নব নব সৃষ্টি প্রশ্ন উত্তর | Nobo Nobo Sristi Question Answer | WBBSE Class 9

nobo-nobo-sristi-answer
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় -নব নব সৃষ্টি (Nobo Nobo Sristi)

নবম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে সৈয়দ মুজতবা আলি রচিত প্রবন্ধ – নব নব সৃষ্টি থেকে প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। প্রাচীন যুগের সব ভাষাই – ক) আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ খ) পরনির্ভরশীল গ) বর্তমানে অপ্রচলিত ঘ) বহুল প্রচলিত
উত্তর – প্রাচীন যুগের সব ভাষাই ক) আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

২। রচনার ভাষা নির্ভর করে – ক) তার লেখকের মানসিকতার উপর খ) তার বিষয়বস্তুর উপর গ) রচনার সময়কালের উপর ঘ) পাঠকে০র চাহিদার উপর
উত্তর- রচনার ভাষা নির্ভর করে খ) তার বিষয়বস্তুর উপর।

৩। বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ – ক) বিদ্যমান নয় খ) অল্প পরিমাণে বিদ্যমান গ) বিদ্যমান ঘ) বহুলরূপে বিদ্যমান
উত্তর – বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ গ) বিদ্যমান।

৪। প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তার- ক) মঙ্গলকাব্যে খ) চর্যাগানে গ) পদাবলী কীর্তনে ঘ) বাউল গানে
উত্তর- প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তার – গ) পদাবলী কীর্তনে।

৫। উর্দুকে ফার্সির অনুকরণ থেকে কিঞ্চিৎ নিষ্কৃতি দিতে সক্ষম হয়েছিলেন- ক) কবি ইকবাল খ) নিদা ফজিল গ) আলি সরদার জাফরি ঘ) মির্জা গালিব
উত্তর- উর্দুকে ফার্সির অনুকরণ থেকে কিঞ্চিৎ নিষ্কৃতি দিতে সক্ষম হয়েছিলেন – ক) কবি ইকবাল।

৬। “সংস্কৃত শব্দ বাংলায় ঢুকেছে”, কারণ – ক) সংস্কৃত চর্চা এদেশে ছিল বলে খ) সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী বলে গ) বাংলায় এখনও বহু সংস্কৃত শব্দের প্রয়োগ রয়েছে, ঘ) সংস্কৃত ভাষা জানা আবশ্যক বলে
উত্তর- “সংস্কৃত শব্দ বাংলায় ঢুকেছে”, কারণ – ক) সংস্কৃত চর্চা এদেশে ছিল বলে।

৭। ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধাংশটির নাম – ক) ‘চতুরঙ্গ’ খ) ‘বত্রিশ সিংহাসন’ গ) ‘পঞ্চতঞ্চ’ ঘ) ‘চাচা কাহিনী’
উত্তর- ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধাংশটির নাম – ক) ‘চতুরঙ্গ।

৮। ‘আবেস্তা’ ভাষাটি ব্যবহার করত- ক) গ্রিকরা খ) ইহুদিরা গ) আরবদেশীয়রা ঘ) জরাথুস্ট্রিয়রা
উত্তর- ‘আবেস্তা’ ভাষাটি ব্যবহার করত – ঘ) জরাথুস্ট্রিয়রা।

৯। ‘আতর’ একটি – ক) তামিল খ) ফারসি গ) আরবি ঘ) ইংরেজি – শব্দ
উত্তর- ‘আতর’ একটি – খ) ফারসি শব্দ।

১০। এদের মধ্যে প্রাচীন যুগের ভাষা নয় – ক) গ্রিক খ) এসপেরান্তো গ) আবেস্তা ঘ) হিব্রু
উত্তর- এদের মধ্যে প্রাচীন যুগের ভাষা নয় – খ) এসপেরান্তো।
আরো পড়ো → নবম শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন – উত্তর (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

১। উর্দু সাহিত্যেরমূল সুর কোন্‌ ভাষার সঙ্গে বাঁধা?
উত্তর – উর্দু সাহিত্যেরমূল সুর ফারসি ভাষার সঙ্গে বাঁধা।

২। স্কুল-কলেজ থেকে আমরা সংস্কৃতচর্চা উঠিয়ে দিতে চাই না কেন?
উত্তর – স্কুল-কলেজ থেকে আমরা সংস্কৃতচর্চা উঠিয়ে দিতে চাই না এর প্রধান কারণ বাংলাতে এখনও আমাদের বহু সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন।

৩। বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি কী?
উত্তর – বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি পদাবলী কির্তন।

৪। “ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।” – কেন এরূপ বলেছেন লেখক?
উত্তর – কারণ বাংলা ভাষার বিবর্তন কেবল মাত্র বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,বাঙালি মুসলমানরাও এই কর্মে সমান তৎপর তাই লেখক বলেছেন, “ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না”।

৫। হিন্দি পদ্যের ওপর কোন্‌ ভাষার প্রভাব পড়েছে?
উত্তর – হিন্দি পদ্যের ওপর আরবি – ফার্সি ভাষার প্রভাব পড়েছে।

রচনাধর্মী প্রশ্ন – উত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। “সংস্কৃতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা বলাতে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।” ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ শব্দের অর্থ লেখো। সংস্কৃত কেন স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষার মর্যাদা পেতে পারে? (১+৪)
উত্তর – ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ কথার অর্থ যা নিজ দ্বারা সম্পূর্ণ বা যার নিজ ভিন্ন অন্য কারুর সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলি তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধাংশে সংস্কৃত ভাষাকে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর কারণ কোনো নূতন চিন্তা, অনুভুতি কিংবা বস্তুর জন্য নবীন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ভাষা অন্য কোন ভাষা থেকে শব্দ ধার না করে নিজ শব্দ ভাণ্ডার থেকে নতুন শব্দের অনুসন্ধান করে। কোনো ধাতু বা শব্দের সামান্য অদল বদল করে বা পুরানো ধাতু দিয়ে নবীন শব্দের সৃষ্টি করে। সংস্কৃত ভাষাতেও বিদেশী শব্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু তা এতই যতসামান্য যে তা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। তাই লেখকের মতে সংস্কৃত ভাষা স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষার মর্যাদা পেতে পারে।

২। “নূতন আমদানিও বন্ধ করা যাবে না।” – ‘নূতন আমদানি’র কোন্‌ কোন্‌ প্রসঙ্গ এক্ষেত্রে এনেছেন লেখক? ভাষার ক্ষেত্রে ‘নূতন আমদানি’ বন্ধ করা যাবে না কেন? (২+৩)
উত্তর – প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলি বাংলা ভাষায় বিদেশী ভাষায় ব্যবহার প্রসঙ্গে ‘নূতন আমদানি বন্ধ করা যাবে না’ উক্তিটি করেছেন। তাঁর মতে প্রাচীন যুগের সকল ভাষাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, প্রাচীন ভাষার ক্ষেত্রে নূতন কোনো চিন্তা, অনুভুতি কিংবা বস্তুর জন্য নবীন শব্দের প্রয়োজন হলে তা নিজ শব্দভাণ্ডারের পরিবর্তিত রূপ হিসাবে ব্যবহার হত। কিন্তু বাংলা বা ইংরেজি ভাষার মত অপেক্ষাকৃত নতুন ভাষার ক্ষেত্রে বিদেশী শব্দের প্রভাব বা ‘নূতন আমদানি’ যথেষ্ট বেশি।

ইংরেজি বা বাংলার মত নবীন ভাষার ক্ষেত্রে বিদেশী শব্দের প্রভাব বা প্রাবন্ধিকের ভাষায় ‘নূতন আমদানি’ বন্ধ করা অসম্ভব। কারণ প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে আমরা বিদেশী ভাষা থেকে শব্দবন্ধ আমাদের নিজেদের ভাষায় নিয়ে এসেছি, যেমন আইন – আদালত এই বহুল প্রচলিত শব্দগুলি আরবি শব্দভান্ডার থেকে এসেছে, তেমনই আতর (সুগন্ধি) শব্দটি এসেছে ফার্সি শব্দভাণ্ডার থেকে। তাই এই ধরণের শব্দগুলি আমাদের ভাষার মধ্যে মিশে গেছে, যা আজ আলাদা করা একপ্রকার অসম্ভব। আবার শিক্ষার মাধ্যমরূপে ইংরেজিকে বর্জন করে বাংলাকে গ্রহণ করার পরে বাংলা ভাষায় আরো বেশি ইউরোপীয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাবে। অপরদিকে আগামীদিনে প্রয়োজনের তাদিগে বিদেশী দ্রব্যের ব্যবহারের মাধ্যে দিয়ে (যেমন বিদেশী ওষুধ) নতুন শব্দ ‘আমদানী’ হবে।

৩। “বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান।” – এ প্রসঙ্গে তোমার মত উপযুক্ত উদাহরণসহ প্রতিষ্ঠা করো।
উত্তর – প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলি বলেছেন, বাঙালি জাতির চরিত্রে বিদ্রোহ বর্তমান। বাঙালিরা যখন রাজনীতি, ধর্ম বা সাহিত্যে কোন নতুনত্বের স্বাদ পেয়েছে, সংকীর্ণতার ভুলে তা গ্রহণ করেছে, কিন্তু আবার যদি প্রাচীনত্বের দোহাই দিয়ে কিছু চাপিয়ে দিতে চেয়েছে তখন মাথা তুলে তার প্রতিবাদ করেছে। আবার যখন সেই বিদ্রোহ উশৃঙ্খলতায় পরিণত হতে চেয়েছে, তখন তার বিরুদ্ধে আবার বিদ্রোহ করেছে। প্রাবন্ধিকের এই মতামতের জলন্ত সাক্ষী একাত্তরের ভাষা আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের উপর জোর করে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চাইলে বাঙালিরা একজোট হয়ে আন্দোলন শুরু করে এবং এর ফলস্বরূপ বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়।

৪। ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে বাংলা সাহিত্যে বিদেশি শব্দ ব্যবহারের যে সকল দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায় তা উল্লেখ করো।
উত্তর – ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে, প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলি বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিদেশী শব্দের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষায় প্রয়োজনে এবং অপ্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন বিদেশী শব্দ নেওয়া হয়েছে, যেমন পাঠান – মোগল যুগে তাদের ব্যবহৃত ভাষা আরবি ও ফার্সি থেকে বিভিন্ন শব্দ যেমন আইন – আদালত, খাজনা – খারিজ শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যে আব্রু, ইজ্জত, শহিদ, ইনকিলাবের মত বিদেশী শব্দ স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের লেখায়। বিদ্যাসাগর মহাশয় তাঁর ‘সাধু’ রচনায় বিদেশী শব্দ ব্যবহার না করলেও, তাঁর রচিত বেনামী রচনায় আরবি এবং ফার্সি শব্দের ব্যাপক ব্যবহার করেছেন। এমনকি অতিশয় নিষ্ঠাবান হরপ্রসাদ-ও বাংলা ভাষায় আরবি এবং ফার্সি শব্দের ব্যবহারের বিরোধী ছিলেন না।

৫। ‘বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তার পদাবলি কীর্তনে।’ – এই মন্তব্যের সপক্ষে লেখকের বক্তব্য লেখো।
প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলি, তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি পদাবলী কীর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পদাবলী কীর্তনের প্রাণ ও দেহ উভয়ই খাঁটি বাঙালি। সংস্কৃত সাহিত্য মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘শ্রীকৃষ্ণ’ পদাবলীতে ‘কানু’ রূপে বর্ণিত হয়েছেন। আবার শ্রীরাধাও যে খাঁটি বাঙালি একটি মেয়ে তাও সহজেই অনুমেয়। এমনকি বাংলার ভাটিয়ালি গানের নায়িকা, বাউলের ভক্ত, মুরশিদিয়ার আসিক এবং পদাবলীর শ্রীরাধা একই রূপে প্রকাশ পেয়েছেন। তাই প্রাবন্ধিক পদাবলি কীর্তনকে সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টির আখ্যা দিয়েছেন।


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner