উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতঃ বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭ – ১৯৬৪) প্রশ্ন ও উত্তর | Uttor-ouponibeshik bharat: bish shotoker dwitiyo porbo (1947-1964) Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
uttor-ouponibeshik-bharat-bish-shotoker-ditiyo-porbo
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ইতিহাস | অধ্যায় – উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতঃ বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭ – ১৯৬৪) প্রশ্ন ও উত্তর | Uttor-ouponibeshik bharat: bish shotoker dwitiyo porbo (1947-1964) Question Answer (Chapter 8)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ইতিহাস বিভাগের অষ্টম অধ্যায় – উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতঃ বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭ – ১৯৬৪) প্রশ্ন ও উত্তর থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা। প্রশ্ন উত্তর আলোচনা শুরু করার আগে, আমরা তোমাদের একটি বিশেষ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

আমরা জানি যে ভালোভাবে প্রশ্ন – উত্তর তৈরি করলেও পরীক্ষায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভালোভাবে লিখতে পারে না। এই সমস্যার একটি সমাধান আমরা তোমাদের দিতে চাই; লক্ষ্য করবে প্রতিটি বড় প্রশ্নের শেষে আমরা কয়েকটি বিশেষ KeyPoints উল্লেখ করেছি। ঐ বড় প্রশ্নগুলির মূল বিষয়গুলিই KeyPoints হিসাবে তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ঐ KeyPoints গুলো যদি তোমরা মনে রাখতে পারো আমাদের বিশ্বাস সেক্ষেত্রে বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। স্বাধীনতার মুহূর্তে উদবাস্তু সমস্যা সবচেয়ে তীব্র হয়েছিল-
(ক) পাঞ্জাবে (খ) বাংলায় (গ) অসমে (ঘ) গুজরাটে

উত্তর- স্বাধীনতার মুহূর্তে উদবাস্তু সমস্যা সবচেয়ে তীব্র হয়েছিল- (খ) বাংলায়।

2। জওহরলাল নেহেরু কাশ্মীর সমস্যা জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে গিয়েছিলেন-
(ক) বল্লভভাই প্যাটেলের পরামর্শে (খ) রাজেন্দ্র প্রসাদের পরামর্শে (গ) লেডি মাউন্টব্যাটেনের পরামর্শে (ঘ) মাউন্টব্যাটেনের পরামর্শে

উত্তর- জওহরলাল নেহেরু কাশ্মীর সমস্যা জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে গিয়েছিলেন- (ঘ) মাউন্টব্যাটেনের পরামর্শে।

3। রাজপুনর্গঠন আইন পাস হয়-
(ক) ১৯৫৬ সালে (খ) ১৯৫৫ সালে (গ) ১৯৫০ সালে (ঘ) ১৯৫৭ সালে

উত্তর- রাজপুনর্গঠন আইন পাস হয়- (ক) ১৯৫৬ সালে।

4। ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ঘোষিত হওয়ার সময় বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-
(ক) কার্জন (খ) এটলি (গ) চেম্বারলেন (ঘ) ডিজরেলি

উত্তর- ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ঘোষিত হওয়ার সময় বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- (খ) এটলি।

5। ভারতের স্বাধীনতা আইন ঘোষিত হওয়ার সময় বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-
(ক) ভারতের ইউনিয়নে যুক্ত করা হয় (খ) পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয় (গ) স্বাধীনতা দেওয়া হয় (ঘ) ব্রিটিশের অধীনে রাখা হয়

উত্তর- ভারতের স্বাধীনতা আইন ঘোষিত হওয়ার সময় বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- (গ) স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

6। হায়দ্রাবাদ অনড় ছিল-
(ক) স্বাধীন থাকতে (খ) পাকিস্তানে যোগ দিতে (গ) ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে (ঘ) ভারতের অধীনে স্বায়ত্ত শাসন ভোগ করতে

উত্তর- হায়দ্রাবাদ অনড় ছিল- (ক) স্বাধীন থাকতে।

7। কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিলেন-
(ক) হিন্দু (খ) বৌদ্ধ (গ) শিখ (ঘ) মুসলমান

উত্তর- কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিলেন- (ঘ) মুসলমান।

8। ভারত বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল-
(ক) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (খ) ব্রিটিশের নীতি (গ) জাতীয় কংগ্রেসের ইচ্ছা (ঘ) মুসলিম লিগের নীতি

উত্তর- ভারত বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল- (ক) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

9। সবথেকে বড়ো দেশীয় রাজ্য ছিল-
(ক) কাশ্মীরের (খ) হায়দ্রাবাদ (গ) জুনাগড় (ঘ) রামপুর

উত্তর- সবথেকে বড়ো দেশীয় রাজ্য ছিল- (খ) হায়দ্রাবাদ।

10। Instrument of Accession এ স্বাক্ষর করে-
(ক) হায়দ্রাবাদ (খ) জুনাগড় (গ) ত্রিবাঙ্কুর (ঘ) বিলাসপুর

উত্তর- Instrument of Accession এ স্বাক্ষর করে-(ক) হায়দ্রাবাদ।

আরো পড়ুন → ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরে ভারতকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল?
উত্তর- ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভের আনন্দোৎসব এর মাঝেই যে সমস্যার সম্মুখীন ভারতবর্ষকে হতে হয়েছিল সেগুলি হলো মূলত দেশভাগ , হিন্দু – মুসলিম দ্বন্দ্ব , উদ্বাস্তু সমস্যা ইত্যাদি। স্বাধীনতাপূর্ব অখন্ড ভারতবর্ষ স্বাধীনতার পর ভাগ হলে বিবিধ সমস্যায় নব উত্থিত দেশ জর্জরিত হয়ে পড়ে যার অন্যতম হলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উদ্বাস্তু সমস্যা।

2। পাঞ্জাব ও বাংলার উদবাস্তু সমস্যার পার্থক্য কী ছিল?

উত্তর- বাংলা ও পাঞ্জাবে উদ্বাস্তু সমস্যার বিবিধ পার্থক্য বর্তমান, সাধারণভাবে পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে উদ্বাস্তুদের আগমন ঘটেছিল দুবছর ধরে তবে বাংলায় তা বেশ ধারাবাহিকভাবেই বেশ অনেক বছর ধরে চলতে থাকে। ভাষাগত সমস্যাও একটি অন্যতম পার্থক্য। তাছাড়া পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে পশ্চিম ও পূর্ব পঞ্জাবের মানুষের মধ্যে জনহস্তান্তর ও সম্পত্তি বিনিময় বহাল থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে তা হয়নি।

৩। ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস করার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি কী ঘোষণা করেন?

উত্তর- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ১৯৪৭ সালের ২০শে ফেব্রু়য়ারি ভারতের স্বাধীনতা আইন পাশ করা কালীন ঘোষণা করেন যে ভারতবর্ষকে ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে ও স্বাধীনতা পাবে ভারতবর্ষ। এর মাধ্যমেই ভারতের পূর্ন স্বাধীনতার অনুমোদন করা হয়।

4। নেহেরু লিয়াকৎ চুক্তি কেন স্বাক্ষরিত হয়? এই চুক্তি কার্যকর হয়নি কেন?

উত্তর- ১৯৪৭ এ দেশভাগের পর সংখ্যালঘু সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে ও পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় তাদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৫০ সালে ৮ই এপ্রিল দিল্লিতে জওহরলাল নেহেরু ও লিয়াকত আলী খানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এই বিল কার্যকর হয়নি তার কারণ পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি অত্যাচার হয়েই চলেছিল ও পাকিস্তান সরকারও এই চুক্তি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়।

আরো পড়ুন → প্রলয়োল্লাস কবিতার – প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৪]

1। কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেন আজও হয়নি?

উত্তর- ভূস্বর্গ কাশ্মীর রাজনৈতিক কারণে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে কখনো রাইফেলের গুলিতে,কখনো বা বোমার শব্দে। কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত হয় স্বাধীনতার পূর্বেই, ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেনস অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার যে ভারত ভাগের ডাক দিয়েছিল তাতে কাশ্মীরকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই সময় থেকেই কাশ্মীরের বিবিধ গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। হিন্দু মহারাজা হরি সিং একদিকে চান ভারতের সাথে যোগ দিতে আবার পশ্চিম জম্মুর মুসলমানরা চায় পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে। এই সূত্র ধরে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়। এরপর থেকে ১৯৪৮,১৯৬৫,১৯৭১-৭২ সালে পর পর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অবস্থা আরো জটিলতর হয়ে ওঠে। কার্গিল সংকটের মধ্যে দিয়ে যা আরো তিক্ততায় পরিণত হয় ১৯৯৮ এ। আশির দশকের পর থেকেই মূলত কাশ্মীরিরা স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হতে শুরু করে ও যুদ্ধ বিদ্রোহ নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান আজও পাওয়া যায়না।
KeyPoints
ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেনস অ্যাক্ট – হিন্দু মহারাজা হরি সিং ও ইনস্ট্রুমেন্ট অফ একসেশন- ১৯৪৭ সালে মুসলমান অধিবাসীদের বিদ্রোহ – হরি সিং এর ভারত সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা – ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ – ১৯৯৮ এ কার্গিল সংকট

2। অন্ধ্ররাজ্যের প্রতিষ্ঠা কীভাবে হয়?

উত্তর- ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য হিসেবে অন্ধ্র রাজ্যের প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা নেন পট্টি শ্রীরামুলু। পট্টি শ্রীরামুলু ছিলেন দাক্ষিণাত্যের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্গাতা নামেও পরিচিত। শ্রীরামুলু ১৯৫২ সালের ১৯শে অক্টোবর পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে অনশনে বসেন। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি’ ভেঙে তেলুগুভাষীদের জন্য অন্ধ্রের দাবিতে তিনি অনশনে বসেন ও ৫৬ দিন টানা অনশনের পর তাঁর মৃত্যু হলে চূড়ান্ত বিক্ষোভ সৃষ্টি হয় , জনতা উত্তাল হয়ে ওঠে, হরতাল হয়, সরকারি দপ্তরে হানা দেওয়ার সূত্রপাত হয় । তার মৃত্যুর দুদিন পরই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার পৃথক অন্ধ্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের সৃষ্টি হয়।
KeyPoints
পট্টি শ্রীরামুলুর পরিচয় – ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য হিসেবে অন্ধ্রের দাবী – শ্রীরামুলুর অনশন – শ্রীরামুলুর মৃত্যু ও জনতার বিক্ষোভ – দিল্লির সরকারের অন্ধ্রের দাবির মান্যতা

3। হায়দ্রাবাদের ভারতভুক্তি কেন সমস্যায় পরিণত হয়েছিল? কীভাবে সমস্যার সমাধান হয়?

উত্তর- ভারত স্বাধীন হবার পর তার সবচেয়ে বৃহৎ রাজ্যটি অর্থাৎ হায়দ্রাবাদ ও তার নিজাম সরকার ভারত সরকারের অধীনে আসতে অস্বীকার করে, কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যটির স্বাধীন থাকার প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছিল কার্যত অসম্ভব। ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর এ ভারত সরকার নিজামকে পত্র দিয়ে আহ্বান জানালে নিজাম তা মেনে নেয়নি, ফলস্বরূপ ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ ভারতীয় সেনাবাহিনী জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে হায়দ্রাবাদ প্রবেশ করে ও ৫দিনের মধ্যে দখল করে নেয়। এরপর সেখানে আয়োজিত হয় গণভোট ও তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভারতে অন্তর্ভূক্তির পক্ষে ভোট দেয়।
KeyPoints
হায়দ্রাবাদের ভারত সরকারের অধীনে আসতে অস্বীকার – ভারত সরকারকর্তিক নিজামকে পত্র – ভারতীয় সেনাবাহিনীর হায়দ্রাবাদ প্রবেশ – গণভোট ও ভারতে অন্তর্ভূক্তি

আরো পড়ুন → The Snail – Question Answer

রচনাধর্মী প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৮]

1। কাশ্মীর সমস্যার উপর আলোকপাত করো।

উত্তর- ভূস্বর্গ কাশ্মীর রাজনৈতিক কারণে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে কখনো রাইফেলের গুলিতে,কখনো বা বোমার শব্দে। কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত হয় স্বাধীনতার পূর্বেই, ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেনস অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার যে ভারত ভাগের ডাক দিয়েছিল তাতে কাশ্মীরকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই সময় থেকেই কাশ্মীরের বিবিধ গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। হিন্দু মহারাজা হরি সিং একদিকে চান ভারতের সাথে যোগ দিতে আবার পশ্চিম জম্মুর মুসলমানরা চায় পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে। ১৯৪৭ সালের ২৭শে অক্টোবর ব্রিটিশ গভর্নর মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং-কে একিভূতকরণের দলিল বা ইনস্ট্রুমেন্ট অফ একসেশন প্রেরণ করেন। তৎকালীন সময় কাশ্মীরের জনসংখ্যার ৮০% ছিল মুসলিম। ফলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার মত নেতা বিশ্বাস করেন যে কাশ্মীর হয়তো পাকিস্তান এর সাথেই যুক্ত হবে কিন্তু সেখানকার হিন্দু রাজা হরি সিং কোথাও যোগদান না করে তার আধিপত্য কায়েম রাখতে তৎপর ছিলেন। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসেই কাশ্মিরের উত্তরাঞ্চলের পুঞ্চ জেলার মুসলমান অধিবাসীরা বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এমতাবস্থায় কাশ্মীরে ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে। হরি সিং ক্রমাগত পরাজিত হতে থাকেন ও তার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে থাকে। এই সময় তিনি শ্রীনগর ত্যাগ করেন ও ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু ভারত সরকার তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি তবেই দেবে বলে যদি কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এই সূত্র ধরে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়। এর পর থেকে ১৯৪৮,১৯৬৫,১৯৭১-৭২ সালে পর পর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অবস্থা আরো জটিলতর হয়ে ওঠে। যা আরো তিক্ততায় পরিণত হয় ১৯৯৮ এ কার্গিল সংকটের মধ্যে দিয়ে। আশির দশকের পর থেকেই মূলত কাশ্মীরিরা স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হতে শুরু করে ও যুদ্ধ বিদ্রোহ নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান আজও পাওয়া যায়না।
KeyPoints
ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেনস অ্যাক্ট – হিন্দু মহারাজা হরি সিং ও ইনস্ট্রুমেন্ট অফ একসেশন- ১৯৪৭ সালে মুসলমান অধিবাসীদের বিদ্রোহ – পশতুন উপজাতিদের কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ – হরি সিং এর পরাজয় ও ভারত সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা – ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ – ১৯৯৮ এ কার্গিল সংকট

2। উদ্‌বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল?

উত্তর- ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে ও শরণার্থী হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,ত্রিপুরা,অসম,পাঞ্জাব সহ রাজ্যগুলিতে চলে আসতে থাকে। এর ফলস্বরূপ তারা অর্থকষ্ট,পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বাধ্য হয়ে উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে শুরু করে।
প্রথমত, যে পদক্ষেপের কথা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন সেটি হল পুনর্বাসন নীতি। এই নীতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু দ্বারা পরিস্থিতি বিচারের মাধ্যমে গৃহীত হয় ও সমস্যা ব্যাপক রূপ ধারণ করলে এই নীতি গ্রহণ করা হয়।
দ্বিতীয়ত, এর পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দান ও ত্রাণকার্যের ওপর। সরকারি উদ্যোগে পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি, রেলস্টেশন, ফুটপাত প্রভৃতি স্থানে উদ্বাস্তু শিবির ও ত্রাণ শিবির খোলা হয় সেখানে শরনার্থীদের খাদ্য,জল,ওষুধ প্রভৃতি সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়।
তৃতীয়ত, উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯৫০ সালের ১৮ই এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের মধ্যে দিল্লিতে চুক্তি হয় যা নেহেরু – লিয়াকত চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তিতে বলা হয় সংখ্যালঘু রাষ্ট্রের প্রতি উদ্বাস্তুরা অনুগত থাকবে ও তাদের নিজদেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করা হবে।এই চুক্তিতে আরো বলা হয় যে পশ্চিম পাকিস্তান,অসম , পূর্ববঙ্গ থেকে কোনো ব্যক্তি অন্য দেশে শরণার্থী হতে চাইলে সাহায্য পাবে। ভারত ও পাকিস্তান উদ্বাস্তু সমস্যার কারণ ও সংখ্যা নির্ধারণের জন্য অনুসন্ধান কমিটি ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করবে । পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি থাকবে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কয়েকটি স্কিম চালু করে যেগুলি হলো টাইপ স্কিম, কারুজিবী স্কিম, হর্টিকালচার স্কিম, ইউনিয়ন বোর্ড স্কিম ইত্যাদি। আবার গ্রামে কৃষক উদ্বাস্তুদের জন্য ও পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
KeyPoints
১৯৪৭ এর দেশভাগ ও লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু, শরণার্থী মানুষের প্রবেশ – উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে পুনর্বাসন নীতি – উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দান ও ত্রাণকার্য – নেহেরু লিয়াকত চুক্তি -সংখ্যালঘু কমিশন গঠন – পশ্চিমবঙ্গ সরকার উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন স্কিম

আরো পড়ুন → বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন প্রশ্ন ও উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner