড়াও নদী আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন দিকে অবদান রাখে যেমন জলবিদ্যুৎ, জলপথের সুবিধা, শহর নগরের উন্নতি সাধন, মৎস্যজীবিকা প্রভৃতি।

২। আদর্শ নদী কাকে বলে? গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলে কেন?
উত্তর- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশে কোন নদীর গতিপথে যদি সুস্পষ্টভাবে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন গতি লক্ষ্য করা যায়, তাকে আদর্শ নদী বলে।
গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলে কারণ- এই নদীর গতিপথে গঙ্গার তিনটি গতি লক্ষ্য করা যায় । যথা-১)গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত 230 কিমি পার্বত্য পথে উচ্চগতি, ২) হরিদ্বার থেকে ধূলিয়ান পর্যন্ত অংশে মধ্যগতি ৩) মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত অংশে গঙ্গার নিম্নগতি লক্ষ্য করা যায়।

৩। ভারতের দুটি জল বিভাজিকা অঞ্চলের নাম লেখো। [মাধ্যমিক ১৯]
উত্তর- যে উচ্চভূমি দুই বা ততোধিক নদীগোষ্ঠীকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে।নদীমাতৃক দেশ ভারতের দুটি জলবিভাজিকার নাম হল বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত এবং মধ্যভারতের উচ্চভূমি ও ছোটোনাগপুর মাল্ভূমি। এই দুই জলবিভাজিকা ভারতের নদীগুলিকে দুভাগে তথা উত্তর ভারতের নদনদী ও দক্ষিণ ভারতের নদনদী এই দুভাগে ভাগ করেছে। বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত ভারতের পশ্চিমভাগে এবং ছোটোনাগপুর মালভূমি ভারতের পূর্বভাগে অবস্থিত।

আরো পড় → Fable – Question Answer

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। উত্তর ভারতের নদীগুলির বৈশিষ্ট্য লেখো। [মাধ্যমিক ১৫]
উত্তর- হিমালয়ের উত্থানের সময় থেকে যে সমস্ত নদীগুলির উৎপত্তি হয় তা প্রায় বেশীর ভাগই উত্তর ভারতের নদী।
উত্তর ভারতের নদীগুলির মধ্যে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় সেগুলি হল –
1) উত্তর ভারতের নদীগুলির দৈর্ঘ্য অনেক বেশী।
2) উত্তর ভারতের নদীগুলি বেশীরভাগই হিমালয় পর্বতমালা থেকে উত্থিত হয়েছে।
3) পার্বত্য অঞ্চলে নদীগুলি তীব্র বেগসম্পন্ন এবং সমভূমিতে মৃদুবেগ সম্পন্ন।
4) এই সমস্ত নদীগুলি পূর্ববর্তী নদীর উদাহরণ।
5) এই নদীগুলিতে উপনদীর সংখ্যা খুব বেশী থাকে।
6) এই সমস্ত নদীগুলি অধিকাংশই বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক নদী আরব সাগরে পতিত হয়েছে।
7) উত্তর ভারতের নদীগুলিতে বিশাল আকৃতির বদ্বীপ গড়ে ওঠে|
8) উত্তর ভারতের নদীগুলি উর্বর সমভূমিতে গড়ে উঠতে দেখা যায়।
9) উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগোলা জলে পুষ্ট হলেও বর্ষাকালে এই সমস্ত নদীতে জলের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
10) হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপত্তি লাভ করার দরুন উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফ গোলা জলে পুষ্ট ও নিত্যবহ নদী।
11) নদীগুলি তীব্র ঢালু অঞ্চল এবং নরম শিলাস্তরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষয়কার্যের পরিমা্ণ অতিরিক্ত, যার ফরে বিশাল আকার পলিগঠিত সমভূমির সৃষ্টি হয়।
12) উত্তর ভারতের নদীগুলিতে ক্ষয়কার্যের পরিমাণ বেশী। যেমন- গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদী।

আরো পড়ুন → দ্বিঘাত করণী গাণিতিক সমস্যার সমাধান

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner