ভারতের মৃত্তিকা – প্রশ্ন উত্তর | Bharater Mrittika – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার ভীতি কাটাবার সেরা উপায়!↓

madhyamik-chapter-test
bharater-mrittika
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – ভারতের মৃত্তিকা | bharater mrittika (Chapter 5)

এই পর্বে রইল দশম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের পঞ্চম অধ্যায় – ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ – থেকে ভারতের মৃত্তিকা বিভাগ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। যে প্রকার কৃষি পদ্ধতি মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি করে, তা হল –
ক) স্থানান্তর চাষ খ) ধাপচাষ গ) সমোন্নতিরেখা বরাবর কৃষি ঘ) ফালিচাষ

উত্তর- যে প্রকার কৃষি পদ্ধতি মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি করে, তা হল –ক) স্থানান্তর চাষ।

2। ল্যাটেরাইট মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম, কারণ এই মাটি –
ক) বালুকাপূর্ণ খ) কাঁকরপূর্ণ গ) কাদাযুক্ত ঘ) বাতাসপূর্ণ

উত্তর- ল্যাটেরাইট মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম, কারণ এই মাটি – খ) কাঁকরপূর্ণ।

3। বিভিন্ন নদী মোহনা অঞ্চলে যে মাটি দেখা যায়, তা হল –
ক) পলিমাটি খ) হিউমাস মাটি গ) লবণাক্ত পলিমাটি ঘ) লালমাটি

উত্তর- বিভিন্ন নদী মোহনা অঞ্চলে যে মাটি দেখা যায়, তা হল – গ) লবণাক্ত পলিমাটি।

4। উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলে নদী উপত্যকার পুরোনো পলিমাটিকে বলে –
ক) ভাঙ্গার খ) খাদার গ) পেডোক্যাল ঘ) ভুর

উত্তর- উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলে নদী উপত্যকার পুরোনো পলিমাটিকে বলে – ক) ভাঙ্গার।

5। বিভিন্ন নদী মোহনা অঞ্চলে যে মাটি দেখা যায়, তা হল –
ক) পলিমাটি খ) হিউমাস মাটি গ) লবণাক্ত পলিমাটি ঘ) লালমাটি

উত্তর- বিভিন্ন নদী মোহনা অঞ্চলে যে মাটি দেখা যায়, তা হল – গ) লবণাক্ত পলিমাটি।


দেখে নাও ভারতের মৃত্তিকা বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা↓


6। খোয়াই বা খাত ক্ষয় কীভাবে ঘটে? –
ক) জলপ্রবাহ দ্বারা খ) বায়ুপ্রবাহ দ্বারা গ) সমুদ্র তরঙ্গ দ্বারা ঘ) কৃষিকার্যের দ্বারা

উত্তর- খোয়াই বা খাত ক্ষয় – ক) জলপ্রবাহ দ্বারা।

7। গ্র্যানাইট ও নিস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয় –
ক) ল্যাটেরাইট খ) রেগুর গ) লাল মাটি ঘ) পলিমাটি

উত্তর- গ্র্যানাইট ও নিস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয় – ঘ) লাল মাটি।

8। রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে যে প্রকার মাটি দেখা যায়, সেটি হল –
ক) পলিমাটি খ) লালমাটি গ) মরুমাটি ঘ) ল্যাটেরাইট মাটি

উত্তর- রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে যে প্রকার মাটি দেখা যায়, সেটি হল – গ) মরুমাটি।

9। কৃষ্ণ মৃত্তিকা দেখা যায় –
ক) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে খ) বদ্বীপ অঞ্চলে গ) সমভূমি অঞ্চলে ঘ) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে

উত্তর- কৃষ্ণ মৃত্তিকা দেখা যায় – ক) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে।

10। মরু অঞ্চলের শুষ্ক ও শুষ্কপ্রায় মৃত্তিকাকে বলে –
ক) চারনোজেম খ) পডসল গ) সিরোজেম ঘ) ল্যাটেরাইট

উত্তর- মরু অঞ্চলের শুষ্ক ও শুষ্কপ্রায় মৃত্তিকাকে বলে – গ) সিরোজেম।

আরো পড় → বিকল্প চিন্তা উদ্যোগ – প্রশ্ন উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। ল্যাটেরাইট মাটিতে কোন খনিজ বেশি থাকে?
উত্তর- ল্যাটেরাইট মাটিতে লোহা বেশি থাকে।

2। পার্বত্য অঞ্চলের মাটি কি নামে পরিচিত?
উত্তর- পার্বত্য অঞ্চলের মাটি পডসল নামে পরিচিত।

3। হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের পলি, বালি, নুড়ি, কাকর পূর্ণ মাটির নাম কি?
উত্তর- হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের পলি, বালি, নুড়ি, কাকর পূর্ণ মাটির নাম হল

4। কৃষ্ণ মৃত্তিকার অপর নাম কি?
উত্তর- কৃষ্ণ মৃত্তিকার অন্য নাম রেগুর।

5। ভারতের মাটি ক্ষয়ের একটি মনুষ্যকৃত কারণ লেখ।
উত্তর- ভারতের মাটি ক্ষয়ের একটি মনুষ্যকৃত কারণ হল ত্রুটিপূর্ণ বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ।

আরো পড় → ভারতের জলবায়ু অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। পডসল মৃত্তিকা কাকে বলে?
উত্তর- পডসল শব্দটি হল রুশ শব্দ। এর অর্থ হল ধূসর। উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে সরলবর্গীয় বনভূমির লতাপাতা,কান্ড,ফুল, ফল প্রভৃতি প্রতিনিয়ত পড়ে এবং জমা হয়ে এক ধরনের ধূসর রঙের অম্ল প্রকৃতির জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ যে অনুর্বর মাটির সৃষ্টি হয়,তাকে পডসল মৃত্তিকা বলে। উদাহরণ- পশ্চিম হিমালয় ও নীলগিরি পর্বত।

2। ভুর ও রেগুর কী?
উত্তর- ভুর-উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমির নিম্ন অঞ্চলে বালি মিশ্রিত অতি সুক্ষ মৃত্তিকা দিয়ে গঠিত ঢেউখেলানো উচ্চভুমি দেখা যায়। এই ধরনের মৃত্তিকা ভুর নামে পরিচিত। উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পশ্চিমের দোয়াব অংশে এই মৃত্তিকা দেখা যায়।
রেগুর-দাক্ষিণাত্য মাল্ভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশে লাভা গঠিত মালভূমির ব্যসল্ট শিলা থেকে উৎপন্ন যে অতি উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা দেখা যায়, তাকে রেগুর বলে। তেলেগু শব্দ ‘রেগাড়া’ থেকে এই নামের উৎপত্তি। এই মাটিতে কারপাস চাষ বেশী হয়।

3। সমোন্নতিরেখা চাষ কীভাবে মৃত্তিকাক্ষয় রোধ করে?
উত্তর- সমোন্নতি রেখা (আল বা নালার মাধ্যমে) বরাবর ঢালু পার্বত্য অঞ্চলে চাষ করার ফলে বৃষ্টির জল আলে বাধা পায় এবং মৃত্তিকার মধ্যে তা প্রবেশ করে এছাড়াও অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে অতিরিক্ত জল নালার দ্বারা বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় যাতে মৃত্তিকা ক্ষয় না করে তাই মৃত্তিকা ক্ষয়ের রোধের অন্যতম উপায় হিসাবে ধরা হয় এই সমন্নোতিরেখা বরাবর চাষকে।

4। পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর হয় কেন?
উত্তর- পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় কারণগুলি হল–
ক) পলিমাটিতে প্রতিবছর নতুন করে পলি সঞ্চিত হয় ,
খ) এই মাটিতে কোথাও কাদার ভাগ বেশী আবার কোথাও কাদার ভাগ বেশী থাকে,
গ) এই মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণে জৈব পদার্থ, ফসফরাসও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশী থাকায় এই মাটি উর্বর।

5। শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা কাকে বলে?
উত্তর- লবণের পরিমাণ বেশী হওয়ায় যে সমস্ত মৃত্তিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ জল থাকা সত্ত্বেও তা উদ্ভিদ গ্রহনে বাধা পায় সেই সমস্ত মৃত্তিকাকে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলে।
উদাহরন- সুন্দরবনের লবণাক্ত মৃত্তিকা।
বৈশিষ্ট্য-
ক) অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতি।
খ) এই মৃত্তিকায় অক্সিজেনের পরিমান কম থাকে।

আরো পড় → সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

1। ভারতের কোথায় কোথায় ঝুমচাষ করা হয় এবং কীভাবে করা হয়?
উত্তর- উত্তর -পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ,মিজোরাম, ত্রিপুরা,মেঘালয়, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি রাজ্যে ঝুম চাষ করা হয়ে থাকে।
ঝুমচাষ একটি স্থান পরিবর্তনশীল কৃষি। পাহাড়ি উপজাতির লোকেরা শীতকালে বা গ্রীষ্মকালে পাহাড়ি অরণ্যভূমি কেটে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গাছের ছাই মাটিতে মিশে মাটিকে উর্বর করে তোলে। বর্ষাকালে ঐ মাটিতে ধান, ভুট্টা, আখ,তুলো প্রভৃতি ফসল চাষ করা হয়। এইভাবে একস্থানে তিন- চার বছর চাষ হয়ে গেলে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে এবং তার আবার নতুন অরণ্যভূমিতে চলে যায় একইভাবে চাস-আবাদের জন্য।

2। কৃষির ওপর রেগুর মৃত্তিকার প্রভাব কীরূপ?
উত্তর- তেলেগু শব্দ ‘রেগাড়া’ থেকে এই রেগুড় শব্দের উৎপত্তি। রেগুড় হল কৃষ্ণ মৃত্তিকার ওপর নাম। এই মাটিতে চুন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশ যথেস্ট পরিমাণে থাকায় এই মাটি খুব উর্বর হয় এবং মাটির কণা সূক্ষ্ম হওয়ায় মাটির জল্ধারণ ক্ষমতা বেশী হয়। এই কারণবশত এই মাটিতে চাস-আবাদ খুব ভালো হয়। বিশেষ করে তুলো এই মাটিতে খুব ভালো হয়। এছাড়া আখ, চিনাবাদাম, তিসি ,তামাক, পিঁয়াজ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। রেগুর মৃত্তিকার কারণেই দাক্ষিণাত্য মালভূমি ভারতের এক অন্যতম কৃষিক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

3। ঢীকা লেখো মৃত্তিকা সংরক্ষণ।
উত্তর- বৃষ্টির জলে বা অনিয়ন্ত্রিত চাষবাসের ফলে যাতে মৃত্তিকা ক্ষয় না হয় তার জন্য কতকগুলি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় যার মাধ্যমে মৃত্তিকা সংরক্ষণ হয় ও ভূমিক্ষয় নিবারিত হয়। সেগুলি হল-
ক) ব্যপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা।
খ) শস্যবর্তন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ।
গ) নিয়ন্ত্রিতভাবে পশুচারণ করা।
ঘ) ঝুম চাষ নিয়ন্ত্রণ করা ও বিজ্ঞাসম্মতভাবে চাষ আবাদ করা।
ঙ) পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলে ভূমির ঢাল অনুসারে চাষ করা।
চ) পতিত বা উন্মুক্ত জমিকে চাষের উপযোগী করে তোলা।
ছ) সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ।

আরো পড় → My Own True Family – Question Answer

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। ভারতের পলি মৃত্তিকা বণ্টন এবং বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর- ভারতে পলি মৃত্তিকার বন্টন-
ভারতের প্রধান নদী গঙ্গা ও অসম ব্রহ্মপুত্রের নদী অববাহিকায় এই মাটির প্রধান্য সবচেয়ে বেশী। এছাড়াও ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল বরাবর এই মৃত্তিকা দেখা যায়। এবং উত্তরপ্রদেশ, বিহার,পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম সহ একাধিক রাজ্যে এই মৃত্তিকা দেখা যায়।পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চল বরাবর এই মৃত্তিকা লক্ষ্য করা যায়।
পলি মৃত্তিকা বৈশিষ্ট্য-
ক) নদীর পলি বালি সঞ্চয়ের ফলে পলি মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়।
খ) পলি মৃত্তিকা খুবই উর্বর প্রকৃতির।
গ) পলি মৃত্তিকাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় – পুরানো পলি মৃত্তিকা ও নবীন পলি মৃত্তিকা।
ঘ) পুরানো পলি মৃত্তিকাকে ভাঙ্গর বলে, এই মৃত্তিকার জল ধারণ ক্ষমতা কম এবং রঙ গাঢ় হয়ে থাকে।
ঙ)পুরানো পলি মৃত্তিকা স্থূল গ্রথনের হয়।
চ) নবীন পলি মৃত্তিকাকে খাদার বলে, প্রতি বছর পলি সঞ্চয়ের ফলে এই মৃত্তিকা খুবই উর্বর হয়। ছ) নবীন পলি মৃত্তিকার রঙ ধূসর।
জ) পলি মাটিতে ধান গম তুলা পাট আখ প্রভৃতি চাষ খুব ভালো হয়।
ঝ) এছাড়াও পলি মৃত্তিকার আর একটি ভাগ হল উপকূলের পলি মাটি।
ঞ) সামুদ্রিক পলি বালি নিয়ে এই মাটি গঠন হয়।
ট) এই মাটিতে খনিজ লবনের আধিক্য থাকায় মাঝারি উর্বরা শক্তি বেশী হয়।
ঠ) এই মাটির হালকা ধূসর রঙের হয়।
ড) নিম্ম ব-দ্বীপ অঞ্চলে এই মাটিতে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বেশী জন্মাতে দেখা যায়।

আরো পড়ুন → গোলক অধ্যায়ের গাণিতিক সমস্যার সমাধান

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner