পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি | Poribesh ebong Manob Jonosomostthi

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
poribesh-manob-jonosomostthi
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – জীবনবিজ্ঞান | অধ্যায় – পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি | Poribesh ebong Manob Jonosomostthi (Chapter 16)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান বিভাগের ষষ্টদশ অধ্যায় – পরিবেশ এবং মানব জনসমষ্টি থেকে কয়েকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো। (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা দেশের মোট জন সংখ্যাকে ওই অঞ্চলের বা দেশের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় –
ক) জনসংখ্যা আয়তন খ) জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ গ) ধারণ ক্ষমতা ঘ) জনসংখ্যা ঘনত্ব
উত্তর- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা দেশের মোট জন সংখ্যাকে ওই অঞ্চলের বা দেশের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ঘ) জনসংখ্যা ঘনত্ব।

2। বিজ্ঞানের যে শাখায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে তার সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়, তাকে বলে –
ক) ডেমোগ্রাফি খ) ক্যালিগ্রাফি গ) বায়োগ্রাফি ঘ) সাইকোলজি

উত্তর- বিজ্ঞানের যে শাখায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে তার সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়, তাকে বলে ক) ডেমোগ্রাফি।

3। প্রাকৃতিক বৃক্ক বলা হয় –
ক) জলাভূমিকে খ) প্রস্রবণকে গ) সমুদ্রকে ঘ) পাহাড়কে

উত্তর- প্রাকৃতিক বৃক্ক বলা হয় –ক) জলাভূমিকে

4। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কোন সমস্যা দেখা দেয়?
ক) মানব উন্নয়ন খ) সামাজিক বিভাজন গ) খাদ্য সংকট ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে গ) খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

5। ফুসফুসের বায়ুথলি চুপসে গেলে, তাকে বলে –
ক) অ্যাজমা খ) সায়ানোসিস গ) প্লুরিসি ঘ) অ্যাটেলে ক্‌টাসিস

উত্তর- ফুসফুসের বায়ুথলি চুপসে গেলে, তাকে বলে গ) প্লুরিসি

6। ফুসফুস ক্যানসারের জন্য দায়ী গ্যাসটি হল –
ক) রেডন খ) কার্বন ডাই অক্সাইড গ) হাইড্রোজেন ঘ) নাইট্রোজেন

উত্তর- ফুসফুস ক্যানসারের জন্য দায়ী গ্যাসটি হল খ) কার্বন ডাই অক্সাইড।

7। দেহের কলা কোশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়াকে বলে –
ক) অ্যাপোপটেসিস খ) মেটাস্ট্যাসিস গ) হাইপোস্ট্যাটিস ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- দেহের কলা কোশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়াকে বলে খ) মেটাস্ট্যাসিস।

8। রেডন গ্যাস যে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে উৎপন্ন হয় –
ক) প্লুটোনিয়াম খ) ইউরেনিয়াম গ) সেলেনিয়াম ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- রেডন গ্যাস খ) ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে উৎপন্ন হয়।

9। সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় ধূমপানের কারণে হয় –
ক) যকৃতের ক্যানসার খ) ফুসফুসের ক্যানসার গ) বৃক্কের ক্যানসার ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় ধূমপানের কারণে খ) ফুসফুসের ক্যানসার হয়।

10। বায়োপ্‌সি করা হয় –
ক) ক্যানসার নিরাম্যের জন্য খ) ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য
গ) ক্যানসার সৃষ্টির জন্য ঘ) ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য

উত্তর- বায়োপ্‌সি করা হয় খ) ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য।

আরো পড়ো → পরিক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন

একটি বাক্যে উত্তর দাও। (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 1]

1। বিশ্বে সবচেয়ে ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ কোন্‌টি?
উত্তর- বিশ্বে সবচেয়ে ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ হল চীন।

2। মানব জনগোষ্ঠীর বিজ্ঞান সম্মত অধ্যয়নকে কী বলে?
উত্তর- মানব জনগোষ্ঠীর বিজ্ঞান সম্মত অধ্যয়নকে ডেমোগ্রাফি বলে।

3। কৃষিজমির মাত্রা কোন কারণে হ্রাস পাচ্ছে?
উত্তর- জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাসস্থানের জন্য কৃষিজমিকে ব্যবহার করা হচ্ছে তাই জন্য কৃষিজমির মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।

4। অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে কোন্‌ কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর- অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শ্বেতকণিকার ইওসিনোফিল সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

5। টিউমার কী?
উত্তর- অনিয়ন্ত্রিত কোশবিভাজনের ফলে সৃষ্ট দেহে স্ফীত অংশ হল টিউমার।

আরো পড়ো → লম্ব বৃত্তাকার শঙ্কু অধ্যায়ের গাণিতিক সমাধান

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান 2/3]

1। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা সঙ্গে জলের গুণগত মান অবনমনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো।
উত্তর: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে মিষ্টি জলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কারণ আমরা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজ কর্মের জন্য জলের উপর নির্ভরশীল।জলের অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য ভৌম জলস্তর এর যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়।এর ফলে ভৌম জলস্তর ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গুণগত মান কমে যাচ্ছে।
এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জল দূষণ। গৃহস্থালির বর্জ্য কলকারখানার বর্জ্য দূষিত রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি জলের সাথে মিশে ফলে জলের গুণগত মান এর অবনমন ঘটে।

2। পপুলেশন বৃদ্ধি তিনটি কারণ লেখ। (3)
উত্তর: বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ গুলি হল-
I. জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুর হার কম।
II. কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নতি হওয়ায় খাদ্যাভাব কম।
III. পূর্বে বসন্ত, কলেরা ইত্যাদি রোগ মহামারী আকার ধারণ করতো। এর ফলে পপুলেশন অনেক কমে যেত। কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত রোগের টিকা আবিষ্কার হয়ে যাওয়ায় এই সমস্ত রোগে মৃত্যুহার কমেছে।

3। ক্যান্সার রোগের দুটি কারণ লেখ।
উত্তর- ক্যান্সার বিভিন্ন জিনের মিউটেশন এবং পরিবেশ ঘটিত বিভিন্ন কারণের সমন্বয়ে হতে পারে।
• পেশাগত কারণঃ কিছু নির্দিষ্ট পেশার সাথে যুক্ত মানুষের ক্যান্সার হবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন খনিতে কর্মরত শ্রমিকেরা রেডন নামক এক প্রকার তেজস্ক্রিয় গ্যাসের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও আলকাতরা, পেট্রোলিয়াম, রং ইত্যাদি কারখানায় যারা কাজ করেন, তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়।

• কীটনাশক ও আগাছানাশকঃ কৃষিক্ষেত্রে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এবং তা কীটপতঙ্গের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক‌ ব্যবহার করা হয়। এগুলি শাকসবজির সাথে মিশে যায় এবং পরবর্তীকালে খাদ্যের মাধ্যমে সমস্ত কীটনাশক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়াও বৃষ্টির সময় এই সমস্ত ক্ষতিকারক সার জলাশয়ের জলে মেশার ফলে সেই জলকে দূষিত করে তোলে। যার ফলে জলাশয় বসবাসকারী মাছ মারা যায় এবং পরবর্তীকালে মানুষ এই মাছকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এইসব আগাছানাশকগুলিতে বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা ক্রমাগত গ্রহণ করার ফলে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।

4। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে বাস্তু তন্ত্রের ক্ষয় এর দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বাস্তুতন্ত্র দু-ধরনের হয় ১) জীবীয় বাস্তুতন্ত্র ও ২) অজীবীয় বাস্তুতন্ত্র।
জীবীয় বাস্তুতন্ত্র বলতে উদ্ভিদ ও প্রাণী বোঝায় এবং অজীবীয় বাস্তুতন্ত্র বলতে সূর্যালোক ও জল বোঝায়।

• অরণ্যের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়- জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন বাসস্থান তৈরির প্রয়োজন হয়, যার ফলে কৃষিজমি বা বনাঞ্চল অধিকৃত হয়। অনেক সময় অরণ্য কেটে ধ্বংস করে ফেলা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য অরণ্যের মধ্যে দিয়ে রাস্তা, রেললাইন তৈরি করা হয়েছে। বহুপশু রাস্তা বা রেললাইনে এসে পড়ে যার ফলে তাদের ধাকা লেগে মৃত্যুও হয়ে যায়। বহুপশু দল ছাড়া হয়ে যায়। এইভাবে অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয়।

• নদীর বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাত্যহিক ব্যবহার্য বস্তু, পরিধেয় ইত্যাদির প্রয়োজন মেটাতে বহু শিল্প কলকারখানা তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ কলকারখানা থেকে উৎপন্ন বহু দূষিত পদার্থ নদীতে এসে পড়ে , ফলে নানা প্রকার জলদূষণ ঘটে। জল আম্লিক হয়ে যায়, জলে pH-এর পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে ক্ষতি হয় এবং মৃত্যুও ঘটতে পারে। জলে পারদ দূষণের ফলে মানুষের মধ্যে মিনামাটা রোগ দেখা দিয়েছিল। এইভাবে জলের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয়।

আরো পড়ো → বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর আলোচনা

দীর্ঘভিত্তিক প্রশ্নউত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। পৃথিবীর কৃষি জমির পরিমাণ ও মিষ্টি জলের ভাণ্ডার এবং জলাভূমির ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কি প্রভাব পড়ছে বলে তোমার মনে হয়।
উত্তর:
• পৃথিবীর কৃষি জমির ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রভাব:
i. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সাথে মানুষের বাসস্থানের চাহিদা বাড়ছে। এর ফলে বনাঞ্চল ধ্বংসের সাথে সাথে অনেক কৃষি জমি নষ্ট করে নগরায়ন চলছে। ii. শহরাঞ্চলে কৃষিজমি পরিবর্তিত হচ্ছে বাসভূমিতে।
iii. তাছাড়া শিল্পায়নের জন্য কলকারখানা তৈরীর জন্য কৃষিজমি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। iv.অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নশীল স্থানে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার রেট তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

• মিষ্টি জলের ভান্ডার এর ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রভাব:
i. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে মিষ্টি জলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর মাত্র 3% মিষ্টি জলের মধ্যে 1% জল পানযোগ্য ও ব্যবহার যোগ্য।
iii. জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি-শিল্প কলকারখানাও বৃদ্ধি পাচ্ছে ,তার ফলে প্রচুর পরিমাণ জলের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে ভৌম জলস্তর ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।
iv. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সাথে পুকুর খাল বিল ইত্যাদি ভরাট করে নগরায়ন হচ্ছে। এর ফলেও মিষ্টি জলের অভাব দেখা দিচ্ছে।

• জলাভূমির ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রভাব –
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে প্রয়োজনীয় বাসস্থান নির্মাণ, শিল্প স্থাপন ইত্যাদির ফলে বিভিন্ন জলাভূমি যেমন নদী পুকুর খাল বিলে সব জলাভূমি বুজিয়ে বড় বড় অট্টালিকা প্রাচীর তৈরি করে নগরায়ন হচ্ছে। তাই দেখা যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সাথে প্রাকৃতিক বৃক্ক অর্থাৎ জলাভূমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

আরো পড়ো → পরিবেশ দূষণ অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


WBP-YT-Banner