আকাশে সাতটি তারা কবিতার প্রশ্ন উত্তর |Akashe Satti Tara Question Answer | WBBSE Class 9

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
akashe-satti-tara-question-answer
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – আকাশে সাতটি তারা (Akashe Satti Tara)

এই পর্বে রইল নবম শ্রেণির বাংলা বিভাগের আকাশে সাতটি তারা কবিতা থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘কামরাঙা – লাল মেঘ’-কে কবি তুলনা করেছেন- ক) লাল মনিয়ার সাথে খ) মৃত মনিয়ার সাথে গ) কেশবতী কন্যার সাথে ঘ) লাল বটের সাথে
উত্তর- ‘কামরাঙা – লাল মেঘ’-কে কবি তুলনা করেছেন- খ) মৃত মনিয়ার সাথে।

২। ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত সেটি হল – ক) ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ খ) ‘মহাপৃথিবী’ গ) ‘রূপসী বাংলা’ ঘ) ‘বনলতা সেন’
উত্তর- ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত সেটি হল- গ) ‘রূপসী বাংলা’।

৩। জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর – ক) দেহ সৌন্দর্যে খ) রূপের বিন্যাসে গ) চুলের বিন্যাসে ঘ) অঙ্গ সৌন্দর্যে
উত্তর- জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর- গ) চুলের বিন্যাসে ।

৪। ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বঙ্গের কিশোর পায়ে দলে যায় –
ক) দূর্বা ঘাস খ) মুথা ঘাস গ) নরম ঘাস ঘ) ভিজে ঘাস

উত্তর- ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বঙ্গের কিশোর পায়ে দলে যায় – খ) মুথা ঘাস।

৫। “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো ________ ঢেউয়ে ডুবে গেছে” – ক) গঙ্গাসাগরের খ) বঙ্গোপসগরের গ) আরব সাগরের ঘ) বঙ্গোপসাগরের
উত্তর – “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো খ) বঙ্গোপসগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে”

৬। ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার পঙ্‌ক্তি সংখ্যা – ক) ১২ খ) ১৪ গ) ৯ ঘ) ১৮
উত্তর- ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার পঙ্‌ক্তি সংখ্যা – খ) ১৪।

৭। তারায় তারায় স্বপ্ন কখন এঁকে রাখে? ক) সারাটা দিন খ) সারাটা রাত গ) সারা সন্ধ্যা ঘ) সারা সময়
উত্তর- খ) সারাটা রাত তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।

৮। “আমি এই ঘাসে বসে থাকি” – কখন?
ক) খেলা শেষে যখন ক্লান্ত লাগে খ) নদীর ধারে যখন হাওয়া খেতে যাই গ) যখন আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে ঘ) যখন সবুজ মাঠে বিচরণ করি

উত্তর- গ) যখন আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে “আমি এই ঘাসে বসে থাকি”।

৯। সন্ধ্যাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? – ক) মনিয়া খ) রূপসীর চুল গ) কামরাঙা মেঘ ঘ) কেশবতী কন্যা
উত্তর – সন্ধ্যাকে ঘ) কেশবতী কন্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

১০। ‘অজস্র চুলের চুমা’ যেখানে ঝরে পড়েছে – (ক) কাঁঠালের হিজলে জামে (খ) হিজলে কাঁঠালে জামে (গ) হিজলে জামে কাঁঠালে (ঘ) হিজলে বটে কাঁঠালে
উত্তর- ‘অজস্র চুলের চুমা’ যেখানে ঝরে পড়েছে – (খ) হিজলে কাঁঠালে জামে।

আরো পড়ো → চিঠি প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘… মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো/ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে’ – মেঘের রং কী?
উত্তর – মেঘের রঙ কামরাঙা ফলের মতো লাল।

২। বাংলার সন্ধ্যাকে কবি ‘শান্ত অনুগত’ বলেছেন কেন?
উত্তর – প্রকৃতির শান্ত – স্নিগ্ধ রূপ বোঝানের জন্য কবি ‘শান্ত অনুগত’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন।

৩।‘আকাশে সাতটি তারা’ – কবিতায় কোন্‌ কোন্‌ গাছের কথা উল্লেখ রয়েছে?
উত্তর – ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘হিজল, কাঁঠাল এবং জাম’ গাছের উল্লেখ আছে।

৪। “বাংলার নীল সন্ধ্যা” – কেমনভাবে আসে কবির কাছে?
উত্তর – বাংলা নীল সন্ধ্যা কবির কল্পনায় ‘কেশবতী কন্যার’ মত আসে।’

৫। কবির ‘চোখের’ পরে’ , ‘মুখের’ পরে’ কী ভাসে?
উত্তর – কবির ‘চোখের’ পরে’ , ‘মুখের’ পরে’ কেশবতী কন্যার চুল অর্থাৎ বাংলার নীল সন্ধ্যার ছবি ফুটে ওঠে।

৬। কিশোরীর চালধোয়া হাত কেমন ছিল?
উত্তর – কিশোরীর চালধোয়া হাত ছিল ভিজে এবং শীতল।

আরো পড়ো → পৃথিবীপৃষ্টে কোন স্থানের অবস্থান নির্ণয় প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। ‘আমি এই ঘাসে বসে থাকি’ – কোন্‌ সময়ে কবি ঘাসে বসে থাকেন? তখন প্রকৃতির কেমন রূপ তাঁর চোখে ধরা পড়ে? (১+২)
উত্তর – আকাশে যখন সপ্তর্ষিমণ্ডল ফুটে ওঠে, তখন কবি ঘাসে বসে থাকেন। তিনি সন্ধ্যা নেমে আসাকে অনুভব করেন। নীল সন্ধ্যার আবেশ তাঁর মনকে স্পর্শ করে। তাঁর মনে হয় কোনো এক কেশবতী কন্যা, কেশরাজি বিস্তার করে পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যার অন্ধকারকে নামিয়ে আনছে। তাঁর সেই চুলের স্পর্শ যেন কবি অনুভব করেন তাঁর চোখে মুখে।

২। ‘পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো’ – উদ্ধৃতাংশে কোন্‌ কন্যার কথা বলা হয়েছে? পৃথিবীর কোনো পথ তাকে দেখেনি কেন? (১+২)
উত্তর- উদ্ধৃতাংশে ‘কেশবতী কন্যা’র কথা বলা হয়েছে।
সন্ধ্যের অন্ধকারকে ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার প্রকৃতির বুকে নেমে আসতে দেখছেন কবি । অন্ধকার নেমে আসছে হিজল, কাঁঠাল, জাম গাছের উপরে। কবি কল্পনা করছেন আকাশে আছে এক রূপসী কেশবতী কন্যা, সেই রমণীর আলুলায়িত কেশ যেন স্পর্শ করছে এই গাছের মাথাকে। কবি তাঁর মাথার উপরে এই রূপসী কন্যার চুলের স্পর্শ অনুভব করেছেন। এই কন্যা কবির কল্পনা। তাই বাস্তব পৃথিবীর পথে এই কন্যাকে কোনো দিন দেখতে পাওয়া যায় না। সে শুধুমাত্র কবির কল্পনাতে মূর্ত হয়ে আছে।

৩। “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা” – সন্ধ্যাকে নীল বলার যুক্তি কোথায়?
উত্তর- ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বলেছেন- রক্তিম সূর্য অস্ত গেছে। আকাশের রক্তাভ আভা মিলিয়ে গিয়ে আকাশ এখন নীল। এখন দিন ও রাত্রির সন্ধিক্ষণ। সূর্যের রক্তিম ছটাও যেমন নেই, তেমনি রাত্রির গাঢ় অন্ধকারও এখনো নেমে আসেনি, আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল এখন জ্বলজ্বল করেছে। আকাশ এখন মেঘমুক্ত ঝকঝকে নীল, তাই কবি সন্ধ্যাকে নীল বলেছেন।

৪। “আমি এই ঘাসে বসে থাকি” – আমি কে? তিনি এই ঘাসে বসে থাকেন কেন?
উত্তর – আমি বলতে এখানে কবি জীবনানন্দ দাশকে বোঝানো হয়েছে।

কবি প্রকৃতি প্রেমী। গ্রাম বাংলার রূপের সঙ্গে তাঁর মনের নিবিড় যোগাযোগ গড়ে

উঠেছে। গ্রামবাংলা যেন তারই সত্ত্বার আরেক রূপ। সূর্যে অস্ত গেছে ‘নীল সন্ধ্যা’ নেমে আসছে, আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল ফুটে উঠেছে। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসছে, তিনি ঘাসের উপর বসে পৃথিবীর বুকে এই সন্ধ্যে নেমে আসার ক্ষণটাকে অনুভব করছেন।

৫। ‘কামরাঙা লাল মেঘ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর- কামরাঙা আমাদের বাংলার একটা ফল। কাঁচা অবস্থায় এই ফলটির রং সবুজ হলেও পরিপক্ক অবস্থায় এটি সিঁদুরে লাল রঙে পরিণত হয়। সূর্য যখন অস্তমিত হতে চলেছে, তখন সূর্যের লাল রঙের আভায় আকাশের মেঘও রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। যা কবিকে লাল কামরাঙার লাল রঙের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তাই কবি বলেছেন- ‘কামরাঙা লাল মেঘ’ ।

আরো পড়ো → নবম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

রচনাধর্মী প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। ‘… আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের।’ – আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি কী টের পান?

উত্তর- কবি প্রকৃতিপ্রেমী, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর মনের নিবিড় যোগ আছে। সূর্য অস্ত যাবার পরে যখন গ্রামবাংলার বুকে সন্ধ্যা নেমে আসে, আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তা কবির মনকে ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির সেই রূপ, প্রকৃতির সেই গন্ধ কবির খুবই পরিচিত। কবি যদি দূরেও থাকেন তবুও তিনি মানসচক্ষে সেই রূপকে পরিলক্ষিত করতে পারেন। গ্রাম বাংলার বুকে সন্ধ্যে ধীরে ধীরে নেমে আসার চিত্র কবি বহুবার দেখেছেন। তাঁর মনের গভীরে, তাঁর অনুভূতির সঙ্গে, গ্রামবাংলা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বাংলার ধানের গন্ধ, কলমি শাকের গন্ধ, পুকুরের জলের গন্ধ, হাঁসের পালকের গন্ধ, চাঁদা- সরপুঁটি মাছের বিশেষ ধরনের গন্ধ, কিশোরীর চাল ধোয়ার হাতের গন্ধ, মুথাঘাস পায়ের চাপে দলিত হওয়ার যে গন্ধ, সেইসব গন্ধের মধ্যেই মিশে আছে গ্রাম বাংলা। এই সব কিছুই বাংলার রূপ। এইসব কিছুর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জুড়ে আছে গ্রাম বাংলা। কবি যেখানেই থাকুন না কেন আকাশে সাতটি তারা উঠলে কবি গ্রাম বাংলা এই রুপ অনুভব করেন বা ‘টের’ পান।

২। “আমি এই ঘাসে বসে থাকি” – কে, কখন ঘাসে বসে থাকেন? ‘এই ঘাস’ বলতে তাঁর কোন্‌ বিশেষ অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে? (২+৩)
উত্তর – ‘আমি’ বলতে কবি জীবনানন্দ দাশের কথা বলা হয়েছে।
পৃথিবীর বুকে যখন সন্ধ্যা নেমে আসে তখন কবি ঘাসের উপর বসে থাকেন।
ঘাস মাটির বুকে জন্ম নেয়, মাটির সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর। ঘাসের উপরে বসে থাকার অর্থ পৃথিবীর সঙ্গে নৈকট্য স্থাপন। ঘাসের উপরে বসে থাকার অর্থ পৃথিবীকে ছুঁয়ে থাকা,প্রকৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে যাওয়া। কবি গ্রাম বাংলাকে ভালোবাসেন। গ্রাম বাংলার একটা অঙ্গ হল এই সবুজ ঘাস। এই ঘাসের মধ্যে বসেই কবি প্রকৃতির সান্ধ্য-রূপে অবগাহন করেন। এখানে বসেই তিনি অনুভব করেন কেশবতী কন্যার রূপে সন্ধ্যা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। প্রকৃতি বাংলার বিভিন্ন রূপ, বিভিন্ন ঘ্রাণ কবির মনকে ছুঁয়ে যায়।

৩। “যেন মৃত মনিয়ার মতো” – কার সঙ্গে মৃত মনিয়ার তুলনা করা হয়েছে? তুলনাটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর- সন্ধ্যা নেমে আসছে পশ্চিম দিগন্তে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সূর্যের লাল আভা আকাশকে রক্তাভ করে তুলেছে। এই রক্তরাঙা আকাশকে কবি মৃত মুনিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কবিতায় মুনিয়ার অর্থ আমাদের কাছে মনিয়া বা মুনিয়া পাখি মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে কবি সেই অর্থে মুনিয়া শব্দটি ব্যবহার করে নি। আসলে ‘মনিয়া’র উৎস একটি গ্রিক-ল্যাটিন শব্দ। গ্রিক menos শব্দের অর্থ নিঃসঙ্গ বালক, ল্যাটিন monica-র অর্থ শিশুকন্যা। এমনকি পর্তুগিজ ভাষায় এই menos / monica পরিবর্তিত হয়ে menina-তে পরিণত হয়েছে। অনুমান করা যায় আরবি ভাষায় এই menina থেকেই মুনিয়া শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে এবং আরবি ভাষার প্রভাবে বরিশাল, চট্টগ্রামের বাংলা ভাষায় এই শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই মনিয়া-র অর্থ পাখি নয়, কন্যাসন্তান। জীবনানন্দের দিনলিপি থেকে জানা যায় মনিয়া আসলে সৈদপুরের এক পাদ্রী এবং এক হিন্দু রমণীর কন্যা। কবির স্মৃতিতে ছিল বাংলার প্রাচীন গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জনের প্রথার কথা।

এই কন্যাসন্তান মনিয়াও যেন গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে। আর লাল রঙ যেন সেই কন্যার মৃত্যুকে ইঙ্গিত করেছে। মনিয়ার মতো কন্যারা যেভাবে গঙ্গাসাগরের অতলে ডুবে যায় নিঃশব্দে, তেমনই আকাশের হলুদাভ লাল মেঘ দিগন্তের ওপারে ঢেউয়ের গভীরে যেন ডুবে গেছে।

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner