পশ্চিমবঙ্গ – প্রশ্ন উত্তর | Poscimbongo – Question Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর ↓

WBP-CT-Banner_offer
poscimbongo-QA
শ্রেণি – নবম | বিভাগ – ভূগোল | অধ্যায় – পশ্চিমবঙ্গ | Poscimbongo (Chapter 8)

এই পর্বে রইল নবম শ্রেণির ভূগোল বিভাগের অষ্টম অধ্যায় – থেকে পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

1। উত্তরবঙ্গের নদীগুলির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল-
a) নদীগুলি খরস্রোতা নয় b) বরফগলা জলে পুষ্ট
c) নদীগুলির অসংখ্য শাখানদী আছে। d) অধিকাংশ নদী পশ্চিমবাহিনী

উত্তর- উত্তরবঙ্গের নদীগুলির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- b) বরফগলা জলে পুষ্ট।

2। ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো –
a) দামোদর নদ – পশ্চিমের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল
b) কালিম্পং জেলা – সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থান
c) পডসল মৃত্তিকা – পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল
d) অ্যালপাইন উদ্ভিদ – সুন্দরবন অঞ্চল

উত্তর- b) কালিম্পং জেলা – সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থান।

3। ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো-
a) তিস্তা নদী- জোয়ারের জলে পুষ্ট b) দার্জিলিং জেলা – দৈনিক উষ্ণতার প্রসর বেশি c) মালভূমির ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা – জলধারণ ক্ষমতা কম d) পাইন – ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ

উত্তর- c) মালভূমির ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা – জলধারণ ক্ষমতা কম।

4। গঙ্গা মুর্শিদাবাদের কোন অংশে দুটি ভাগে ভাগ হয়েছে?
a) ভগবানগোলা b) ভগবানপুর c) ভগবাননগর d) কোনটিই নয়

উত্তর – গঙ্গা মুর্শিদাবাদের a) ভগবানগোলা অংশে দুটি ভাগে ভাগ হয়েছে।

5। পশ্চিমবঙ্গ কয়টি প্রতিবেশী রাজ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত?
a) 4টি b) 6টি c) 7টি d) 5টি

উত্তর – পশ্চিমবঙ্গ d) 5টি প্রতিবেশী রাজ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত।

আরো পড়ো → বিশ শতকে ইউরোপ অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ২]

1। কি কারণে কালবৈশাখী হয়?
উত্তর- এপ্রিল মে মাস নাগাদ, পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞ্চলে কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। সাগরের আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত পূবালী বাতাস এবং স্থলভাগের বাতাস একসঙ্গে হলে তা বজ্রমেঘের সৃষ্টি করে, পরে তা চাপ আকারে নীচে নেমে আসে এবং প্রচণ্ড বজ্রমেঘের সৃষ্টি করে।

2। তাল অঞ্চল কাকে বল?
উত্তর- কালিন্দী নদীর পূর্বদিকে অবস্থিত কোচবিহার জেলার দক্ষিণতম অংশ এবং সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তাল সমভূমি নামে পরিচিত। ভূপ্রকৃতিগতভাবে এই অঞ্চলটি নিম্নভূমি ও পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলে অসংখ্য জলভূমি রয়েছে। ফলে বর্ষাকালে তাল অঞ্চলটি প্লাবিত হয়।

3। ডুংরি কি?
উত্তর- পুরুলিয়া, বাঁকুড়া অঞ্চলে মালভূমির ক্ষয়প্রাপ্ত ছোট ছোট টিলা বা পাহাড়গুলি স্থানীয় ভাষায় ডুংরি নামে পরিচিত। অযোধ্যা পাহাড়তলির কাছে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে বেশ কিছু ডুংরি। এরমধ্যে বিখ্যাত হল ভালিডুংরি।

আরো পড়ো → রাধারানী গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর

সংক্ষিপ্ত ব্যাখামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

1। পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ উদ্ভিদ পর্ণমোচী কেন?
উত্তর- পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি প্রকৃতির হওয়ায় ঋতু পরিবর্তন ঘটে। এই ঋতু পরিবর্তন পর্ণমোচী প্রজাতির উদ্ভিত জন্মানোর মূল কারণ। বছরে আর্দ্র ও উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও শীতল শীতকাল হয়ে থাকে। এছাড়াও এই দুটি ঋতুর মধ্যবর্তী সময়ে বসন্ত ঋতু এবং হেমন্ত ঋতুর আগমন ঘটে এবং এই নির্দিষ্ট দুটি ঋতুতেই পার্বত্য ও সমভূমি অঞ্চলের বেশ কিছু প্রজাতির গাছের পাতা ঝরে যায়। এইধরণের স্বাভাবিক উদ্ভিদের প্রজাতির শিতকালের পূর্বে ও গ্রীষ্মের আগমনের পূর্বে নিয়ম করে গাছের পাতা ঝরে যায় তাই এই প্রজাতির নাম পর্ণমোচী উদ্ভিদ। যে তিন ধরণের পর্ণমোচী উদ্ভিত দেখা যায়, সেগুলি হল –
শাল, সেগুন, ওক, বারচ, ম্যাপল প্রভৃতি পূর্ব হিমালয়ে দেখা যায়।
শাল, শিমূল, মহুয়া, পলাশ, আমলকী প্রভৃতি মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।
আম, জাম, কাঁঠাল প্রভৃতি সমভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।

2। পশ্চিমবঙ্গের শীতকাল শুষ্ক কেন?
উত্তর- পশ্চিমবঙ্গে শীতকালে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয়না। শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়ন হওয়ায় ফলে উত্তর ও উত্তর পূর্ব ভারতে তাপমাত্রা কম থাকে। ফলে এসময় স্থল্ভাগে উচ্চচাপ এবং দক্ষিণে সমুদ্রের দিকে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। একারনে স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বাতাস প্রবাহিত হয়, যা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু নামে পরিচিত। এই বায়ু সম্পূর্ণ শুষ্ক এবং জলীয় বাষ্পবিহীন হয়ে থাকে, পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এই বায়ু প্রবাহিত হয় ফলে পশ্চিমবঙ্গে শীতকাল শুষ্ক থাকে।

3। ‘পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী’ – ভৌগলিক কারণ ব্যখ্যা করো।
উত্তর- পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী হয়েছে। মালভূমি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদীগুলি প্রবদিকে সমভূমিতে কম উচ্চতার দিকে প্রবাহিত হয়েছে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের দিকে পতিত হয়েছে। ভূপ্রাকৃতিকভাবে ভূমির ঢাল এবং মালভূমি অঞ্চল থেকে সমভূমি অঞ্চলের দিকে ভূমির ঢাল কম হওয়ায় মালভূমি অঞ্চলের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী।

4। জঙ্গলমহল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝারগ্রাম ও ছোটনাগপুর মালভূমির বন, পর্বত ও অরন্যময় অংশটির নাম হল জঙ্গলমহল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চল ব্রিটিশ শাসনাধীনে আসার পর এই নাম চালু হয়। ব্রিটিশ শাসনকালে এই জঙ্গল ‘তরাই’ নামে পরিচিত ছিল অঞ্চল। এই এলাকাটি ঘন জঙ্গল এবং সাঁওতাল ও ভূমিজদের বসবাস রয়েছে।

5। ‘সুন্দরবন অঞ্চলে এখনও বদ্বীপ গঠনের কাজ চলছে’ – ভৌগলিক কারণ ব্যখ্যা করো।
উত্তর- সমগ্র সুন্দরবন অঞ্চলটি সুদীর্ঘকাল ধরে বঙ্গোপসাগরের মোহনা অঞ্চলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলিত পলি সঞ্চয়কাজের ফলে গঠিত হয়েছে। ভূমিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনে এখনও বদ্বীপ গঠনের কাজ চলছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণ পূর্ব ভাগ ও বাংলাদেশের খুলনা জেলার দক্ষিণ ভাগ এই সক্রিয় বদ্বীপ গঠনের অংশ। এই অংশে ক্রমাগত নদীর পলি সঞ্চয় কাজ চলছে বলে অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপের বিকাশ ঘটেছে। এই সক্রিয় দ্বীপগুলির কিছু কিছু অংশে বসতি গড়ে উঠেছে।
সুন্দরবন অঞ্চলের লবনাক্ত মাটির বেশিরভাগ উৎস আসে নদী থেকে আসা পলি সঞ্চয় থেকে। এখানকার মাটি পলিযুক্ত দোআঁশ ধরণের।
দিঘা-কাথি উপকুলের নিকটে নদীবাহিত পলির পরিমাণ কম এবং সমুদ্র উপকূলের জোয়ারের ফলে লবণাক্ত জল থেকে আসা বালি সঞ্চিত হয়ে এখানকার মাটি গঠিত হয়েছে।

আরো পড়ো → Tom Loses a Tooth Question Answer

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

1। হাওড়াকে ভারতের গ্লাসগো বলা হয় কেন? GTA চুক্তি কি?
উত্তর- কলকাতা শহরের বিপরীতে ভাগীরথী হুগলী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হল হাওড়া। হুগলী শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত এই শিল্প শহরটিতে পাট, ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্ত্রবয়ন, কার্পাস শিল্প প্রভৃতি নানাধরণের শিল্প ও উৎপাদনের জন্য কারখানা গড়ে উঠেছে। এরূপই, ইংল্যান্ডের গ্লাসগো শহরটি একটি বহু চর্চিত শিল্পকেন্দ্র। এখানে অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প রয়েছে, তাই ইংল্যান্ডের এই শহরের সাথে তুলনা করেই হাওড়া শহরকে ভারতের গ্লাসগো বলা হয়।
GTA চুক্তি- গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন বা GTA হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের আধা-স্বশাসিত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। 1988 সালে GTA চুক্তি স্থাপিত হয়। GTA এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দার্জিলিং জেলার তিনটি মহকুমা যথা – দার্জিলিং সদর, কালিম্পং ও কারশিয়াং এবং শিলিগুড়ির অংশবিশেষ।

2। ‘পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির’ – এই বক্তব্যটির সত্যতা বিচার করো।
উত্তর- পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। শীতকালের কয়েকটি মাস এবং উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া প্রায় সারাবছরই উষ্ণতা বেশি থাকায় জলবায়ু উষ্ণ প্রকৃতির। রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাঝারি থেকে বেশি হওয়ায়, জলবায়ু আর্দ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা প্রসারিত হয়েছে, ফলে এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় প্রকৃতির। মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দ্বারা আবহাওয়ার উপাদানগুলি সর্বাধিক প্রভাবিত হওয়ায় জলবায়ু মৌসুমি প্রকৃতির।
পশ্চিমবঙ্গের ঋতু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বায়ুপ্রবাহ ও উষ্ণতার পরিবর্তন মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের 90% মৌসুমি বায়ুর দ্বারা ঘটে।
রাজ্যে ঋতুগত বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। একারণে গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক।
রাজ্যের সর্বত্র সম পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়না, ফলে কোথাও উষ্ণতার স্বাভাবিক প্রসার বেশি, কোথাও কম হয়ে থাকে। এরূপ উষ্ণতার বণ্টন ক্রান্তীয় জলবায়ুর ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়।

আরো পড়ো → ভারতের সম্পদ অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর

WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner