নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর | Nodir Bidroho Class 10 Question Answer | WBBSE Class 10 Bengali

মাধ্যমিকে প্রতিটি অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার সেরা উপায় ↓

WBP-CT-Banner_offer
Nodir-bidrohoj-question-answer
শ্রেণি – দশম | বিভাগ – বাংলা | অধ্যায় – নদীর বিদ্রোহ (Nodir Bidroho)

দশম শ্রেণির বাংলা বিভাগ থেকে শ্রী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ ছোটগল্প থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘আমি চললাম হে!’ – কথাগুলি বলেছিল – (ক) নূতন সহকারী (খ) নদের চাঁদ (গ) নিমাইচাঁদ (ঘ) বলাইচাঁদ
উত্তর- ‘আমি চললাম হে!’ – কথাগুলি বলেছিল (খ) নদের চাঁদ।

২। নদেরচাঁদ ‘রওনা করাইয়া’ দেয় – (ক) চারটা চল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন (খ) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন (গ) সাড়ে পাঁচটার মেইল ট্রেন (ঘ) চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন
উত্তর- নদেরচাঁদ ‘রওনা করাইয়া’ দেয় – (ঘ) চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন ।

৩। নদেরচাঁদ কতটা রাস্তা নদীর উপরকার ব্রিজ ধরে হাঁটতে লাগল – (ক) দুই মেইল (খ) চার মাইল (গ) এক মাইল (ঘ) তিন মাইল
উত্তর- নদেরচাঁদ (গ) এক মাইল রাস্তা নদীর উপরকার ব্রিজ ধরে হাঁটতে লাগল।

৪। স্টেশন থেকে নদীর দূরত্ব ছিল – (ক) আধ মাইল (খ) এক মাইল (গ) দু-মাইল (ঘ) তিন মাইল
উত্তর- স্টেশন থেকে নদীর দূরত্ব ছিল – (খ) এক মাইল।

৫। “আজ এই বিকালের দিকে বর্ষণ থামিয়াছে।” – কতদিন পরে? (ক) চারদিন (খ) পাঁচদিন (গ) ছয়দিন (ঘ) সাতদিন
উত্তর- “আজ এই বিকালের দিকে বর্ষণ থামিয়াছে।” – (খ) পাঁচদিন।

৬। নদেরচাঁদ নদীকে দেখেনি – (ক) চারদিন (খ) পাঁচদিন (গ) ছয়দিন (ঘ) সাতদিন
উত্তর- নদেরচাঁদ নদীকে দেখেনি – (খ) পাঁচদিন।

৭। ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল – (ক) দু-দিন (খ) তিনদিন (গ) পাঁচদিন (ঘ) সাতদিন
উত্তর- ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল – (গ) পাঁচদিন।

৮। নদেরচাঁদ কাকে কেবল বোঝাতে পারে না? (ক) অন্যকে (খ) নিজেকে (গ) বড়োদের (ঘ) ছোটোদের
উত্তর- নদেরচাঁদ (খ) নিজেকে কেবল বোঝাতে পারে না।

৯। নদেরচাঁদের বয়স – (ক) পঁচিশ বছর (খ) ত্রিশ বছর (গ) পঁয়ত্রিশ বছর (ঘ) চল্লিশ বছর (মাধ্যমিক ২০)
উত্তর- নদেরচাঁদের বয়স (খ) ত্রিশ বছর ।

১০। নদেরচাঁদ ছিলেন – (ক) পোষ্টমাস্টার (খ) হেডমাস্টার (গ) স্টেশনমাস্টার (ঘ) রেলমাস্টার
উত্তর- নদেরচাঁদ ছিলেন – (গ) স্টেশনমাস্টার।


নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর ↓


১১। নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল – (ক) ভরা যৌবনা (খ) নৃত্যচঞ্চলা (গ) উচ্ছৃসিত বেগবতী (ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব
উত্তর- নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল – (ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব।

১২। ‘দেখিয়া সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল;’ – কী দেখে কাঁদছিল ? (ক) নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা দেখে (খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া দেখে (গ) নদীর চাঞ্চল্য দেখে (ঘ) নদীর নির্জীব অবস্থা দেখে
উত্তর- ‘দেখিয়া সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল;’ -(খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া দেখে দেখে কাঁদছিল।

১৩। পাঁচদিন আগে নদেরচাঁদের দেখা নদীটির মধ্যে চাঞ্চল্য ছিল। তাতে প্রকাশ পেয়েছিল – (ক) বেদনা (খ) ক্রোধ (গ) প্রবলতা (ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ
উত্তর- পাঁচদিন আগে নদেরচাঁদের দেখা নদীটির মধ্যে চাঞ্চল্য ছিল। তাতে প্রকাশ পেয়েছিল -(ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ ।

১৪। নদেরচাঁদ কর্মেস্থলের কাছের নদীটিকে কত বছর চেনে? (ক) তিন বছর (খ) চার বছর (গ) পাঁচ বছর (ঘ) ছয় বছর
উত্তর- নদেরচাঁদ কর্মেস্থলের কাছের নদীটিকে (খ) চার বছর ধরে চেনে।

১৫। বউকে পাঁচ পাতার চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের সময় লেগেছিল – (ক) পাঁচদিন (খ) সাতদিন (গ) একদিন (ঘ) দু-দিন
উত্তর- বউকে পাঁচ পাতার চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের সময় লেগেছিল (ঘ) দু-দিন।


আরো পড়ো → আয়নীয় বন্ধন ও সমযোজী বন্ধন অধ্যায়ের প্রশ্ন – উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। “আমি চললাম হে!” -বক্তা কখন কথাগুলি বলেছে?
উত্তর- চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করে দেওয়ার পর নদেরচাঁদ তার সকারীকে কথাগুলি বলেছে।

২। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী? (মাধ্যমিক ১৯)
উত্তর- সাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়।

৩। বৃষ্টির জন্য নদেরচাঁদ কতদিন নদীকে দেখেনি?
উত্তর- বৃষ্টির জন্য নদেরচাঁদ পাঁচদিন নদীকে দেখেনি।

৪। ‘রেলের উঁচু বাঁধ ধরিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে’ – নদেরচাঁদ কী ভেবেছিল?
উত্তর- রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদেরচাঁদ নদীর বর্ষণ -পুষ্ট মূর্তিটি কল্পনা করার চেষ্টা করছিল।

৫। ‘নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না।’ – নিজেকে কী বোঝাতে পারে না নদেরচাঁদ?
উত্তর- নদেরচাঁদ একজন স্টেশনমাস্টার, দিনরাত্রি মেল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন আর মাল গাড়িগুলি নিয়ন্ত্রণ করাই তার কাজ। তাই নদীর জন্য এভাবে পাগলের মতো ঔৎসুক্য বোধ করা তার সাজে না।

৬। ‘নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে” – কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর- ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদের কথা আলোচ্যাংশে বলা হয়েছে।

৭। “নদেরচাঁদ সব বোঝে,” – নদেরচাঁদ কী বোঝে? (মাধ্যমিক ১৮)
উত্তর- নদেরচাঁদের মধ্যে নদীর প্রতি এক অস্বাভাবিক ভালোবাসা, এক অদম্য পাগলামি বর্তমান। নদেরচাঁদের মতো স্টেশনমাস্টার, যার তত্ত্বাবধানে একটি রেলস্টেশনে অসংখ্য ট্রেনের গতাগতি নির্ভরশীল তার ক্ষেত্রে এমন পাগলামি সততই বেমানান। এ কথাই সে বোঝে।

৮। ‘যেন আনন্দই উপভোগ করে।’ -কে, কীসে আনন্দ উপভোগ করে?
উত্তর- ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ নদীর প্রতি তার অন্তরের আকর্ষণ হেতু সৃষ্ট উন্মত্ততায় আনন্দ উপভোগ করে।

৯। নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কীরূপ ছিল?
উত্তর- নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।

১০। ‘নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।’ – স্তম্ভিত হল কেন?
উত্তর- নদেরচাঁদের স্তম্ভিত হওয়ার কারণ হল – পাঁচদিন আগে যে নদী ঘোলা জলে চঞ্চল ছিল আজ সেই নদী যেন পাগল হয়ে উঠেছে। তার চারিদিক গাঢ়তর ঘোলা জল এবং ফেনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে।


আরো পড়ো → ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায়ের প্রশ্ন – উত্তর আলোচনা

১১। ‘কিন্তু সে চাঞ্চল্য যেন ছিল পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ।’ – কোন পরিপূর্ণতার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর- পাঁচদিন আগে বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদী পঙ্কিল জলস্রোতে চাঞ্চল্য সৃষ্ট করে যেভাবে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এখানে সেই পরিপূর্ণতার কথাই বলা হয়েছে।

১২। “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।” – কে, কোথায় গিয়ে বসল?
উত্তর- মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র নদেরচাঁদ নদীর উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভের উপর গিয়ে বসেছিল।

১৩। “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।” – আজও বলার কারণ কী?
উত্তর- আজও বলার কারণ হল সে অর্থাৎ নদেরচাঁদ প্রতিদিনের মতো সেদিনও ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে গিয়ে বসেছিল।

১৪। “এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল।” – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীসের পাতা জলে ফেলতে লাগল? (মাধ্যমিক ১৭)
উত্তর- ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ স্ত্রীকে বিরহবেদনাপূর্ণ যে পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী চিঠি লিখেছিল তা তার পকেটে ছিল। যে সেটারই এক-একটি পৃষ্ঠা জলে ফেলছিল।

১৫। ‘এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’ কার প্রতি এই গর্ব?
উত্তর- নদীর উপকার রং করা ব্রিজটির প্রতি এই গর্ব।


২০২৩ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আপডেট

Buy Now – মাধ্যমিক ২০২৩ চ্যাপ্টার টেস্ট ই-বুক সিরিজ

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। ‘নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে” – কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘পাগলামি’ -টি কি? (১+২) (মাধ্যমিক ১৯)
উত্তর – আলোচ্য অংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প ‘নদীর বিদ্রোহ’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ-এর কথা বলা হয়েছে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে বড় হয়ে ওঠা নদেরচাঁদের কাছে, নদী একটি ভালোবাসার বিষয়। ‘নদীর ধারে তাঁর জন্ম হয়েছে, নদীর ধারে সে মানুষ হয়েছে, চিরদিন নদীকে সে ভালোবেসেছে’; নদীকে না দেখে সে থাকতে পারে না। নদেরচাঁদের এখন ত্রিশ বছর বয়স, সে একটি রেল ষ্টেশনের ষ্টেশন মাস্টার। কিন্তু এখনও সে তাঁর ষ্টেশনের কাছের নদীর সাক্ষাৎ পাবার জন্য উৎসুক হয়ে থাকে। নদীর প্রতি এই অস্বাভাবিক টানকে নদেরচাঁদের পাগলামি বলে মনে হয়, কিন্তু মনের অভ্যন্তরে নদেরচাঁদ এই ছেলেমানুষি থেকে আনন্দ অনুভব করে।


আরো পড়ো – বারিমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা 

 


২। ‘এই নদীর মতো এত বড়ো ছিল না,’ – কোন নদীর কথা বলা হয়েছে? সেই নদী কেমন ছিল?
উত্তর – আলোচ্য অংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের যে গ্রামে বড় হয়ে উঠেছিল, সেই গ্রামের ছোট নদীর কথা বলা হয়েছে।

নদেরচাঁদের গ্রামের নদীটি ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট। কিন্তু কিশোর অবস্থায় নদেরচাঁদের ঐ নদীকে ছোট বলে মনে হত না, তাঁর ‘দেশের সেই ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীটি, অসুস্থ দুর্বল আত্মিয়ার মতোই’ নদেরচাঁদের ভালোবাসা – মমতা পেয়েছিল। পরে বড় হয়ে একবার যখন নদেরচাঁদ নদীটিকে ক্ষীণ- স্রোত অবস্থায় দেখেছিল, তখন পরমাত্মীয় মারা গেলে যেরকম দুঃখ হয়, সেপ্রকার দুঃখ পেয়েছিল। বলা যায় দেশের নদীর সাথে নদেরচাঁদের একপ্রকার আত্মিক সম্পর্ক হয়েছিল।

৩। “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – উদ্ধৃতাংশটিতে কার কথা হয়েছে? তার আমোদ হওয়ার কারণ কী? (১+২)
উত্তর – উদ্ধৃতাংশটিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে।

ষ্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ নদী ভালোবাসে, সে প্রতিদিন বিকালে তাঁর ষ্টেশনের পাশের নদীটিকে দেখতে যায়। পাঁচদিন টানা বৃষ্টির ফলে সঙ্কীর্ণ, ক্ষীণস্রোতা নদীর চেহারা হয়েছে ভয়ংকর। ব্রিজের মাঝে বসা নদেরচাঁদের মনে হয় ক্ষিপ্র নদী যেন ব্রিজের ধারক স্থম্ভগুলোতে বাধা পেয়ে ‘ফেনিল আবর্ত’ সৃষ্টি করছে। নদীর জল এতটা উঁচুতে উঠে এসেছে যে যেন মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। নদীর এই রূপ অবস্থা দেখে নদেরচাঁদের ভারি ‘আমোদ’ হয়।

৪। “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” – নদেরচাঁদের ভয়ের কারণ কী?
উত্তর – ‘নদীরবিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদীপ্রেমী নদেরচাঁদ প্রতিদিন বিকালে নদীর সাথে দেখা করে। পাঁচদিন টানা বৃষ্টির ফলে তাঁর পরিচিত সঙ্কীর্ণ, দুর্বল নদী পরিবর্তিত হয়েছে স্রোতস্বিনী তেজি নদীতে। নদীর এই ভয়ংকর রূপে মোহিত হয়ে রেলব্রিজের মাঝে বসে থাকে। মাঝে বৃষ্টি আসে, কিন্তু প্রকৃতি প্রেমে আচ্ছন্ন নদেরচাঁদ বসে থাকে, এমনকি সেও এও ভুলে যায় যে তাঁর থেকে মাত্র একটু নিচ দিয়েই ভয়ালবেগে বয়ে চলেছে নদী। ক্রমে দিনের আলো নিভে যায়, বৃষ্টির বেগ বৃদ্ধি পায়, আচমকা রেলের শব্দে সম্বিৎ ফিরে পায় সে। প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখে বিপদের আশঙ্কায় নদেরচাঁদের ভয় হয়।

৫। “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে? (১+২)
উত্তর – এখানে ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে।

এই ছোটগল্পে লেখক শ্রী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নদীকে প্রকৃতি অর্থে ব্যবহার করেছেন। প্রকৃতি স্বাধীন, সে কোন গণ্ডিতে বাঁধা পড়তে চায় না। গল্পে থেকে আমরা জানতে পারি যে, সঙ্কীর্ণ, ক্ষীণস্রোতা নদী মানুষের সভ্যতার বেড়া অর্থাৎ ব্রিজে বাঁধা পড়েছে। পাঁচদিন টানা বৃষ্টির ফলে নদী তার স্বাভাবিক চরিত্র ফিরে পেয়েছে, সে তখন স্রোতস্বিনী, তেজস্বিনী। নদীর এই রূপকেই গল্পের চরিত্র নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহ বলে মনে করেছে।


আরো পড়ো → বংশগতি অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দাও। (মাধ্যমিক ১৯)
উত্তর – শ্রীমানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ। নদীকে সে ভালোবাসে। নদেরচাঁদ একটি ছোট রেলষ্টেশনের ষ্টেশন মাস্টারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরী করলেও, প্রতিদিন বিকালবেলায় ছোট ছেলের মত নদীর কাছে যায়। নদীর প্রতি এই ভালোবাসা নদেরচাঁদের নতুন নয়। গল্প থেকে আমরা জানতে পারি যে, নদেরচাঁদের জন্ম যে গ্রামে সেই গ্রামের নদীকে দেখেই নদেরচাঁদ বড় হয়ে উঠেছে। নদীর সাথে তাঁর আত্মিক যোগাযোগ এতটাই যে, পরে সে যখন গ্রামের নদীর রুগ্ন অবস্থা দেখে তখন তাঁর মন ব্যাথায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। নদীর প্রতি তাঁর এই গভীর টান ছেলেমানুষি মনে হলেও, নদেরচাঁদ তা থেকে আনন্দ পায়। তাঁর ষ্টেশনের পাশের নদীটি যখন বৃষ্টির জলে পরিপূর্ণ হয়ে, ভয়ংকর রূপ নেয়, তা দেখেও নদেরচাঁদ ভয় পায় না বরং তাঁর মনে আনন্দ হয়। সে প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে, আচ্ছন্ন হয়ে বসে থাকে।

নদেরচাঁদের, নদীর প্রতি এই ও অকৃত্রিম ভালোবাসা যেন লেখকের কলমে আবন্ধ এক সহানুভূতিশীল মানবের প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধের কাহিনী হয়ে ফুটে উঠেছে।


আরো পড়ো → অদল বদল প্রশ্ন উত্তর আলোচনা

২। “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?” – কাকে রেহাই দেওয়ার কথা বলা হয়েছে? এই জিজ্ঞাসার গভীরতর অর্থটি পরিস্ফুট করো।

উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটগল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে নদীর প্রতি, গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে।

নদেরচাঁদ নদী ভালোবাসে। নদীকে দেখেই সে বড় হয়ে উঠেছে তাই একটি ষ্টেশনের ষ্টেশন মাস্টার পদে কর্মরত হয়েও নদীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ পাঁচদিন টানা বৃষ্টির পর নদেরচাঁদ নদী দর্শনে গিয়ে তাঁর প্রিয় নদীকে চিনতে পারে না। সংকীর্ণ নদী বৃষ্টিধারায় পুষ্ট হয়ে শক্তিশালী নদীতে পরিণত হয়েছে, সে যেন কোন বাঁধ মানতে চায় না। তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে আধুনিকতার প্রতীক ব্রিজকে ভেঙে দিতে চায়। মানব সৃষ্ট আধুনিকতার বেড়া জালে বন্দী থাকতে নারাজ প্রকৃতি রূপী নদীর রুদ্ররূপ দেখে নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। কিন্তু নদেরচাঁদের মনে হয়, নদীর এই বিদ্রোহ মানুষের কাছে গুরুত্ব পাবে কি? সম্ভবত না, প্রকৃতির বাঁধ ভাঙা শক্তির কাছে সাময়িক প্রতিহত হলেও, মানুষ কিছু সময় পর আবার বাঁধ দেবে, পুনরায় গড়ে তুলবে ব্রিজ। অর্থাৎ বিদ্রোহ স্থিমিত হলে নদীকে আবার মানুষের বশ মানতেই হবে। গল্পে নদেরচাঁদের ভাবনায় এই ক্ষেদ উঠে এসেছে।


WBPorashona.com-এর পোস্ট আপডেট নিয়মিত পাবার জন্য –


আমাদের কাজ থেকে উপকৃত হলে এই লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

WBP-YT-Banner